বন্যাপ্রবণ চর থেকে পুষ্টি বাগান: তারুণ্যের উদ্যমে বদলে যাচ্ছে সাভারের কৃষিচিত্র

মাঠ পর্যায়ের প্রতিবেদন
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

ডেস্ক রিপোর্ট: সাভারের চরাঞ্চলে নদীর পানি প্রতিবছর ভাসিয়ে নিয়ে যায় কৃষকের সারা মৌসুমের পরিশ্রম। কিন্তু এবার সেই ঝুঁকিপূর্ণ চরেই ১২টি প্রদর্শনী প্লটের মধ্যে ১০টির ধান সফলভাবে ঘরে তুলেছেন প্রান্তিক চাষীরা বন্যা-সহনশীল ও জিংক সমৃদ্ধ 'ব্রি ধান-১০২' চাষ করে, যা কিছুদিন আগেও অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হতো।

এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের তরুণ-নেতৃত্বাধীন “Climate Action at Local Level” (CALL) প্রকল্প, যা বাস্তবায়িত হচ্ছে GAIN-এর কারিগরি সহযোগিতা ও সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের অর্থায়নে। ধানের প্লটের পাশাপাশি আশুলিয়ার নয়াপাড়া, সাধুপাড়া ও শেওলাটেকি গ্রামের ১০টি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ পরিবার বসতবাড়ির অব্যবহৃত জমিতে গড়ে তুলেছে পুষ্টি বাগান প্রায় ১৫ ধরনের মৌসুমি সবজি, রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়াই, পরিবেশবান্ধব ফেরোমন ফাঁদে সুরক্ষিত। বাগানের সাফল্য দেখে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন প্রতিবেশীরাও।

এই মাঠ আর বাগানের পেছনে দাঁড়িয়ে আছেন ১৬০ জনেরও বেশি প্রশিক্ষিত তরুণ-তরুণী স্বেচ্ছাসেবক যাদের অর্ধেক নারী যারা সাভার ও গাজীপুর সদরে ১৬টি সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জলবায়ু-সচেতন কৃষি ও পুষ্টির বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন ঘরে ঘরে। ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ ৬০ জন যুব প্রতিনিধি ToT কর্মশালায় নিজেদের এলাকার জন্য কর্মপরিকল্পনা তৈরি করেন। গত মার্চে কৃষিবিদ ড. মো. মনির উদ্দিনের নেতৃত্বে GAIN-এর কারিগরি দল মাঠে গিয়ে কৃষকদের হাতে-কলমে পরামর্শ দেন। 

প্রকল্পের নীরব বিপ্লব পৌঁছে গেছে ইউনিয়ন পরিষদেও সাভার, আশুলিয়া ও ইয়ারপুরে নবগঠিত মাল্টি-স্টেকহোল্ডার প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ইউনিয়ন বাজেটে স্থান পেয়েছে পুষ্টি ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি।

অভিযাত্রিক ফাউন্ডেশনের প্রেসিডেন্ট আহমেদ ইমতিয়াজ জামি বলেন, “তরুণদের শুধু সুবিধাভোগী নয়, নেতা হিসেবে দেখলে কী হতে পারে — এই মাঠগুলোই তার প্রমাণ। বন্যা থেকে ফসল বাঁচানো একজন কৃষক, ঘরের পাশে পনেরো রকম সবজি ফলানো একজন মা — এই গল্পগুলোই বলে দেয় আমাদের মডেল কাজ করছে।”