নাটোরে খামারিদের আধুনিক মৎস্য চাষের প্রশিক্ষণ দিল অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ

স্মার্ট ফার্মিং ও পণ্য
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি:বৃপাথুরিয়া, গুরুদাসপুর (নাটোর), ১৮ জুন ২০২৬: দেশের মৎস্যখাতকে আরও উৎপাদনশীল, লাভজনক ও টেকসই করার লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় মৎস্য স্বাস্থ্যসেবা, পুষ্টি ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ বৃপাথুরিয়া বাজারস্থ মৎস্য কল্যাণ সমিতির হলরুমে আজ বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দিনব্যাপী “আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক মৎস্যচাষ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও মতবিনিময় সভা” আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেন মৎস্য কল্যাণ সমিতির সদস্যবৃন্দ। কর্মশালায় এলাকার বিপুল সংখ্যক মৎস্যচাষী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কৃষিবিদ, গবেষক এবং অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশের হেড অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড সেলস রেজাউল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের জোনাল সেলস ম্যানেজার তুহিন সরকার।

প্রশিক্ষণে আধুনিক মাছ চাষ ব্যবস্থাপনা, পুকুর প্রস্তুতি, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ, মাছের রোগ প্রতিরোধ, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, বায়োসিকিউরিটি, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন কৌশল এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে মাছ চাষে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি হচ্ছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রার ফলে পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে যায়, মাছ হিট স্ট্রেসে আক্রান্ত হয় এবং রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে অতিরিক্ত খাদ্য প্রয়োগ ও জৈব বর্জ্য জমে থাকার কারণে অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে মাছের বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা মোকাবেলায় নিয়মিত পানি পরীক্ষা, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে নিরাপদ ও টেকসই মাছ উৎপাদনের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক নির্ভরতা কমিয়ে ফাইটোজেনিক প্রযুক্তি, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিকভিত্তিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হওয়া জরুরি। এ ক্ষেত্রে অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণাভিত্তিক পণ্য ও প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছে, যা মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, পানির গুণগত মান উন্নয়ন, খাদ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিতকরণ এবং উৎপাদন ব্যয় হ্রাসে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তিনি উল্লেখ করেন যে, অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশের পণ্যসমূহ উন্নতমানের কাঁচামাল, আধুনিক প্রযুক্তি এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রস্তুত হওয়ায় দেশের হাজারো সফল খামারির প্রথম পছন্দে পরিণত হয়েছে। নিরাপদ, কার্যকর ও ফলাফলভিত্তিক সমাধান প্রদান করায় প্রতিষ্ঠানটির প্রতি খামারিদের আস্থা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাঠপর্যায়ে ধারাবাহিক প্রযুক্তিগত সহায়তা, প্রশিক্ষণ এবং সমস্যা সমাধানে দ্রুত সাড়া দেওয়ার কারণেও অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ মৎস্যখাতে একটি নির্ভরযোগ্য নাম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

মতবিনিময় পর্বে খামারিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও সফলতার গল্প তুলে ধরেন এবং বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ গ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী খামারিরা বলেন, অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশের এ ধরনের সময়োপযোগী, বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবমুখী উদ্যোগ তাদের মাছ চাষে নতুন দিকনির্দেশনা দিয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার ধারাবাহিকতা প্রত্যাশা করেন এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।