ডেইরি রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টার, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক “বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৬” উদযাপন

সমসাময়িক
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:অদ্য ০৪ জুন, ২০২৬ খ্রি. তারিখ রোজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) এর ডেইরি রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের উদ্যোগে “বিশ্ব দুগ্ধ দিবস-২০২৬” উদযাপন উপলক্ষ্যে বাচ্চাদের দুগ্ধপান কর্মসূচি এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

“Celebrating the Contribution of Women Farmers” এই মূল প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও বিশ্ব দুগ্ধ দিবস প্রতিপালিত হচ্ছে।

বেলা ১১.০০ ঘটিকায় প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে বাচ্চাদের দুগ্ধপান কর্মসূচির মাধ্যমে দিবস পালনের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে (চতুর্থ তলা) একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। দুধ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, দুগ্ধ শিল্পের বিকাশ ও দুগ্ধ শিল্পের উন্নয়নে বিএলআরআই কর্তৃক গৃহীত কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা ও পর্যালোচনার লক্ষ্যে দিবসটি প্রতিপালিত হয় এবং সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর। আর সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক। এছাড়াও, বিএলআরআই এর সকল বিভাগীয় প্রধান, দপ্তর প্রধান, শাখা প্রধানসহ বিএলআরআই এর সকল পর্যায়ের বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তাগণ সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন।

পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ হতে পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সেমিনারটি শুরু্ হয়। শুরুতেই আমন্ত্রিত অতিথিদের উদ্দেশ্যে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ড. এ বি এম মুস্তানুর রহমান, অতিরিক্ত পরিচালক, বিএলআরআই।

স্বাগত বক্তব্যের পরে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডেইরি রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও দপ্তর প্রধান ড. মো. রাকিবুল হাসান। এসময় তিনি দুধের পুষ্টিগুণ ও ‍দুধ পানের গুরুত্ব উপস্থাপনের পাশাপাশি সমগ্র বিশ্বে ও বাংলাদেশে দুধ উৎপাদনের চিত্র, দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনের চিত্র, দুগ্ধ খামার ব্যবস্থাপনা, খামারে নারীর ভূমিকা ও নারীর ক্ষমতায়নে দুগ্ধ খামারের ভূমিকা, দেশীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানসমূহের গবেষণা কার্যক্রম ও উদ্ভাবিত প্রযুক্তিসমূহ বাংলাদেশের দুগ্ধ শিল্পের বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জসমূহ, চ্যালেঞ্জসমূহ হতে উত্তরণের উপায় ও ভবিষ্যৎ করণীয় ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনের পরে অনুষ্ঠিত হয় বিশেষজ্ঞ আলোচনা। এসময় আলোচনা করেন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. জিল্লুর রহমান এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রাণী উৎপাদন গবেষণা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. বিপ্লব কুমার রায়। এরপর একটি উন্মুক্ত আলোচনা পর্বও অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনায় বক্তাগণ উল্লেখ করেন, জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার উদ্যোগ প্রতি বছর ১ জুন বিশ্ব দুগ্ধ দিবস পালন করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রায় ২৫০ মিলিলিটার দুধ পান করা উচিত। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যমতে বর্তমানে আমাদের দেশে মাথাপিছু দৈনিক দুধের প্রাপ্যতা বেড়ে ২৩৯.২৯ মিলিলিটারে পৌঁছেছে। তবে উন্নত দেশের তুলনায় আমাদের দেশে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্য গ্রহণের প্রবণতা এখনও কম। ফাস্টফুড, অতিরিক্ত তেল-মসলা ও চর্বিযুক্ত খাবারের প্রতি মানুষের ঝোঁক বেশি, এতে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ছে। এ অবস্থায় পুষ্টিকর ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী খাদ্য হিসেবে দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য একটি উত্তম বিকল্প। সেই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের উৎপাদন বৃদ্ধি, বৈচিত্র আনয়ন এবং ব্যবহার বৃদ্ধি করাকে সামনে রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর বলেন, দুধের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রতিদিন আমরা দুধ ব্যবহার করছি এবং পান করছি। তবে দুগ্ধজাত পণ্যের বৈচিত্রায়ন করতে হবে, দুধকে নানা শ্রেণির মানুষের কাছে জনপ্রিয় করতে হবে। পাশাপাশি গাভী পালনকে জনপ্রিয় করতে হবে এবং এজন্য আমাদের দেশের ব্যাংকগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি এসময় তিনি প্রাণী খাদ্যের মূল্য কমানোর লক্ষ্যে এবং রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকা উদ্ভাবনের লক্ষ্যে কার্যক্রম গ্রহণের জন্যও নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভাপতির বক্তব্যে বিএলআরআই এর মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক বলেন, দুধ একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য। আমরা বর্তমানে দুধের মাথাপিছূ চাহিদার লক্ষ্যমাত্রা পূরণের দ্বারপ্রান্তে আছি। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে বিএলআরআই এর ডেইরি রিসার্চ এন্ড ট্রেনিং সেন্টারের ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এই সেন্টারের মাধ্যমে বর্তমানে বিভিন্ন ভ্যালু এডেড দুগ্ধপণ্য নিয়ে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দুধের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবন এবং এসব জাতের খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও রোগ ব্যবস্থাপনা নিয়েও গবেষণা করতে হবে। গবেষণার মাধ্যমে খাদ্য খরচ কমানোর লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণে জাতীয়ভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। গাভী পালনের পাশাপাশি মহিষের সংখ্যা ও ‍উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমাদের কাজ করতে হবে।