পাবনা সদরে উচ্চ ফলনশীল ব্রি ধান ১০২ এর নমুনা শস্য কর্তন অনুষ্ঠিত

প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য অতিথিবৃন্দ ব্রি ধান ১০২ জাতের নমুনা ফসল কর্তন করছেন।

স্মার্ট ফার্মিং ও পণ্য
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

মোঃ গোলাম আরিফ:১৯ মে ২০২৬ পাবনা সদর উপজেলার ভজেন্দ্রপুর গ্রামে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় ক্লাস্টার এডব্লিউডি প্রযুক্তি প্রদর্শনীর ব্রি ধান ১০২ জাতের নমুনা ফসল কর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া অঞ্চণের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ আব্দুল ওয়াদুদ।

এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, পাবনা’র উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম প্রামানিক, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল ইসলাম, অতিরিক্ত উপপরিচালক (শস্য) কৃষিবিদ মোঃ রাফিউল ইসলাম, পার্টনার প্রকল্পের বগুড়া অঞ্চলের লীড ফেসিলেটেটর ও সিনিয়র মনিটরিং অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ আহমেদ, পাবনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ জাকিরুল ইসলাম, কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ শৈলেন কুমার পাল এবং মালিগাছা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসারবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ব্রি ধান ১০২ বোরো মৌসুমের একটি উচ্চ ফলনশীল ও পুষ্টিসমৃদ্ধ ধানের জাত। এটি ব্রি ধান ২৯ এর উন্নত বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। চাল মাঝারি চিকন, লম্বা ও সাদা। ভাত ঝরঝরে হয়। এতে জিংকের পরিমাণ প্রতি কেজিতে ২৫.৫ মিলিগ্রাম এবং প্রোটিনের পরিমাণ প্রায় ৭.৫%। ডিগ পাতা খাড়া, প্রশস্ত ও লম্বা এবং পাতার রং গাঢ় সবুজ। গাছ শক্ত ও মজবুত হওয়ায় সহজে হেলে পড়ে না এবং বিভিন্ন রোগবালাই প্রতিরোধী। এ জাতের প্রধান বৈশিষ্ট্য ব্যাকটেরিয়াজনিত পোড়া রোগ প্রতিরোধী। এর গড় জীবনকাল ১৪২ দিন। ধানের দানার রং সোনালী বর্ণের এবং লম্বা চিকন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে ফলন হেক্টর প্রতি ৮.১০ টন পর্যন্ত পাওয়া যায়। বক্তারা আরো বলেন, এডব্লিউডি ধানক্ষেতে সেচের পানি সাশ্রয়ের একটি আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে জমিতে সার্বক্ষণিক পানি না রেখে পর্যায়ক্রমে শুকানো ও ভিজানোর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত সেচ দেওয়া হয়। মাটিতে অক্সিজেন চলাচল বৃদ্ধি পায়, গাছের শিকড় মজবুত হয়। এই পদ্ধতিতে ধানের ফলন না কমিয়ে প্রায় শতকরা ২০-৩০ ভাগ পর্যন্ত সেচের পানি বাঁচানো সম্ভব হয়।

ব্রি ধান ১০২ চাষী কৃষক মোঃ বাবু প্রামানিক বলেন, এটা উচ্চ ফসলশীন জাত, রোগ বালাই কম, এর জীবনকাল একটু বেশী, বিঘা প্রতি ২৩ থেকে ২৫ মন ফলন হয়েছে। এটি জিঙ্ক সমৃদ্ধ জাত। জিঙ্কের অভাব হবে না। পুষ্টিগুন সম্পন্ন জাতের এমন ফলন পেয়ে আমরা খুশি।