এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:চট্টগ্রামের পটিয়ায় ইউনিক ফাউন্ডেশনের ৯ম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে মেধাবৃত্তি সংবর্ধনা, গুণীজন সংবর্ধনা, শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী এক শিক্ষার্থীকে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে একটি কম্পিউটার উপহার দেওয়া হয়।
৪ জুলাই (শনিবার) পটিয়ার গাজী কনভেনশন হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন পটিয়া সচেতন নাগরিক ফোরামের প্রধান সমন্বয়কারী ও সাংবাদিক মফিজুল ইসলাম বাবলু চৌধুরী। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক মুহাম্মদ তৌহিদুল আলম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন পটিয়া লাইফ কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এমদাদুল হাসান। বিশেষ বক্তা ছিলেন মুহাম্মদ জালাল উদ্দীন।
অনুষ্ঠানে সমাজে শিক্ষা ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ডাঃ দেলোয়ার হোসেনকে গুণীজন সংবর্ধনা এবং হাজ্বী ইদ্রিস মিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান তানভীর রহমান আপনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। পাশাপাশি ইউনিক ফাউন্ডেশন আয়োজিত মেধাবৃত্তি পরীক্ষায় তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ট্যালেন্টপুল ও সাধারণ গ্রেডে উত্তীর্ণ ১৫০ জন শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তি, সম্মাননা স্মারক ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ জন অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অবশিষ্ট ৮০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে শিক্ষা সামগ্রী পর্যায়ক্রমে পটিয়া উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে গিয়ে ধারাবাহিকভাবে বিতরণ করা হবে।
বৃত্তি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ নম্বর পেয়ে প্রথম স্থান অর্জনকারী এস আলম কলেজিয়েট স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাইয়্যাদুর রহমানকে বিশেষ সম্মাননা হিসেবে একটি আকর্ষণীয় কম্পিউটার উপহার দেওয়া হয়। এ ঘোষণা ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহের সৃষ্টি করে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দিদারুল আলম, মুহাম্মদ ফরিদুল হক, কাজী মো. সোহেল, ইব্রাহিম খলিল মানিক, মুহাম্মদ আলমগীর হোসাইন, মুহাম্মদ সুমন, অ্যাডভোকেট এস. এম. রফিকুল আলম ওসমানী, অ্যাডভোকেট প্রকাশ চক্রবর্তী, কবির আহমেদ, নজরুল ইসলাম শওকত এবং ইফতেখার হোসেন মিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন অনুষ্ঠান পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক খোরশেদ আলম। সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রুমি আক্তার। যুগ্ম সদস্য সচিব ছিলেন নুর হোসেন ও আহনাফ হাসনাইন। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ইউনিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. সাইমন ইসলাম এবং সহসাধারণ সম্পাদক এম. শাহ জুয়েল।
অনুষ্ঠানকে সফল করতে ইউনিক ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইমরান শাফায়াতের নেতৃত্বে ফাউন্ডেশনের সদস্যরা নিরলস পরিশ্রম করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সুলাইমান, তানভীর সালেহ, জামশেদ, রবিন, তানভীর, জুবাইদ, জুবাইদা, মুহি, এহসান, আব্বাসসহ অন্যরা।
আলোচনা সভা শেষে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থী, অভিভাবক, শিক্ষক, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ, মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে ইউনিক ফাউন্ডেশনের এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভবিষ্যতেও শিক্ষা, মানবিক সহায়তা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তাঁরা।



