ইসলামিক ডেস্ক:কৃষি ও খাদ্য উৎপাদন ইসলামের দৃষ্টিতে শুধু জীবিকা নয়, বরং ইবাদত ও চিন্তার বিষয়। পবিত্র কুরআনের সূরা আর-রাদ, আয়াত ৩-এ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: “তিনিই ভূপৃষ্ঠকে বিস্তৃত করেছেন, তাতে স্থাপন করেছেন পর্বতমালা ও নদ-নদী, আর প্রত্যেক প্রকার ফল জোড়া জোড়া সৃষ্টি করেছেন।
তিনি দিনকে রাত দ্বারা আচ্ছাদিত করেন। নিশ্চয় এতে রয়েছে চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনসমূহ”।
এই আয়াত কৃষিকে আল্লাহর কুদরতের নিদর্শন হিসেবে তুলে ধরেছে। বিশেষ করে “প্রত্যেক প্রকার ফল জোড়া জোড়া সৃষ্টি” কথাটি ফল গাছের পরাগায়ন, জাত উন্নয়ন ও কৃষিবিজ্ঞানের ভিত্তি স্থাপন করেছে। ইসলামের স্বর্ণযুগে মুসলিম বিজ্ঞানীরা এই আয়াত থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে সেচ ব্যবস্থা, মাটি পরীক্ষা, ফল সংরক্ষণ ও কলম পদ্ধতিতে নতুন জাত উদ্ভাবনে বিপ্লব ঘটিয়েছিলেন। স্পেনের কর্ডোভা, বাগদাদ ও আন্দালুসের বাগানে খেজুর, আঙ্গুর, আনার, জলপাইসহ বহু ফলের উৎপাদন বহুগুণ বেড়েছিল।
রাসূলুল্লাহ (সা:)-এর শিক্ষা “গাছ লাগাও, ছায়া দাও, ফল খাও” এই দর্শনকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন সাহাবা ও তাবেঈনরা। হিজরি নবর্ষের শিক্ষা এটাই: কৃষক শুধু ফসল ফলান না, তিনি আল্লাহর আয়াতের বাস্তব তাফসির করেন। ফলের বাগান রক্ষা, পানির অপচয় রোধ ও জৈব সার ব্যবহারের মাধ্যমে আমরা সেই নিদর্শনের হেফাজত করতে পারি।





















