
উন্নত মাছ চাষে লিভার সুস্থ রাখা কেন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
রণজিৎ দেবনাথ:বাংলাদেশে আধুনিক মাছ চাষ এখন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। নিবিড় পদ্ধতিতে কার্প ,পাঙ্গাস, তেলাপিয়া, গুলশা, পাবদা, গলদা ও ভেনামি চিংড়ি চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অধিক উৎপাদনের লক্ষ্যে চাষীরা উন্নতমানের ফিড ব্যবহার করছেন এবং মাছকে দ্রুত বৃদ্ধির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।

ড. মো. শরীফুল ইসলাম:বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা এবং জীবিকায় মৎস্য খাতের গুরুত্ব অপরিসীম। নদীমাতৃক এই দেশে প্রাকৃতিক জলাশয়—নদী, খাল, বিল ও হাওর—একসময় ছিল মাছের প্রধান উৎস। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, ভরাট, দখল ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এসব জলাশয়ের স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মৎস্য উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্যের ওপর।

অঞ্জন মজুমদারঃবাংলাদেশ পৃথিবীর বৃহত্তম বদ্বীপ অঞ্চলের একটি দেশ, যার জন্মই হয়েছে নদী ও পলিমাটির উপর ভিত্তি করে। গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র ও মেঘনা নদীব্যবস্থার মিলনে গড়ে ওঠা এই ভূখণ্ডে হাজার হাজার নদী, খাল, বিল, হাওর ও জলাভূমি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মানুষের জীবন, কৃষি, মৎস্য, পরিবহন এবং পরিবেশের ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে। বাংলার সভ্যতা, অর্থনীতি এবং সংস্কৃতি নদীকেন্দ্রিক; একসময় গ্রামবাংলার প্রায় প্রতিটি জনপদ নদী বা খালের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং এই জলপথই ছিল যোগাযোগ ও বাণিজ্যের প্রধান মাধ্যম কিন্তু গত কয়েক দশকে অবৈধ দখল, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্প দূষণ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা এবং নীতিগত দুর্বলতার কারণে দেশের নদী–খাল–জলাশয় দ্রুত সংকুচিত হয়ে পড়ছে।ফলে একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রাকৃতিক জলব্যবস্থার ধ্বংস।

কৃষিবিদ ড. এস.এম. রাজিউর রহমান
ভূমিকা
বর্তমান সরকার আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের এক বিশাল কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচির সাথে যদি প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যক্রমের সমন্বয় ঘটানো যায়, তবে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ এবং প্রাণিখাদ্য সংকট সমাধানের একটি অনন্য মডেলে পরিণত হতে পারে। বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি হলো গবাদি প্রাণি পালন। কিন্তু বর্তমানে এই খাতটি গুরুতর খাদ্য সংকটের মুখোমুখি। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে চারণভূমি কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে প্রাকৃতিক ঘাসের প্রাপ্যতা হ্রাস পাওয়ায় কৃষকদের জন্য প্রাণিপালন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

এগ্রিলাইফ প্রতিবেদক:অ্যাকোয়া নিউট্রিশন ও অ্যাকোয়াকালচার শিল্পে ট্যানিন (Tannin) বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক বায়োঅ্যাকটিভ যৌগ হিসেবে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করছে। পুষ্টিবিদ সাইফি নাসিরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ট্যানিন হলো এক ধরনের প্রাকৃতিক পলিফেনলিক যৌগ, যা উদ্ভিদের বাকল, পাতা, বীজ, ফল ও কান্ডে পাওয়া যায় এবং মাছ ও চিংড়ির খাদ্যে একটি কার্যকর, নিরাপদ ও অ্যান্টিবায়োটিকমুক্ত সংযোজন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ট্যানিনকে অনেক সময় ট্যানিক অ্যাসিডও বলা হয়, যা সাধারণত চেস্টনাট, কোয়ার্কাস, সিসালপিনিয়া ও অন্যান্য উদ্ভিদ উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক অ্যাকোয়াফিড শিল্পে যখন ফিশমিলের বিকল্প হিসেবে উদ্ভিদভিত্তিক প্রোটিনের ব্যবহার বাড়ছে, তখন সেইসব উপাদানে উপস্থিত পলিফেনলিক ট্যানিন পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ড. মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান,মহাপরিচালক, বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)
পরিবর্তিত বাস্তবতায় বাংলাদেশের কৃষি
বাংলাদেশের কৃষি আজ এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি। জনসংখ্যা এখনো বছরে প্রায় ১.১২ শতাংশ হারে বাড়ছে, কিন্তু আবাদি জমি কমছে প্রায় ০.২৪ শতাংশ হারে। স্বাধীনতার সময় মাথাপিছু জমির পরিমাণ ছিল ২৮ শতক; এখন তা ১০ শতকের নিচে নেমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জমির উর্বরতা কমে যাওয়া, নগরায়ণ, শিল্পায়ন আর জলবায়ু পরিবর্তনের নানা প্রভাব।