এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:সুগন্ধি চালের উৎপাদন বৃদ্ধি, সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, বাজার সংযোগ জোরদার এবং কৃষক-উদ্যোক্তাদের টেকসই ব্যবসায়িক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শালবন কমিউনিটি সেন্টারে দিনব্যাপী "সুগন্ধি চালের ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল বিজনেস প্ল্যানিং কনসালটেশন" অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)-এর কৌশলগত অংশীদার হিসেবে হর্টেক্স ফাউন্ডেশন এবং Program on Agricultural and Rural Transformation for Nutrition, Entrepreneurship and Resilience in Bangladesh (PARTNER) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের ভ্যালু চেইন প্রমোশনাল অফিসার মো. আব্দুল মান্নান অংশগ্রহণকারী কৃষক, কৃষাণী, উদ্যোক্তা ও অন্যান্য অংশীজনদের নিবন্ধন ও পরিচিতি কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরবর্তীতে PARTNER প্রকল্পের ডিএলআই-৯ বাস্তবায়নে হর্টেক্স ফাউন্ডেশনের বিভিন্ন কার্যক্রমের বিষয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন মো. মামুন হোসেন, পোস্ট হারভেস্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি অ্যাস্যুরেন্স স্পেশালিস্ট, হর্টেক্স ফাউন্ডেশন।
কর্মশালার মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি), দিনাজপুরের বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের ডীন ও মার্কেটিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জামাল উদ্দিন। তিনি সুগন্ধি চালের ভ্যালু চেইন উন্নয়ন, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা প্রণয়ন, বাজার বিশ্লেষণ, মূল্য সংযোজন, বাজার সম্প্রসারণ,ব্যবসায়িক ঝুঁকি, আর্থিক পরিকল্পনা এবং কৃষক সংগঠনের মাধ্যমে টেকসই ব্যবসা পরিচালনার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি বলেন, সুশৃঙ্খল ব্যবসায়িক পরিকল্পনা এবং বাজারমুখী উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে সুগন্ধি চাল দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে অধিক সম্ভাবনা সৃষ্টি করতে পারে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আফজাল হোসেন, উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই), দিনাজপুর বলেন, কৃষকদের শুধু উৎপাদনে সীমাবদ্ধ না থেকে উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। তিনি বাজারভিত্তিক উৎপাদন পরিকল্পনা, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং সরকারি সেবার কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও সুগন্ধি চালের বাজার সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি আরও বলেন, সংগঠিত উদ্যোগ এবং শক্তিশালী ভ্যালু চেইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মো: শরিফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি অফিসার, বীরগঞ্জ, দিনাজপুর। সভাপতির বক্তব্যে তিনি কৃষি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে সুগন্ধি চালভিত্তিক ব্যবসার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই কৃষি ব্যবসা সম্প্রসারণে সকলকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন PARTNER প্রোগ্রাম, দিনাজপুরের টেকসই কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আবু রেজা আসাদুজ্জামান, সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান এবং বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি), দিনাজপুরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সৈয়দ জাহিদ হাসান। এছাড়াও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, কৃষি উদ্যোক্তা, কৃষক ও কৃষাণীগণ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে অংশগ্রহণকারী কৃষকদের পাঁচটি দলে বিভক্ত করে ব্যবহারিক বিজনেস প্ল্যানিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দলগুলো ওয়ান স্টপ ফার্মার সেন্টার ও প্যাকহাউজ ব্যবস্থাপনা, বাজার প্রবাহ বিশ্লেষণ, দৈনন্দিন কার্যক্রম ও দায়িত্ব বণ্টন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক পরিকল্পনা ও লাভ বণ্টন কাঠামো বিষয়ে কাজ করে। দলভিত্তিক উপস্থাপনার মাধ্যমে আগামী এক বছরের সুগন্ধি চাল ভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়।
সমাপনী অধিবেশনে সভাপতির বক্তব্যে বীরগঞ্জ উপজেল কৃষি কর্মকর্তা বাজারমুখী উৎপাদন, মানসম্পন্ন পণ্য সরবরাহ এবং সমন্বিত ভ্যালু চেইন ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে লাভজনক কৃষি ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় কৃষক, কৃষাণী, উদ্যোক্তা, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও কৃষি বিপণন বিশেষজ্ঞসহ প্রায় শতাধিক অংশীজন অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ উদ্যোগ সুগন্ধি চালের ভ্যালু চেইন উন্নয়ন এবং কৃষক পর্যায়ে টেকসই ব্যবসায়িক উদ্যোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।





















