এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:মাছের পরিপাকতন্ত্রের (জিআই) মাইক্রোবায়োম পোষকের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা একটি সক্রিয় অঙ্গ হিসেবে পরিপাক, পুষ্টি শোষণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা চালনা করে।
পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বলেন মাছের স্বাভাবিকভাবে হজম করার ক্ষমতা নেই। মাছের খাদ্যের সেলুলেজ, জাইলানেজের মতো এনজাইম তৈরি করে যা উদ্ভিদ ভিত্তিক জটিল পলিস্যাকারাইড ভেঙে ফেলে হজমের জটিলতা সহজ করে থাকে। অণুপুষ্টি সংশ্লেষণের অত্যাবশ্যকীয় বি-ভিটামিন, অ্যামিনো অ্যাসিড এবং শর্ট-চেইন ফ্যাটি অ্যাসিড (SCFA) সংশ্লেষণ করে, যা সরাসরি মাছের অন্ত্রের আস্তরণে শক্তি জোগায় এবং শক্তি বিপাক উন্নত করে। খাদ্য থেকে প্রাপ্ত চর্বির পরিপাক ও সঞ্চয়কে নিয়ন্ত্রণ করে এবং যকৃত ও পেশী কলায় লিপিড শোষণ ও হোমিওস্ট্যাসিস বজায় রাখে।
মাইক্রোবায়োমের মাধ্যমে মাছের স্বাস্থ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ভূমিকা পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন উপকারী অণুজীবগুলো অন্ত্রের আস্তরণে ভৌতভাবে সংযুক্ত হয়ে উপলব্ধ পুষ্টি গ্রহণ করে, যা রোগ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াকে সেখানে উপনিবেশ স্থাপন করতে বাধা দেয়। এটি অন্ত্র-সংযুক্ত লিম্ফয়েড টিস্যু (GALT) এর সাথে মিথস্ক্রিয়া করে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে উদ্দীপিত করে, যা সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। অন্ত্রের শ্লেষ্মা স্তরের অখণ্ডতা বৃদ্ধি করে, যা বিষাক্ত বিপাকজাত পদার্থ বা রোগজীবাণুকে মাছের রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করতে বাধা দেয়।
পরিবেশ বান্ধব ফিশ ফিড ফর্মুলেশন ও পুষ্টির অণুজীবীয় প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে মাছের খাদ্যে টেকসই, উদ্ভিদ ভিত্তিক প্রোটিনের উচ্চতর পরিমাণ অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয় এবং একই সাথে উদ্ভিদজাত খাদ্যের কারণে সৃষ্ট পুষ্টি বিরোধী প্রভাবগুলোও প্রশমিত হয়। প্রিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে ইনুলিন বা ম্যানান অলিগোস্যাকারাইডের মতো খাদ্য উপাদান উপকারী অণুজীবদের বেছে বেছে খাদ্য যোগাতে ব্যবহৃত হয়, যা অন্ত্রে একটি স্থিতিশীল ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করে।
পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির উল্লেখ করেন অ্যাকোয়াকালচারে অণুজীব সেইসব আণুবীক্ষণিক জীবকে বোঝায়, যেমন ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল এবং প্রোটোজোয়া যা পানি, বাস্তুতন্ত্রের তলানি এবং অ্যাকোয়া প্রাণীর পরিপাকতন্ত্রে বসবাস করে। এই অণুজীব সম্প্রদায়গুলোর ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এগুলো পানির গুণমান, পুষ্টিচক্র এবং রোগ প্রতিরোধের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। মূল অণুজীবীয় কার্যাবলী অণুজীব একটি সুস্থ পুকুরের মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করে আবার অব্যবস্থাপিত থাকলে তা সম্ভাব্য হুমকিও হয়ে দাঁড়াতে পারে।
খাদ্যের পুষ্টির বিভিন্ন জায়গায় সংশ্লেষশন ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বলেন খাদ্যের পুষ্টিচক্র ও পরিস্রাবণের কারণে উপকারী ব্যাকটেরিয়া অ্যামোনিয়া, নাইট্রাইট এবং অব্যবহৃত খাদ্যের মতো বিষাক্ত বর্জ্যকে ভেঙে নিরীহ পদার্থে রূপান্তরিত করে।পরিপূরক খাদ্যের পুষ্টির অণুজীব, যেমন মাইক্রোঅ্যালজি এবং ব্যাকটেরিয়া, চারণকারী মাছ এবং ফিল্টার ফিডিং চিংড়ির জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাদ্য উৎস হিসেবে কাজ করে।
পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বিভিন্ন গবেষণা ও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করে বলেন জীবাণু বৃদ্ধির ৪টি কারণ উল্লেখ করেন, যেমন উষ্ণতা, আর্দ্রতা, pH মাত্রা এবং অক্সিজেনের মাত্রা এই চারটি বড় শারীরিক ও রাসায়নিক কারণ যা জীবাণুর বৃদ্ধিকে প্রভাবিত করে। ৪ ধরনের অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স বিভিন্ন জার্নাল ও গবেষণায় উঠে এসেছে। অ্যান্টিবায়োটিক (Antimicrobial) রেজিস্ট্যান্স (AMR) তখন ঘটে যখন জীবাণুরা তাদের হত্যা করার উদ্দেশ্যে করা ওষুধ থেকে বেঁচে থাকার জন্য বিবর্তিত হয়। AMR এর ৪টি প্রাথমিক শ্রেণিবিন্যাস হল অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল, অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিফাঙ্গাল এবং অ্যান্টিপ্যারাসাইটিক রেজিস্ট্যান্স।
পরিশেষে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির উপরোক্ত বিষয়াদি পর্যালোচনা, গবেষণার বিভিন্ন জার্নাল ও বাস্তব কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন মাছের অন্ত্র একটা জটিল প্রক্রিয়া যা বিভিন্ন প্রজাতির বিভিন্ন ধরনের হয়ে থাকে এবং অন্ত্রের জীবাণুর বৈচিত্র্যকে মাছের স্বাস্থ্য এবং বিপাকীয় ক্ষমতার বায়োমার্কার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। মাছের অন্ত্রে বৈচিত্র্য এবং মাইক্রোবায়োটার অস্থিরতা মাছের রোগের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত, পরিবেশগত চাপ সহ অসংখ্য বাধা মাছের অন্ত্রের মাইক্রোবায়োটা বিপর্যস্ত করে এবং প্যাথোজেনের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে।- (তৃতীয় ও শেষ পর্ব)





















