ইসলামিক ডেস্ক: পবিত্র কুরআনের হেদায়েতের আলো বিশ্বমানবতার জন্য এক অনন্য নিয়ামত। মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সঠিক পথ দেখাতে আল্লাহর বাণী সবসময় এক অনন্য গাইড হিসেবে কাজ করে। সূরা মারিয়ামের ৬৫ নম্বর আয়াতের অর্থ ও তাৎপর্য প্রতিটি বিশ্বাসী মানুষের অন্তরকে আলোড়িত করে। এই আয়াতটিতে সৃষ্টিকর্তার সার্বভৌমত্ব, তাঁর মহানুভবতা এবং মানবজাতির জন্য তাঁর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনাবলী অত্যন্ত সুন্দরভাবে ফুটে উঠেছে।
আয়াতটিতে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিন স্পষ্ট ভাষায় ঘোষণা করেছেন:
"তিনি আকাশ, যমীন আর এ দু’য়ের মাঝে যা আছে তার প্রতিপালক, কাজেই তুমি তাঁর ‘ইবাদাত কর, আর তাঁর ‘ইবাদাতে নিয়মিত ও দৃঢ় থাক। তুমি কি তাঁর নামের গুণসম্পন্ন অন্য আর কেউ আছে বলে জান?"
ইসলামী চিন্তাবিদ ও গবেষকদের মতে, এই পবিত্র বাণীতে মূলত তিনটি বিশেষ বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রথমত, আল্লাহ তাআলাই মহাবিশ্বের একমাত্র মালিক ও পালনকর্তা; আসমান, জমিন এবং এর মধ্যবর্তী সবকিছুর ওপর একমাত্র তাঁরই কর্তৃত্ব চলে। দ্বিতীয়ত, মানুষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা কেবল তাঁরই দাসত্ব ও ইবাদত করে। শুধু তা-ই নয়, ইবাদতের এই পথে যেন তারা নিয়মিত, ধৈর্যশীল ও যেকোনো পরিস্থিতিতে অবিচল থাকে। সবশেষে, এক শক্তিশালী বার্তার মাধ্যমে মনে করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, গুণাগুণ, ক্ষমতা ও মর্যাদায় আল্লাহর সমকক্ষ বা সমতুল্য এই পুরো মহাবিশ্বে আর কেউই নেই।
আজকের ব্যস্ত ও নানামুখী চ্যালেঞ্জে ভরা পৃথিবীতে এই আয়াতটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত সময়োপযোগী একটি দিকনির্দেশনা। আলেম সমাজ বর্তমান সমাজের মানুষকে এই আয়াতের আলোকে জীবন গড়ার তাগিদ দিচ্ছেন। তাঁরা বলছেন, জীবনের সকল ব্যস্ততা ও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও ইবাদতে নিয়মিত হওয়া এবং আল্লাহর ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখাই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। এই আয়াতটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, একমাত্র আল্লাহর কাছেই আমাদের আত্মসমর্পণ করতে হবে, কারণ তাঁর মতো দয়ালু ও রক্ষাকর্তা আর দ্বিতীয় কেউ নেই।-আমিন



