অঞ্জন মজুমদারঃবাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ অঞ্চলের একটি দেশ, যার জন্মই হয়েছে নদী ও পলিমাটির উপর ভিত্তি করে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীব্যবস্থার মিলনে গড়ে ওঠা এই ভূখণ্ডে হাজার হাজার নদী, খাল, বিল, হাওর ও জলাভূমি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের জীবন, কৃষি, মৎস্য, পরিবহন এবং পরিবেশের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। বাংলার সভ্যতা, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতি নদীকেন্দ্রিক; একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি জনপদ নদী বা খালের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই জলপথই ছিল যোগাযোগ ও বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম কিন্তু গত কয়েক দশকে অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্প দূষণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশের নদী–খাল–জলাশয় দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে।ফলে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাকৃতিক জলব্যবস্থার ধ্বংস।

কৃষিবিদ ড. এস.এম. রাজিউর রহমান

ভূমিকা

বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির সাথে যদি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটানো যায়, তবে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাণিখাদ্য সংকট সমাধানের একটি অনন্য মডেলে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হলো গবাদি প্রাণি পালন। কিন্তু বর্তমানে এই খাতটি গুরুতর খাদ্য সংকটের মুখোমুখি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে চারণভূমি কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক ঘাসের প্রাপ্যতা হ্রাস পাওয়ায় কৃষকদের জন্য প্রাণিপালন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

এগ্রিলাইফ প্রতিবেদক:অ্যাকোয়া নিউট্রিশন ও অ্যাকোয়াকালচার শিল্পে ট্যানিন (Tannin) বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ হিসেবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। পুষ্টিবিদ সাইফি নাসিরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্যানিন হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক পলিফেনলিক যৌগ, যা উদ্ভিদের বাকল, পাতা, বীজ, ফল ও কান্ডে পাওয়া যায় এবং মাছ ও চিংড়ির খাদ্যে একটি কার্যকর, নিরাপদ ও অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত সংযোজন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্যানিনকে অনেক সময় ট্যানিক অ্যাসিডও বলা হয়, যা সাধারণত চেস্টনাট, কোয়ার্কাস, সিসালপিনিয়া ও অন্যান্য উদ্ভিদ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক অ্যাকোয়াফিড শিল্পে যখন ফিশমিলের বিকল্প হিসেবে উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের ব্যবহার বাড়ছে, তখন সেইসব উপাদানে উপস্থিত পলিফেনলিক ট্যানিন পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান,মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)

পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশের কৃষি

বাংলাদেশের কৃষি আজ এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি। জনসংখ্যা এখনো বছরে প্রায় ১.১২ শতাংশ হারে বাড়ছে, কিন্তু আবাদি জমি কমছে প্রায় ০.২৪ শতাংশ হারে। স্বাধীনতার সময় মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ২৮ শতক; এখন তা ১০ শতকের নিচে নেমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জমির উর্বরতা কমে যাওয়া, নগরায়ণ, শিল্পায়ন আর জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রভাব।

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকমঃদক্ষিণ এশিয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে টেকসই কৃষি ব্যবস্থার সম্ভাবনা তুলে ধরে “Potentials of Agroforestry for Rural Development and Climate Resilient Farming in South Asia” শীর্ষক একটি নতুন গবেষণাগ্রন্থ প্রকাশ করেছে সার্ক সার্ক কৃষি কেন্দ্র। গতকাল সোমবার (৯ মার্চ ২০২৬) ঢাকার অমর একুশে বইমেলায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়। বইটি সম্পাদনা করেছেন ড. রাজা উল্লাহ খান, ড. মো. হারুনুর রশিদ, পলাশ চন্দ্র গোস্বামী এবং মো. আবুল বাশার। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় গ্রামীণ জীবিকা উন্নয়ন ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থায় আগ্রোফরেস্ট্রির গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।

বাকৃবি প্রতিনিধি:দীর্ঘ গবেষণার পর দেশে আমন ধানের নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা)। উচ্চফলন, ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও উন্নত পুষ্টিগুণের সমন্বয়ে উদ্ভাবিত হয়েছে ‘বিনা ধান২৭’ ও ‘বিনা ধান২৮’ নামের এই দুটি জাত। সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত জাতীয় বীজ বোর্ডের ১১৫তম সভায় জাত দুটি সারাদেশে চাষাবাদের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। এর মাধ্যমে বিনার উদ্ভাবিত ধানের মোট জাতের সংখ্যা দাঁড়াল ২৮-এ। বিনার উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের গবেষকদল এই দু’টি ধানের জাত উদ্ভাবন করেন।