এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিংগা ইউনিয়নে অসহায়, নিম্নআয়ের ও দুর্যোগপ্রবণ পরিবারের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছে আইএসডিই বাংলাদেশ। রোববার (৭ জুন) চিরিংগা ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় ৫০০ পরিবারের হাতে খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
সৌদি আরবের কিং সালমান হিউম্যানিটারিয়ান এইড অ্যান্ড রিলিফ সেন্টারের অর্থায়নে পরিচালিত এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে আইএসডিই বাংলাদেশ। আয়োজকেরা জানান, খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় থাকা পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের সাময়িক স্বস্তি দেওয়ার লক্ষ্যেই এ সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বিতরণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন চিরিংগা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা নুরউদ্দীন সোহেল, সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা আতাউল গণি পারভেজ, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এম. লিয়াকত আলী (২ নম্বর ওয়ার্ড), মো. ইসমাইল (৯ নম্বর ওয়ার্ড) এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য রুহানা বেগম (৫, ৬ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড)।
আইএসডিই বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা ব্যবস্থাপক, জালাল উদ্দীন এবং প্রকল্প কর্মকর্তা তাজ উদ্দীনসহ সংস্থার অন্যান্য প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে নুরউদ্দীন সোহেল বলেন, “বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অনেক পরিবার দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। এ ধরনের মানবিক সহায়তা মানুষের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করে এবং তাদের মধ্যে আশার সঞ্চার করে।”
আতাউল গণি পারভেজ বলেন, “সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো একটি মহৎ উদ্যোগ। সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থাগুলোর এ ধরনের কার্যক্রম দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”
আইএসডিই বাংলাদেশের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর জাহাঙ্গীর আলম বলেন, “আমরা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় প্রকৃত সুবিধাভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
খাদ্য সহায়তা পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা। স্থানীয় বাসিন্দা হাজেরা বেগম বলেন, “সম্প্রতি আমার ঘরবাড়ি পুড়ে সব শেষ। এর মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। এই সহায়তা আমাদের পরিবারের জন্য অনেক উপকারে এসেছে।”
আরেক সুবিধাভোগী মোহাম্মদ ইউনুছ বলেন, “কাজের সুযোগ কমে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। খাদ্য সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছি।”
আইএসডিই বাংলাদেশ জানায়, এর আগে হোস্ট কমিউনিটির বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলসহ রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে ৩৪ হাজার ৫২৫ জন সুবিধাভোগীর মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে। মানবিক সহায়তার এ ধারাবাহিক কার্যক্রমের মাধ্যমে সংস্থাটি দুর্যোগপ্রবণ ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।





















