ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত ঈদুল আজহা-পশু কোরবানির পাশাপাশি বর্জ্য অপসারণ ও মানবিক সমাজ গড়ার আহ্বান

ইসলাম ও জীবন
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

ইসলামিক নিউজ ডেস্ক:পবিত্র ঈদুল আজহার আজ দ্বিতীয় দিন। প্রথম দিনের ধারাবাহিকতায় আজ দেশজুড়ে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা পশু কোরবানি দিয়েছেন। হযরত ইব্রাহিম (আ.) ও হযরত ইসমাইল (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগ, অবিচল আনুগত্য ও ধৈর্যের স্মৃতি স্মরণে এই কোরবানি করা হয়।

তবে কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যেই কোরবানির সার্থকতা সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর পেছনে রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক ও সামাজিক শিক্ষা।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা ইরশাদ করেছেন: "আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না তাদের গোশত এবং রক্ত, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।" (সূরা হজ: ৩৭)। এই আয়াত এবং কোরবানির মূল চেতনা থেকে আমরা মূলত তিনটি বড় শিক্ষা পাই:

১.তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য: নিজের সবচেয়ে প্রিয় জিনিস আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করার মানসিকতা তৈরি করা।
২.ভেতরের পশুত্ন বিসর্জন:পশুর গলায় ছুরি দেওয়ার পাশাপাশি মানুষের মনের অহংকার, হিংসা, লোভ ও স্বার্থপরতাকে বিসর্জন দেওয়া।
৩. সামাজিক সহমর্মিতা:ধনী-দরিদ্রের ভেদাভেদ ভুলে পাড়া-প্রতিবেশী এবং দুস্থ, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো ও মাংস বণ্টন করা।

আগামীতে আমাদের করণীয়: 

পরিবেশ রক্ষা ও পরিচ্ছন্নতা:ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অঙ্গ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তাই কোরবানি-পরবর্তী সময়ে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের অন্যতম ধর্মীয় ও নাগরিক দায়িত্ব।

এ বিষয়ে আগামী দিনগুলোতে আমাদের করণীয়সমূহ:

  • দ্রুত বর্জ্য অপসারণ:কোরবানির পশুর রক্ত, গোবর ও হাড় যত্রতত্র ফেলে না রেখে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। নিজ উদ্যোগে বর্জ্য পরিষ্কার করে সেখানে ব্লিচিং পাউডার বা স্যাভলন-পানি ছিটানো উচিত, যেন কোনো দুর্গন্ধ বা রোগজীবাণু না ছড়ায়।
  • চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা:কোরবানির পশুর চামড়া আমাদের জাতীয় সম্পদ। এর সঠিক দাম যেন এতিম ও মিসকিনরা পায়, সেজন্য চামড়া দ্রুত লবণ দিয়ে সংরক্ষণ করা বা বিক্রি করার ব্যবস্থা নিতে হবে।

সহমর্মিতার ধারাবাহিকতা রক্ষা: ঈদের আনন্দ শেষ হয়ে গেলেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। আগামী দিনগুলোতেও তাদের পাশে দাঁড়ানো এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখা প্রতিটি মুসলিমের কর্তব্য।

কোরবানির এই মহান শিক্ষা যেন শুধু বছরের নির্দিষ্ট কয়েকটা দিনেই সীমাবদ্ধ না থাকে। আমাদের বাস্তব জীবনে ত্যাগের এই মানসিকতা ধরে রেখে একটি পরিচ্ছন্ন, শান্তিপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলাই হোক পবিত্র ঈদুল আজহার মূল অঙ্গীকার। মহান আল্লাহ তাআলা আমাদের সবার কোরবানি, ত্যাগ ও তাকওয়া কবুল করুন। আমিন