এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ যাতে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ভোগ করতে পারে এবং স্বাধীনতার সুফল পায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন থাকতে হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই স্মৃতি সমাবেশ ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, অন্যায়, অনিয়ম ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ সজাগ ও সচেতন থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না।
কৃষি মন্ত্রী বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দেশের মানুষ যেভাবে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলন করেছে, ভবিষ্যতেও অন্যায় ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একইভাবে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। একটি মহল বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে এখনো ষড়যন্ত্র করছে। তারা বিভিন্ন অজুহাতে দেশে অস্থিতিশীল ও উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করতে পারে। তাই দেশের মানুষকে সবসময় সজাগ ও সচেতন থাকতে হবে। জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো ষড়যন্ত্রই গণতন্ত্রের পথ থেকে বাংলাদেশকে পিছিয়ে দিতে পারবে না।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় ও সুন্দর দেশ। কিন্তু অতীতে অন্যায়, লুটপাট, জুলুম এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপব্যবহারের কারণে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তিকে যারা দুর্বল করে দিয়ে গেছে, সেই ক্ষতি কাটিয়ে বাংলাদেশকে আবারও শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজে মতের পার্থক্য থাকতেই পারে। একজন যে বিষয়টি যেভাবে দেখেন, অন্যজন সেভাবে নাও দেখতে পারেন। কিন্তু ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং পারস্পরিক সহনশীলতাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। জনগণের যৌক্তিক মতামত ও শক্তিকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে। দেশের স্বার্থে জনগণের মতামতকে সম্মান জানিয়ে সরকার দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাবে।
তিনি আরও বলেন, যারা অতীতে স্বৈরাচারী ও অন্যায় কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা সুযোগের অপেক্ষায় থাকতে পারে। সুযোগ পেলে তারা আবারও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে। তাই অতীতের ত্যাগ ও আত্মত্যাগকে স্মরণ করে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। অনেক জীবন ও অঙ্গহানির বিনিময়ে যে পরিবর্তন অর্জিত হয়েছে, কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে সেই অর্জনকে নস্যাৎ হতে দেওয়া যাবে না।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের প্রসঙ্গে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। একইসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। আহতদের চিকিৎসাসেবা আরও উন্নত ও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আগামী দিনে আহতদের চিকিৎসা ও কল্যাণে সরকার আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাদের যেকোনো সমস্যা বা প্রয়োজনের কথা সংশ্লিষ্টদের জানাতে হবে। আহতদের চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও কল্যাণে সরকার এবং সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার জন্য মানবিক সংগঠন ‘বিবেক’-এর পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। আহতদের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, মানবিক সহায়তার এ ধরনের উদ্যোগ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের প্রতি সমাজের দায়িত্ববোধ ও সহমর্মিতার বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও মানবিক সংগঠন ‘বিবেক’-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ইউসুফ মোল্লা টিপু।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মিজ রোজী আক্তার, কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডাঃ আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ এবং কুমিল্লা মডার্ন হাই স্কুলের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি নিজাম উদ্দিন কায়সার।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ফেস দ্য পিপল-এর সম্পাদক সাইকুর রহমান সাগর।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, কুমিল্লা মহানগরের সাবেক আহ্বায়ক আবু রায়হান।



