
বাকৃবি প্রতিনিধিঃ পবিত্র রমজানের মহিমায় নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করার উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) শেরপুর–জামালপুর জেলা সমিতির উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন অনুষদের গ্যালারিতে এই দোয়া ও ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। ইফতারের আগ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সুস্থতা কামনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে সব ধরনের ষড়যন্ত্র থেকে মুক্ত রাখার জন্য বিশেষ দোয়া করা হয়। এছাড়া নবীন শিক্ষার্থীদের পরিচয় পর্ব শেষে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।
এ সময় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মো. ইসমাইল হোসেনের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন বাকৃবির অ্যানিমেল সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আবুল হাশেম, মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহেদ রেজা এবং বাকৃবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির। এছাড়াও বিভিন্ন অনুষদের প্রায় ১২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
এ সময় বক্তারা বলেন, কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বড় ভাইদের সঙ্গে যোগাযোগ বা নেটওয়ার্কিং বাড়াতে হবে। কারণ এই নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ এবং স্কলারশিপ পাওয়া সহজ হয়। আমরা শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধির জন্য সর্বদা উৎসাহিত করি এবং তাদের সহায়তার জন্য সব সময় প্রস্তুত আছি।
অধ্যাপক ড. হুমায়ূন কবির বলেন, বর্তমান এই জেলা সমিতির সংগঠনটি আগের তুলনায় অনেক বেশি গোছানো। আমরা শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধির জন্য উৎসাহিত করি, কিন্তু অনেক সময় তারা এতে নিরুৎসাহিত থাকে।
অধ্যাপক ড. আবুল হাশেম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আমাদের পরিচিত হওয়ার অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে এ ধরনের ইফতার মাহফিল। রমজান মাস অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ একটি মাস। এ মাসে আল্লাহ তায়ালা আমাদের প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ওপর পবিত্র কোরআন নাজিল করেছেন। তাই এ মাসের গুরুত্ব অপরিসীম। ব্যক্তি, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে সফল হতে আমাদের সকলেরই পবিত্র কোরআন বুঝে বুঝে তিলাওয়াত করা উচিত। সঠিক পথে থাকার জন্য হৃদয়ে সব সময় আল্লাহভীতি বা তাকওয়া সৃষ্টি করতে হবে।
মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমাদের এই জেলা সমিতিটি দুই জেলার সমন্বয়ে গঠিত। তাই এই সমিতির শিক্ষার্থীদের মধ্যে বৈচিত্র্যও অনেক। ইফতার মাহফিলের মতো এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে নবীন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয় এবং তাদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথাও শোনা যায়। কেউ বিপদে পড়লে আমরা সব সময় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত আছি। আশা করি, ভবিষ্যতে এই সমিতির সদস্যরা সব সময় একে অপরের পাশে থাকবে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করবে।”
























