ফেসবুকে আবেগঘন চিঠি ভাইরাল, পাশে দাঁড়ালেন বাকৃবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক

বাকৃবি প্রতিনিধি:সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক এতিম শিশুর মায়ের কাছে লেখা আবেগঘন চিঠি ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া সেই চিঠির সূত্র ধরে শিশুটির খোঁজ নিয়ে তার পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. আতিকুর রহমান।

রোববার (১৫ মার্চ) তিনি ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় গিয়ে স্বশরীরে শিশুটির পরিবারকে খুঁজে বের করেন।

জানা যায়, দুই দিন আগে ফেসবুকে একটি হৃদয়বিদারক পোস্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ছিল এক এতিম শিশুর মায়ের কাছে লেখা ছোট্ট একটি চিঠি। চিঠির প্রতিটি লাইনে ফুটে ওঠে অভাব, কষ্ট ও নিঃশব্দ আকুতির করুণ চিত্র। পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে অসংখ্য মানুষ তা শেয়ার করে সহমর্মিতা প্রকাশ করেন।

চিঠিতে শিশুটি মায়ের কাছে লিখেছিল `আম্মা, আমারে একটা সাবান দিও। তিন দিন আগে সাবান শেষ। একটা সাদা পাঞ্জাবি দিও, আগেরটা ছিঁড়া গেছে। ইফতারে বুট-মুড়ি দেয়, রাতে ভাত দেয় না। আমার জন্য কিছু ভালো খাবার আইনো। একটা মশারি আর চাদর দিও, মশা খুব কামড়ায়।'

শিশুটির এই সরল অথচ হৃদয়স্পর্শী কথাগুলো অনেকের হৃদয় নাড়া দিলেও বাস্তবে তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন মো. আতিকুর রহমান। ভাইরাল পোস্টটি দেখার পর থেকেই তিনি শিশুটির খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। বিভিন্ন সূত্রে যোগাযোগ ও পরিচিতজনদের সহায়তায় দুই দিন অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় শিশুটির সন্ধান পান।

পরে তিনি শিশুটির সঙ্গে কথা বলেন এবং তার সার্বিক অবস্থা সম্পর্কে খোঁজ নেন। চিঠিতে উল্লেখ করা চাহিদা অনুযায়ী শিশুটির হাতে সাবান, পুষ্টিকর খাবার, ঈদের নতুন পোশাক হিসেবে সাদা পাঞ্জাবি, মশারি ও বিছানার চাদরসহ প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী তুলে দেন।

শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়েও আশ্বাস দিয়েছেন আতিকুর রহমান। তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অভাবের কারণে যেন শিশুটির পড়ালেখা বন্ধ না হয়—সে দায়িত্বও তিনি গ্রহণ করবেন।

এ বিষয়ে মো. আতিকুর রহমান বলেন, একটি শিশুর ছোট্ট চিঠিতে যে কষ্টের কথা উঠে এসেছে, তা উপেক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আমরা চাই সমাজের প্রতিটি অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়াতে। অন্তত একজন মানুষের কষ্ট লাঘব করতে পারলেও সেটাই হবে আমাদের বড় প্রাপ্তি। শিশুটির পড়ালেখা যেন কোনোভাবেই বন্ধ না হয়, সে জন্য তার শিক্ষার দায়িত্বও আমি নেওয়ার চেষ্টা করব।