এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) কর্তৃক বাস্তবায়িত এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমী (BAS) এর অধীনে U.S. Department of Agriculture (USDA) এর অর্থায়নে পরিচালিত “স্টাডি অন রুরাল ফ্যামিলি চিকেন এগ্রো-এন্টারপ্রাইজেস মডেলিং” শীর্ষক প্রকল্পের উদ্যোগে ‘পারিবারিক দেশি মুরগি পালনভিত্তিক গ্রামীন নারী উদ্যোক্তা উন্নয়ন মডেল” শীর্ষক একটি মাঠ দিবস ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান আজ ২৭/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে বিএলআরআই আঞ্চলিক কেন্দ্র, ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উক্ত মাঠ দিবসের উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমীর সম্মানিত ফেলো ও বিএলআরআই এর সাবেক মহাপরিচালক ড. খান শহিদুল হক। আর উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
সকাল ১০.০০ ঘটিকায় বিএলআরআই আঞ্চলিক কেন্দ্র, ফরিদপুরের অফিস ভবন প্রাঙ্গনে পবিত্র কুরআন হতে তেলোয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। এরপর আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ। স্বাগত বক্তব্যের পাশাপাশি এসময় তিনি প্রকল্পের সার-সংক্ষেপ ও বাস্তবায়ন অগ্রগতি সম্পর্কে মূল প্রবন্ধও উপস্থাপন করেন।
প্রধান গবেষক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রশিদ তার উপস্থাপনায় বলেন, BAS-USDA এর অর্থায়নে পরিচালিত “স্টাডি অন রুরাল ফ্যামিলি চিকেন এগ্রো-এন্টারপ্রাইজেস মডেলিং” শীর্ষক প্রকল্পটি এপ্রিল, ২০২৩ হতে মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত সময়কালে ৬৬.৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়। প্রকল্পের আওতায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার গঙ্গাধরদী গ্রামে ৪ টি গ্রুপে মোট ১২০ জন নারী উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে। এসব উদ্যোক্তাগণের মাঝে প্রকল্পের অর্থায়নে মোরগ-মুরগী, মুরগি পালনের ঘর, প্রয়োজনীয় ওষুধ-কৃমিনাশক-ভ্যাকসিনেশন সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের আওতায় সাবলম্বী খামারি ও উদ্যোক্তা তৈরি করা হয়েছে এবং এসকল উদ্যোক্তাগণের প্রতিষ্ঠিত সমিতিতে বর্তমানে প্রায় চার লক্ষ টাকা জমা রয়েছে।
স্বাগত বক্তব্য ও উপস্থাপনার পরে পরে অনুষ্ঠিত হয় উন্মুক্ত আলোচনা। উন্মুক্ত আলোচনা অংশটি পরিচালনা করেন সভাপতি ড. শাকিলা ফারুক। এসময় অংশগ্রহণকারী নারী খামারি-উদ্যোক্তাগণসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান হতে আগত প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বিএলআরআই হতে আগত বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও দপ্তর প্রধানগণ প্রকল্পের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে প্রশ্ন করেন এবং প্রকল্পের কার্যক্রমকে বেগবান করার লক্ষ্যে নিজ নিজ মতামত ও পরামর্শ ব্যক্ত করেন।
এর পর প্রকল্পের আওতায় সৃষ্ট শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তাগণকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। স্থানীয় পর্যায়ে গঠিত বিচারক কমিটি সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণ করে শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা নির্বাচন করেন এবং শ্রেষ্ঠ ১০ জন উদ্যোক্তাকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এসময় হাসনাহেনা গ্রুপের মোছা. ফিরোজা আক্তার প্রকল্পের আওতায় শ্রেষ্ঠ নারী উদ্যোক্তা নির্বাচিত হন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএলআরআই এর সাবেক মহাপরিচালক ড. খান শহিদুল হক বলেন, বিএলআরআইকে ধন্যবাদ এই কারণে যে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে নারী উদ্যোক্তা ও নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। নারীরা পরিবারের কেন্দ্র। তাই নারীরা যদি শিক্ষিত না হয়, পুষ্টি সংক্রান্ত জ্ঞান না জানে, তবে কোনদিনও একটি জাতি ভালো নাগরিক পাবে না।
এসময় তিনি আরও বলেন, গবেষণা শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না, তাকে খামারির বাড়িতে নিয়ে পৌঁছাতে হবে। গবেষণা যদি মানুষের উপকারে না আসে, তবে কেবলমাত্র বৈজ্ঞানিক প্রবন্ধ নির্ভর গবেষণার কোন মূল্য থাকবে না। পাশাপাশি এসময় তিনি প্রকল্পের কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য বিএলআরআই এর সহযোগিতা কামনা করেন এবং প্রকল্পের আওতায় সৃষ্টি হওয়া নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যবসায়িক মডেল তৈরির লক্ষ্যে বিএলআরআইকে কাজ করার জন্য আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ড. শাকিলা ফারুক বলেন, প্রকল্পের সফলতা নির্ভর করে প্রকল্পের আওতায় কর্মরত জনবলের আন্তরিকতার উপরে। প্রকল্পের আওতায় মুরগি পালনের বিষয়ে অনেক ভ্রান্ত ধারণা দূর হয়েছে, এটি অনেক বড় অর্জন। পাশাপাশি খামারিরা বিএলআরআই হতে যে সকল বিজ্ঞানভিত্তিক জ্ঞান লাভ করেছেন, তার আলোকে যদি সঠিক ভাবে মুরগি পালন করা সম্ভব হয়, তবে বাস্তবেই প্রকল্পটি সফলতা লাভ করবে। এসময় তিনি প্রকল্পের আওতায় সৃষ্ট নারী উদ্যোক্তাগণকে খামার ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার আহ্বান জানান এবং ভবিষ্যতে বিএলআরআই হতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।





















