মো. এমদাদুল হকঃরাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার বখতিয়ারপুর গ্রামে রহুল আমিন নামের এক তরুণ। পড়াশোনার পাশাপাশি ভিন্নধর্মী উদ্যোগ নিয়ে আঙুর চাষে সাফল্যের নজির গড়েছেন, তিনি রাজশাহী কলেজে অধ্যয়নরত ছাত্র। তার সহোযোগি সহপাটর্নার হিসেবে রয়েছেন একই গ্রামের আল আমিন।
এগ্রামে দুজনে গড়ে তুলেছেন একটি আঙুর বাগান, চাষকৃত আঙুর জাতের বাইকুনুর। সফলতা পাওয়ায় ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে আঙুর চাষ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। তারা নিজ গ্রামের প্রায় ৮ শতাংশ জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে আঙুর চাষ করে ইতোমধ্যে সফলতা পেছেন।
গত ২৭ এপ্রিল আঙুর বাগানে গিয়ে আঙুর বাগানের মালিক রহুল আমিন নিকট হতে যানা যায় অনেক দর্শনার্থী বাগানটি দেখতে আসেন। অনেকে দর্শনার্থী বাগানে ছবি তুলে থাকানে। বাগানে থোকায় থোকায় লাল ও সবুজ আঙুর চমৎকার ভাবে ঝুলে থাকতে দেখা যায়, যা দর্শনার্থীদের আকর্ষণ করে।
বাগান ঘুরে দেখে অনেকেই সরাসরি মালিকের কাছ থেকে আঙুর কিনেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি আঙুর বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪০০ টাকায়। এছাড়া আঙুরের চারা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করছেন। বর্তমানে তারা এখান থেকে ভালো আয় করছেন।
রহুল আমিন বলেন, শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে ধৈর্য ও সঠিক পরিচর্যার কারণে এখন ভালো উৎপাদন হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরো বড় পরিসরে বাগান করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে অন্য তরুণরাও আগ্রহী হয়। তাই এখন আঙুর বাগানেই আরো সফলতার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
রহুল আমিন আরো জানান, প্রথমে ইউটিউব দেখে ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে আঙুর চাষের পাশাপাশি তিনি কিছু জমিতে পেয়ারার চাষও করছেন। ফল বিক্রির পাশাপাশি কাটিং, কলম ও চারা বিক্রি করে তিনি লাভবান হচ্ছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ তার বাগান দেখতে আসছেন, অনেকেই আগ্রহী হয়ে আঙুরের চারা সংগ্রহ করছেন।
রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাশতুরা আমিনা পরিদর্শন কালীন সময়ে বলেন, আমাদের এলাকায় এভাবে আঙুর চাষ সম্ভব, এ তুরণ উদ্যক্তাদের বাগান না দেখলে বিশ্বাসই হতো না। এটি আমাদের জন্য অনুপ্রেরণা। আরো বড় পরিসরে আঙুর চাষ কারা গেলে আমাদের দেশে বিদেশ থেকে ফল আমদানি নির্ভরতা কমবে। তরুণেরা যদি আঙুরসহ অন্যান্য ফল চাষে আগ্রহী হয় তাহলে তরুণদের আত্নকর্মসংস্থান হবে।
দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, নিজ উদ্যোগে ব্যতিক্রমী এই আঙুর বাগান গড়ে তুলেছেন এই তরুণ যুবক। কৃষি অফিস থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী তাকে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।



