রাজশাহীতে সাপ সংরক্ষণ ও সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

সমসাময়িক

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:রাজশাহীতে ‘সেভ দি নেচার এন্ড লাইফ’ এবং ‘কুন্ডলী ফাউন্ডেশন’-এর যৌথ উদ্যোগে গত ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে শাহমখদুম কলেজে সাপ উদ্ধার ও সচেতনতা বিষয়ক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রাজশাহী শহরের বিভিন্ন সংগঠনের স্বেচ্ছাসেবী তরুণ-তরুণীরা এতে অংশগ্রহণ করেন, যেখানে সাপের প্রাথমিক শনাক্তকরণ, সঠিক উদ্ধার পদ্ধতি এবং সাপে কামড়ানোর পর করণীয় প্রাথমিক চিকিৎসা বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। শাহ মখদুম কলেজের অধ্যক্ষ জনাব রেজাউল ইসলামের উপস্থিতিতে এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সেভ দি নেচার এন্ড লাইফের চেয়ারম্যান মোঃ মিজানুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের ডেপুটি চিফ ভেটেরিনারিয়ান ড. মোঃ হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ এবং বন্যপ্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ রাজশাহীর ওয়াইল্ড লাইফ ইন্সপেক্টর মোঃ জাহাঙ্গীর কবীর। চট্টগ্রাম থেকে আগত সাপ বিশেষজ্ঞ মিমি রেজওয়ানও প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনায় বক্তারা বাস্তুতন্ত্র ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে সাপের অপরিসীম ভূমিকা তুলে ধরেন। ড. আরিফ উল্লেখ করেন যে, সাপ প্রতিবছর প্রচুর ইঁদুর ও কীটপতঙ্গ খেয়ে ফসলের ক্ষতি রোধ করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে এবং পরিবেশের শক্তি প্রবাহ ও খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য রক্ষা করে। এছাড়া, সাপের বিষ থেকে ক্যাপ্টোপ্রিলের মতো উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ ও রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধী ওষুধ তৈরি হয়েছে এবং বর্তমানে ক্যান্সার গবেষণাতেও এর ব্যবহার হচ্ছে। অন্যদিকে, মোঃ মিজানুর রহমান জানান যে সাপের প্রাচুর্য ও বৈচিত্র্য যেকোনো পরিবেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যের নির্দেশক হিসেবে কাজ করে।

কর্মশালায় সাপে কামড়ালে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, আক্রান্ত অঙ্গ স্থির রেখে হৃৎপিণ্ডের নিচে রাখা এবং কোনো কাটাছেঁড়া বা চুষে ফেলার চেষ্টা না করার মতো প্রাথমিক চিকিৎসার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়। রাসেলস ভাইপার ও গোখরার মতো বিষধর সাপ এবং দাঁড়াশ ও জলবোড়ার মতো নিরীহ সাপ চেনার পাশাপাশি সাপ দেখলে তা হত্যা না করে প্রশিক্ষিত উদ্ধারকর্মীর মাধ্যমে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা জোর দিয়ে বলেন যে, সাপ মূলত আত্মরক্ষার্থেই আক্রমণ করে, তাই সঠিক জ্ঞান ও সচেতনতাই পারে সাপের প্রতি অহেতুক ভয় দূর করে প্রকৃতিতে প্রাণীটির সাথে মানুষের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে। সেশনটি শেষে সফলভাবে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট বিতরণের মাধ্যমে কর্মশালার সমাপ্তি ঘটে।