এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি: সমাজে প্রচলিত মানসিক রোগ নিয়ে কুসংস্কার ও ভীতি দূর করা এবং সিজোফ্রেনিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে রাজশাহীতে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বিশ্ব সিজোফ্রেনিয়া দিবস’ উপলক্ষে ২৫ মে ২০২৬ তারিখে রাজশাহীর ‘জামান মাইন্ড কেয়ার’-এর আয়োজনে এবং স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের সার্বিক সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কার্যালয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ও মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন ডা. রাকিবুজ্জামান শাইকোট। তিনি তাঁর বক্তব্যে সিজোফ্রেনিয়া রোগের বিভিন্ন লক্ষণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়গুলো বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। ডা. শাইকোট জোর দিয়ে বলেন, প্রাথমিক অবস্থায় রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হলে এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করলে সিজোফ্রেনিয়া আক্রান্ত রোগী পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারেন।
অনুষ্ঠানে চেয়ারপারসনের বক্তব্যে আরসি রাজশাহী সেন্ট্রালের পাস্ট প্রেসিডেন্ট ও আরআইপিএসএডি-৬৪ এর পাবলিক ইমেজ কো-কো-অর্ডিনেটর রোটারিয়ান ড. মো. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ বলেন, দেশের সাধারণ মানুষ অনেক সময়ই অসচেতনতার কারণে মানসিক রোগকে জ্বীন-ভূতের প্রভাব বলে ভুল করেন। নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের সৃষ্টি ‘মিসির আলী’ চরিত্রের সূত্র টেনে তিনি উল্লেখ করেন, সাহিত্যের মাধ্যমে এই রোগ সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া গেলেও গ্রামীণ সমাজে এখনো কুসংস্কার রয়ে গেছে। ফলে রোগীরা একদম শেষ মুহূর্তে এসে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। অনেকে আবার আসক্তির কারণে স্মৃতিশক্তি হারিয়ে সম্পূর্ণ মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন।
দেশের বিদ্যমান আইনি সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ আরও বলেন, "আমাদের দেশের বর্তমান আইন অনুযায়ী শুধুমাত্র ডোপ পজিটিভ ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তির অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু এর বাইরে অসংখ্য মানসিক রোগী সঠিক চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে ধ্বংসের দিকে যাচ্ছেন।" এই আইন সংশোধন করে প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের মানসিক রোগীকে পুনর্বাসন কেন্দ্রে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার জন্য তিনি সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী উইমেন কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক মো. সারওয়ার জাহান, রাজশাহী ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের ট্রেজারার রোটারিয়ান মো. সেলিম মনোয়ার এবং আরসি রাজশাহী সেন্ট্রালের প্রেসিডেন্ট রোটারিয়ান মো. মিজানুর রহমান।
আয়োজক সংস্থা জামান মাইন্ড কেয়ারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, অত্যন্ত স্বল্প পরিসরে তাদের এই যাত্রা শুরু হলেও ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় এবং সহজলভ্য করে তোলার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস ও জামান মাইন্ড কেয়ারের সদস্যদের যৌথ সঞ্চালনা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।


