এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:রোটারি ফেলোশিপ মাস উপলক্ষে রোটারি ক্লাব অব রাজশাহী সেন্ট্রালের সদস্য ও তাদের পরিবারের জন্য এক অভাবনীয় দিনব্যাপি ফেলোশিপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১লা জুন রাজশাহীর গোদাগারি উপজেলার মনোরম শরমংলা ইকো পার্কে ক্লাবের সেক্রেটারি রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল হকের ব্যক্তিগত আয়োজনে এবং তাঁর চমৎকার আতিথেয়তায় এই আয়োজনটি সত্যিই হয়ে ওঠে প্রকৃতি আর মানবিক বন্ধনের এক অনন্য মিলনমেলা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পরিবারের প্রতিটি সদস্য যেন খুঁজে পেয়েছিল এক টুকরো শান্তির ঠিকানা।
আয়োজক রোটারিয়ান শরিফুল হক তাঁর বিশাল আম ও ড্রাগন ফল বাগান, গরু-ছাগল ও হাস-মুরগির খামার ঘুরিয়ে দেখান। শিশু থেকে প্রবীণ, সকলে মুগ্ধ হয়ে ঘুরে বেড়ান সবুজ ঘাসে মাখা পথ ধরে, গাছের ডালে ঝুলে থাকা পাকা ফলে চোখ রাখেন, আর খোলা আকাশের নিচে গল্প আর আড্ডায় মেতে ওঠেন। পার্কের চারপাশের পাখির ডাক, মৃদু বাতাস আর বাগানের মিষ্টি গন্ধ সব মিলিয়ে এক স্বপ্নিল পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এতে উপস্থিত ছিলেন ক্লাব প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মিজানুর রহমান ও ফাস্ট লেডি নাজিয়া ইসলাম (এনেটস প্রকৃতি); আয়োজক ও সেক্রেটারি রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল হক ও তাঁর স্পাউস জিনাত রহমান (এনেটস তাজওয়ার); পাস্ট প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান ডা. মো. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ ও পাস্ট ফাস্ট লেডি মাহবুবা হাসনিন (এনেটস আহনাফ হাসান ও আরশাদ হাসান); ক্লাব ডিরেক্টর রোটারিয়ান প্রফেসর ড. মো. জালাল উদ্দিন সরদার ও স্পাউস ড. সবরিনা আনাম; রোটারিয়ান প্রফেসর ড. সৈয়দ শাহ আলম ও স্পাউস ড. নিলুফা আহসান; ভাইস প্রেসিডেন্ট মো. আতিকুর রহমান ও স্পাউস তাহেরা খাতুন; এবং জয়েন্ট ট্রেজারার রোটারিয়ান মোহনা।
দিনটি কেটেছে গল্প, আড্ডা, হাসি-ঠাট্টা, আবৃত্তি আর গানে। রোটারিয়ান, স্পাউস ও এনেটসরা যখন একসঙ্গে বসে কবিতা শোনাচ্ছিলেন, আবার কেউ কৌতুক বলে সবার হাসি পাকিয়ে ফেলছিলেন – তখন মনে হচ্ছিল, রোটারি আসলে একটি বড় পরিবার। শিশুদের দৌড়াদৌড়ি আর কোলাহলে মুখরিত ছিল পুরো পার্ক। ফেলোশিপের এক অনাবিল আনন্দ সবাইকে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে।
এই আনন্দমুখর আয়োজনের ফাঁকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক উদ্যোগের বীজ রোপিত হয়। পার্শ্ববর্তী এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে রোটারিয়ান ইঞ্জিনিয়ার শরিফুল হকের বাগান এলাকায় একটি আরসিসি (রোটারি কমিউনিটি কর্পস) গঠনের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়। প্রেসিডেন্ট মিজানুর রহমান ও সেক্রেটারি শরিফুল হক আশা প্রকাশ করেন, খুব শিগগিরই এলাকাবাসীর অংশগ্রহণে এটি বাস্তব রূপ নেবে, যা স্থানীয় পর্যায়ে রোটারির সেবার হাতকে আরও সম্প্রসারিত করবে।
প্রেসিডেন্ট মো. মিজানুর রহমান বলেন, “প্রকৃতির বুকে এমন ফেলোশিপ সত্যিই স্মরণীয়। রোটারিয়ান শরিফুল হকের আন্তরিকতা ও আপ্যায়ন আমাদের প্রত্যেককে পরিবারের মতো অনুভব করিয়েছে।” ক্লাবের সবাই আয়োজকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে দিনের শেষে ফিরে আসেন হৃদয়ে এক অকৃত্রিম ভালোলাগা আর দারুণ সব স্মৃতি নিয়ে। আমাদের স ক লের আন ন্দ-ভালবাসার উপাত্ত হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোটারিয়ান শরিফুল হক এর মমতাময়ি মা।


