এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম:পরিবেশ কীর্তিমান পুরস্কার' ক্যাটাগরিতে 'দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫' পেয়েছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ এন্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবীব। শুক্রবার (১০ জুলাই) বাংলা একাডেমির আব্দুল করিম সাহিত্য বিশারদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে পুরস্কারটি প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে আয়োজন করে ব্র্যাক ব্যাংক এবং পরিবেশবাদী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তরুণপল্লব।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আব্দুল আওয়াল মিন্টু প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে যোগদান করেন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
অধ্যাপক ড. হাবীব একজন খ্যাতিমান সামুদ্রিক জীববিজ্ঞানী, গবেষক ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণবিদ। দীর্ঘদিন ধরে তিনি বাংলাদেশের সামুদ্রিক পরিবেশের জীববৈচিত্র্য ও সংরক্ষণ, সমুদ্রসম্পদের টেকসই সম্প্রসারণ এবং নীল অর্থনীতি (Blue Economy) উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ বায়োলজি এন্ড জেনেটিক্স বিভাগের অধ্যাপক এবং ফিশারিজ ও মেরিন সায়েন্স অনুষদের একজন পথিকৃৎ শিক্ষাবিদ হিসেবে তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি দেশের সামুদ্রিক ও উপকূলীয় প্রতিবেশ রক্ষায় অনন্য ভূমিকা পালন করে চলেছেন।
তাঁর উদ্যোগে ও পরিকল্পনায় বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল সমৃদ্ধ দ্বীপ সেন্টমার্টিনের সামুদ্রিক আবর্জনা ও প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতা রোধে সৈকতের পরিত্যক্ত প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে তৈরি করা হয় সচেতনতামূলক বিশালাকার মাছ, কচ্ছপ ও জেলিফিশের ম্যুরাল, যা বৈশ্বিক ও দেশীয় গণমাধ্যমে (যেমন বিবিসি বাংলা) প্রচার পেয়ে দ্বীপটিকে 'মেরিন প্রোটেক্টেড এরিয়া' হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করেছে। প্রবাল সমুদ্রের তলদেশে সরাসরি স্কুবা ডাইভিংয়ের মাধ্যমে প্রবাল প্রতিবেশের বাস্তব চিত্র ও মলিকুলার ট্যাক্সনমি (ডিএনএ বারকোড) নিয়ে কাজ করে তিনি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো Underwater Citizens of Saint Martin's Island এবং Reef Fishes of Saint Martin's Island শীর্ষক জনপ্রিয় আকরগ্রন্থ ও অ্যালবামের পাশাপাশি সুন্দরবনের জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর বিশেষ বই প্রকাশ করেছেন।
এছাড়াও, দীর্ঘ ৫০ বছরের গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে তিনি বাংলাদেশের সামুদ্রিক মাছের সংখ্যা ৪৭৫ থেকে ৭৪০-এ হালনাগাদ করার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছেন এবং দেশের সামুদ্রিক ও স্বাদু পানির জীববৈচিত্র্যের ওপর দুটি সমৃদ্ধ ডিজিটাল তথ্যকোষ ও অনলাইন পোর্টাল প্রতিষ্ঠা করেছেন।
এবিষয়ে অধ্যাপক হাবীব এর অনুভূতি জানতে চাইলে তিনি বলেন- "আমরা যারা গবেষণা করি বা গবেষণা যাদের নেশা, তারা মুলত কাজ করি জ্ঞান সৃজনের জন্য, ছাত্রছাত্রীদের ভাল গবেষক হিসাবে গড়ে তোলার জন্য। সর্বোপরি দেশের উন্নয়নে ভুমিকা রাখার জন্য; কোনো পুরস্কার প্রাপ্তির জন্য নয়। তবে যেকোনো স্বীকৃতি কাজের কর্ম স্পৃহা ও কর্মোদ্যমকে অনেক বাড়িয়ে দেয়। তাই ব্র্যাক ব্যাংক ও তরু পল্লব নিবেদিত এই পদক পেয়ে আমি আনন্দিত। আমাকে পদক প্রদান করে সম্মানিত করার জন্য পদক প্রদানকারীদের আমি জানাই আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা । আমার সকল গবেষণা কর্মে যেসকল ছাত্রছাত্রী, সহকর্মী এবং ল্যাব মেম্বাররা আমার পাশে থেকে সমর্থন ও সহযোগিতা করে গেছেন তাদের সকলের প্রতিও রইল আমার অনেক কৃতজ্ঞতা। আমি সকলের দোয়া প্রার্থী যেন ভবিষ্যতে আরো ভাল ভাল গবেষণার মাধ্যমে জলজ ও সামুদ্রিক পরিবেশ ও এর জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষনে ভুমিকা রাখতে পারি।"



