এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ইলিশ বাংলাদেশের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য এবং এটি দেশের গর্ব ও গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
ইলিশকে কেন্দ্র করে প্রায় ৭৫ হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি গড়ে উঠেছে। জাতীয় অর্থনীতিতে ইলিশের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর উৎপাদন আরও বৃদ্ধি করা গেলে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আজ মৎস্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত “জাটকা ও মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২৫-২৬ এর মূল্যায়ন ও ভবিষ্যৎ করণীয়” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ইলিশ মাছের উৎপাদন ও সংরক্ষণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে এমন বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করে জেলেরা ইলিশসহ অন্যান্য মাছ শিকার করছেন। এ ধরনের জাল উৎপাদন বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দেশে প্রায় ৪০ লাখের বেশি মানুষ ইলিশ উৎপাদন, আহরণ ও বিপণনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। ফলে এ খাত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থানের উৎসে পরিণত হয়েছে। তাই এ খাতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গত বছর প্রায় ৪০ হাজার জেলেকে ভিজিএফ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ সহায়তার পরিমাণ ও পরিধি আরও বৃদ্ধি করা হবে, যাতে জেলেরা নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হন।
তিনি বলেন, কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অতীতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ২০০৩ সালে ইলিশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। এসব উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় বর্তমানেও কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে ধীরে ধীরে দেশের সব শ্রেণির মানুষকে এর আওতায় আনা হবে। মৎস্যজীবীরাও কৃষক কার্ডের সুবিধাভোগী হবেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব নীলুফা আক্তার ও সৈয়দা নওয়ারা জাহান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্র, ইলিশ উন্নয়ন সংক্রান্ত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার।
কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।





















