সিকৃবি প্রতিনিধি:সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (সিকৃবি) ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ আলিমুল ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার মূল ভিত্তি আমাদের কৃষি। আর এই কৃষির প্রাণ হচ্ছেন আমাদের কৃষক। কিন্তু বাস্তবতা হলো, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, অনিয়মিত আবহাওয়া, মাটির উর্বরতা হ্রাস, রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ, কৃষি উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, বাজারজাতকরণের সমস্যা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সীমিত ব্যবহার, এসব কারণে কৃষকরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন।
আজ ১১ জুলাই (শনিবার) সিকৃবি আইকিউএসির পরিচালক প্রফেসর ড. এম. রাশেদ হাসনাতের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি, এনিম্যাল ও বায়োমেডিক্যাল সায়েন্সেস অনুষদের সম্মেলন কক্ষে "মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সমস্যা ও তার প্রতিকারের উপায়" শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সকল সমস্যার কার্যকর সমাধানে গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি উদ্ভাবন, আধুনিক কৃষি ব্যবস্থাপনার প্রসার, মানসম্মত বীজ ও উন্নত জাতের ব্যবহার, সুষম সার ব্যবস্থাপনা, সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থা, স্মার্ট কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের কোনো বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন সিকৃবি উপাচার্য।
তিনি আরও বলেন, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় কৃষকের পাশে ছিল এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। আমাদের শিক্ষক, গবেষক ও শিক্ষার্থীরা মাঠ পর্যায়ের বাস্তব সমস্যার সমাধানে নিরলসভাবে গবেষণা করে যাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি, গবেষণার ফলাফল এবং নতুন নতুন কৃষি কৌশল কৃষকদের কাছে সহজভাবে পৌঁছে দিতে আমরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছি।
আমি বিশ্বাস করি, কৃষক, গবেষক, কৃষি সম্প্রসারণ কর্মী এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে তুলতে পারলে কৃষির উৎপাদনশীলতা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনি কৃষকের আয়ও বৃদ্ধি পাবে এবং টেকসই কৃষি উন্নয়ন নিশ্চিত হবে বলেস সিকৃবি উপাচার্য।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ,কৃষি অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন প্রফেসর ড. মোঃ আশরাফুল ইসলাম, ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহাম্মদ, খামারের পরিচালক প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুল আজিজ।
অনুষ্ঠানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার প্রান্তিক পর্যায়ের শতাধিক কৃষক প্রশিক্ষনার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।



