এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:দেশের মৎস্যখাতের টেকসই উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং খামারিদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শীর্ষস্থানীয় মৎস্য স্বাস্থ্যসেবা ও প্রযুক্তি প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ আজ সোমবার (১৫ জুন) বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সোনালী প্যালেসে দিনব্যাপী “আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক মৎস্যচাষ বিষয়ক সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা” আয়োজন করে।
কর্মশালায় জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রায় ১০০ জন প্রান্তিক ও বাণিজ্যিক মৎস্যচাষী অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মৎস্য ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং খাতসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কৃষিবিদ, গবেষক এবং অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশের হেড অব টেকনিক্যাল অ্যান্ড সেলস রেজাউল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির উত্তরবঙ্গ অঞ্চলের জোনাল সেলস ম্যানেজার তুহিন সরকার। এছাড়াও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন পর্যায়ের কারিগরি কর্মকর্তা ও সেলস প্রতিনিধিরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় আধুনিক ও লাভজনক মাছ চাষের কৌশল, পুকুরের বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা, মাছের রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা, খাদ্য ও পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, বায়োসিকিউরিটি এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে রেজাউল হক বলেন, বর্তমান সময়ে ক্রমবর্ধমান উৎপাদন ব্যয়, পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপদ খাদ্যের চাহিদার প্রেক্ষাপটে আধুনিক, বিজ্ঞানভিত্তিক ও টেকসই মৎস্যচাষের কোনো বিকল্প নেই। তিনি বলেন, শুধুমাত্র অধিক উৎপাদন নয়, বরং নিরাপদ, মানসম্পন্ন ও রপ্তানিযোগ্য মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করতে খামারিদের আধুনিক প্রযুক্তি, সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব চাষ পদ্ধতি গ্রহণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাছ চাষে অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে সৃষ্ট অবশিষ্টাংশ (Residual Effect) জলজ পরিবেশ, মাছের স্বাস্থ্য এবং ভোক্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ফাইটোজেনিক (Phytogenic) প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান, প্রাকৃতিক উপাদানসমৃদ্ধ স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা এবং অ্যান্টিবায়োটিকের বিকল্প হিসেবে কার্যকর ফাইটোজেনিক অ্যান্টিবায়োটিক রিপ্লেসার ব্যবহারের ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
রেজাউল হক খামারিদের উদ্দেশে বলেন, সফল ও অধিক লাভজনক মৎস্যচাষ নিশ্চিত করতে পুকুর প্রস্তুতি থেকে শুরু করে মাছের সঠিক মজুত ঘনত্ব নির্ধারণ, পানি ও মাটির গুণগত মান ব্যবস্থাপনা, প্রোবায়োটিক ও প্রিবায়োটিকের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রশিক্ষিত মৎস্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুসরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণে অ্যামোনিয়া, পিএইচ, নাইট্রাইট এবং দ্রবীভূত অক্সিজেন (DO)-এর সঠিক পরিমাপ, গ্রহণযোগ্য মাত্রা এবং মাছের বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধে এসব উপাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করেন।
বক্তারা বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি, বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে দেশের মৎস্যখাতকে আরও উৎপাদনশীল, প্রতিযোগিতামূলক ও টেকসই করা সম্ভব। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় হ্রাস, রোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নিরাপদ মাছ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী খামারিরা মাছের রোগ নির্ণয় ও প্রতিকার, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, পানির গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং আধুনিক খামার পরিচালনা বিষয়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি জ্ঞান ও বাস্তবভিত্তিক পরামর্শ লাভ করেন। তারা এ ধরনের সময়োপযোগী ও কার্যকর উদ্যোগের জন্য আয়োজকদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী পর্বে অংশগ্রহণকারীদের অর্জিত জ্ঞান মূল্যায়ন এবং শেখার আগ্রহ আরও উৎসাহিত করতে আধুনিক মৎস্যচাষ বিষয়ক প্রশ্নোত্তর ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে খামারিরা উৎসাহের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রশিক্ষণে আলোচিত বিষয়গুলোর ওপর তাদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। কুইজে সঠিক উত্তরদাতাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত তিনজনকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
অ্যাডভান্স এগ্রোটেক বাংলাদেশ দেশের মৎস্যখাতের উন্নয়ন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং খামারিদের কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিয়মিতভাবে প্রশিক্ষণ, সেমিনার, গবেষণা কার্যক্রম এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করে আসছে। প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতেও আধুনিক ও টেকসই মৎস্যচাষ সম্প্রসারণে খামারিদের পাশে থেকে কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।





















