
এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় স্মার্ট ও টেকসই মৎস্য চাষের লক্ষ্যে একদিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) মুক্তাগাছার বনানী এন্টারপ্রাইজে নারিশ ফিডের উদ্যোগে এবং ইউএস গ্রেইনস অ্যান্ড বায়োপ্রোডাক্টস কাউন্সিল এর কারিগরি সহায়তায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
`অ্যাকুয়াকালচারে উৎকর্ষ অর্জন: পুকুরভিত্তিক চাষাবাদ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার সর্বোত্তম পদ্ধতি' শীর্ষক এ প্রশিক্ষণে প্রায় ৭০ জন মৎস্যচাষি, ফিড ডিলার ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
কর্মশালায় টেকসই উৎপাদন, সুষম খাদ্য প্রয়োগ, পুকুর ব্যবস্থাপনা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। প্রথম সেশনে মাছ চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি নিয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং দ্বিতীয় সেশনে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
নারিশ ফিডস লিমিটেডের জুনিয়র এজিএম মো: ওবায়দুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউএস গ্রেইনস অ্যান্ড বায়োপ্রোডাক্টসের গ্লোবাল স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ট্রেড ম্যানেজার মার্ক সিভিয়ার, নারিশ ফিডস লিমিটেডের সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জিএম এস. এস. এ. হক, সেলস অ্যান্ড সার্ভিস সিনিয়র ডিজিএম ডা.মুহাম্মদ মুছা কালিমুল্লাহ, মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড মহিউদ্দিন আমিরুল কবির চৌধুরীসহ প্রায় ৫০ জন খামারি।
এই কর্মশালায় আধুনিক অ্যাকুয়াকালচার প্রযুক্তি, পুকুর ব্যবস্থাপনা, সুষম খাদ্য প্রয়োগ, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সর্বোত্তম পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মৎস্যচাষী ইলিয়াস হোসেন বলেন, আমি গত ১০ বছর ধরে নারিশের ফিড ব্যবহার করছি। এর গুণগত মান অনেক ভালো। এই ফিড ব্যবহারে আমার পুকুরের মাছ দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং আমি লাভবান হয়েছি। তাই আমি অন্যান্য মৎস্যচাষীদেরও নারিশের ফিড ব্যবহারের পরামর্শ দিই।
মুক্তাগাছার বনানী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী হাজী শহিদুল ইসলাম (খোকন) বলেন, মৎস্যচাষি, ডিলার এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান একসাথে কাজ করলে মুক্তাগাছা একটি মডেল উপজেলায় পরিণত হবে।
গ্লোবাল স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ট্রেড ম্যানেজার মার্ক সিভিয়ার বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিদের সমন্বয়ে গঠিত এবং ৯টি অফিসের মাধ্যমে ৭০টি দেশে কাজ করছে। লক্ষ্য একটাই কম খরচে খামারিদের লাভজনক করা। ময়মনসিংহ মাছ চাষের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হওয়ায় এখান থেকেই কার্যক্রম শুরু করেছি। নারিশের সহযোগিতায় বৈজ্ঞানিক মাছ চাষ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করে তা সারাদেশে বিস্তারের পরিকল্পনা রয়েছে। এ প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কম ফিডে বেশি উৎপাদন নিশ্চিত করা এবং পানির গুণাগুণ অক্ষুন্ন রাখা।
প্রশিক্ষণ প্রদান করেন আন্তর্জাতিক মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. মহিউদ্দিন আমিরুল কবির চৌধুরী। তিনি বলেন, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা, মানসম্মত পোনা ও উন্নত পুকুর ব্যবস্থাপনা ছাড়া টেকসই উৎপাদন সম্ভব নয়। পাশাপাশি পানিতে অক্সিজেনের ভারসাম্য ও অ্যান্টি-স্ট্রেস ব্যবস্থাপনার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
তিনি আরও বলেন, মাছ চাষে সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাপমাত্রা বেশি বা কম হলে মাছের খাদ্য গ্রহণ কমে যায়, তাই সে অনুযায়ী খাদ্যের পরিমাণ সমন্বয় করতে হয়। খাদ্য, পোনা ও পুকুর ব্যবস্থাপনায় ত্রুটি হলে মাছের স্ট্রেস বাড়ে এবং মৃত্যুহার বৃদ্ধি পায়। পানিতে অক্সিজেনের স্বল্পতা এ সমস্যা আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই এয়ারেটর ব্যবহার ও অ্যান্টি-স্ট্রেস ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
অনুষ্ঠানে এস. এস. এ. হক বলেন, মানসম্মত ফিড ব্যবহারে পুকুরের পরিবেশ ভালো থাকে, মাছের বৃদ্ধি ও রং উন্নত হয়। উৎপাদন খরচ কমিয়ে লাভ বাড়াতে ভালো ফিড ও উন্নত পোনা অপরিহার্য। নারিশ ফিড সেই লক্ষ্য পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখছে।
মাছ চাষে পানির গুণাগুণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পানিতে পর্যাপ্ত দ্রবীভূত অক্সিজেন না থাকলে মাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তাই প্রাকৃতিক ও কৃত্রিম উভয় উপায়ে অক্সিজেনের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। খাদ্য প্রয়োগের পর মাছের অক্সিজেনের চাহিদা বেড়ে যায়, ফলে এ সময় বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হয়।
ডা.মুহাম্মদ মুছা কালিমুল্লাহ, বলেন, মাছ চাষ একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতি বছর একই পরিমাণ লাভ পেতে হলে পুকুরের মাটি ও পানির গুণাগুণ ঠিক রাখা, নিয়মিত পরিচর্যা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পুকুর শুকিয়ে সূর্যের আলো পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা জরুরি।
জুনিয়র এজিএম মো: ওবায়দুল ইসলাম বলেন, নারিশ ফিড নিরাপদ পুষ্টি উপাদানের সমন্বয়ে উৎপাদিত, যা মাছের সুস্বাস্থ্য ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক।
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়নের জন্য কুইজ আয়োজন করা হয় এবং পরে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
























