এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:পোল্ট্রি খাতকে আরও নিরাপদ, আধুনিক ও লাভজনক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ডস পোল্ট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন-বাংলাদেশ শাখা (WPSA-BB) এর উদ্যোগে সিলেটে দিনব্যাপী বিভাগীয় কারিগরি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (০৪ জুলাই, ২০২৬) সকালে মৌলভীবাজারের হোটেল রেস্ট ইন-এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে নিবন্ধনের মাধ্যমে কর্মশালা শুরু হয়। কর্মশালার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন জনাব মোহাম্মদ নাজমুস সাকিব হামিম, কার্যকরী সদস্য, ওয়াপসা-বিবি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. আবু জাফর মোঃ ফৈরদৌস, পরিচালক, প্রাণিসম্পদ দপ্তর, সিলেট। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনাব মোঃ ইমরান হোসাইন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, অয়েস্টার পোল্ট্রি অ্যান্ড ফিসারিজ লিমিটেড; ডা. মোঃ নুরুল ইসলাম শাওন, কোষাধ্যক্ষ, ওয়াপসা-বিবি; এবং জনাব মোঃ আজমল হোসেন, সহ-সভাপতি, ওয়াপসা-বিবি।
কর্মশালার সভাপতিত্ব করেন প্রফেসর ড. মোঃ ইলিয়াস হোসেন, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক, ওয়াপসা-বিবি এবং আহ্বায়ক, বিভাগীয় কারিগরি কর্মশালা কমিটি। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন জনাব ডাঃ মোঃ রাকিবুর রহমান।
কর্মশালায় ওয়াপসা-বিবির কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্য, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন জেলার প্রাণিসম্পদ প্রতিনিধি, ভেটেরিনারি চিকিৎসক, পোল্ট্রি উদ্যোক্তা, খামারি, শিক্ষার্থী এবং পোল্ট্রি শিল্পের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ কর
কর্মশালায় “নিরাপদ ও আদর্শ ব্রয়লার খামার তৈরিতে পুষ্টি ও ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব” বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন জনাব মোঃ মাহমুদুল হাসান, সিনিয়র ম্যানেজার, নারিশ এগ্রো লিমিটেড।
এছাড়া “নিরাপদ ও আদর্শ ব্রয়লার খামার তৈরিতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার গুরুত্ব” বিষয়ে কারিগরি উপস্থাপনা করেন ডা. মোঃ জোনায়েদ কবীর, ইউএলও, গোলাপগঞ্জ, সিলেট।
পরে “কারিগরি সমস্যার উন্মুক্ত আলোচনা” সেশন পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. এম. রাশেদ হাসনাত, পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগ, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। এ সময় অংশগ্রহণকারী খামারিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও করণীয় বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ পান।
প্রধান অতিথি ড. আবু জাফর মোঃ ফেরদৌস বলেন, দেশের পোল্ট্রি শিল্প বর্তমানে প্রাণিজ আমিষের অন্যতম প্রধান উৎস। এ শিল্পকে আরও টেকসই করতে হলে নিরাপদ উৎপাদন, বায়োসিকিউরিটি নিশ্চিতকরণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, মাঠপর্যায়ের খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি ছাড়া পোল্ট্রি শিল্পের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব।
ডা. মোঃ নুরুল ইসলাম শাওন বলেন, গবেষণা, প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয় ঘটিয়ে দেশের পোল্ট্রি খাতকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে হবে। এ ক্ষেত্রে ওয়াপসা-বিবি দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
জনাব মোঃ ইমরান হোসাইন বলেন, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য সঠিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, উন্নত মানের ফিড এবং আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জনাব মোঃ আজমল হোসেন বলেন, খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং লাভজনক খামার পরিচালনা নিশ্চিত করা সম্ভব।
সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ ইলিয়াস হোসেন বলেন, দেশের পোল্ট্রি খাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হলে গবেষণা, শিক্ষা, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি খাতের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি বলেন, বিভাগীয় পর্যায়ে এ ধরনের কর্মশালা খামারিদের বাস্তব সমস্যার সমাধান এবং নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
আয়োজকরা জানান, দেশের বিভিন্ন বিভাগে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কারিগরি কর্মশালা আয়োজনের মাধ্যমে পোল্ট্রি খাতের টেকসই উন্নয়ন, নিরাপদ উৎপাদন এবং খামারিদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে ওয়াপসা-বিবি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।



