কৃষিবিদ গোলাম সারোয়ার:একটি প্রশ্ন আজ আমাদের সবার বিবেককে নাড়া দেওয়া উচিত তা হলো আপনি কি শুধু মাছ বিক্রি করতে চান, নাকি মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে চান? মাছ চাষে অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কখনোই আধুনিক প্রযুক্তির পরিচয় নয়; বরং এটি অনেক ক্ষেত্রে দুর্বল ব্যবস্থাপনার লক্ষণ।
রোগ দেখা দেওয়ার পর ওষুধের ওপর নির্ভরশীল হওয়ার চেয়ে রোগই যেন না হয় এমন খামার ব্যবস্থাপনাই আধুনিক বিশ্বের লক্ষ্য। আজ পৃথিবীর উন্নত দেশগুলো মাছ উৎপাদনের পাশাপাশি খাদ্যের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। কারণ তারা জানে, ভোক্তার আস্থা হারালে বাজারও হারাতে হয়।
বাংলাদেশের ফিড কোম্পানি, অ্যাকুয়া মেডিসিন কোম্পানি এবং ফিশারিজে অধ্যয়ন করা প্রতিটি তরুণ পেশাজীবীর প্রতি আমার আহ্বান আপনার পরিচয় শুধু একজন বিক্রয়কর্মী নয়; আপনি একজন বিজ্ঞানভিত্তিক পরামর্শদাতা। আপনার একটি সঠিক পরামর্শ একটি খামারকে বাঁচাতে পারে, একটি ভুল পরামর্শ একটি খামারকে ক্ষতির মুখে ঠেলে দিতে পারে।
খামারিদের প্রতিও আমার বিনীত কিন্তু দৃঢ় আহ্বান মনে রাখবেন, ওষুধ কখনো ভালো ব্যবস্থাপনার বিকল্প নয়। পরিষ্কার পানি, মানসম্মত পোনা, সুষম খাদ্য, নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ এবং বায়োসিকিউরিটিই লাভজনক মাছ চাষের আসল ভিত্তি। আমরা যদি আজ অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমাতে না পারি, তবে আগামী দিনে এর মূল্য দিতে হবে আমাদের সন্তানদের, আমাদের ভোক্তাদের এবং আমাদের দেশের মৎস্যখাতকে। কিন্তু যদি আজই আমরা বিজ্ঞানভিত্তিক, দায়িত্বশীল ও অ্যান্টিবায়োটিক-মুক্ত মাছ চাষকে জাতীয় অঙ্গীকারে পরিণত করি, তাহলে বাংলাদেশ শুধু নিরাপদ মাছ উৎপাদনেই নয়, বিশ্ববাজারেও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে পারবে।
তাই আমি একটি জাতীয় উদ্যোগের প্রস্তাব করছি—
"প্রতি ইউনিয়নে ১০টি অ্যান্টিবায়োটিক-মুক্ত মডেল মৎস্য খামার।"
এই ১০টি খামার হবে পরিবর্তনের সূচনা। এখান থেকেই ছড়িয়ে পড়বে নতুন চিন্তা, নতুন প্রযুক্তি এবং নতুন দায়িত্ববোধ। একজন সফল খামারি আরও দশজনকে উদ্বুদ্ধ করবেন, একটি ইউনিয়ন একটি উপজেলাকে বদলাবে, একটি উপজেলা একটি জেলাকে এবং একদিন পুরো বাংলাদেশকে।
আসুন, আমরা সবাই প্রতিজ্ঞা করি—
"অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক নয়, বিজ্ঞান হবে আমাদের শক্তি; বায়োসিকিউরিটি হবে আমাদের অভ্যাস; নিরাপদ মাছ হবে প্রতিটি পরিবারের অধিকার; আর টেকসই মৎস্যচাষ হবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পরিচয়।"
মনে রাখবেন—
"আজ আপনি যে মাছ উৎপাদন করছেন, সেটিই আগামীকাল আপনার নিজের সন্তানের খাবারের থালায়ও উঠতে পারে। তাই নিরাপদ মাছ উৎপাদন শুধু পেশাগত দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব, একটি দেশপ্রেম এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি আমাদের অঙ্গীকার।"
-লেখক: সিনিয়র টিএসসি
রিজিওনাল টেকনিক্যাল স্পেশালিষ্ট ( একুয়া), ময়মনসিংহ।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল পিএলসি।



