
এগ্রিলাইফ ডেস্ক: কৃষিকে দেখতে হবে বৃহত্তর আঙ্গিকে, কৃষি হবে আগামীর বাংলাদেশে অর্থনীতির ভিত্তি-এই দৃষ্টিভঙ্গী নিয়ে আগামীর সরকারকে কাজ করে যেতে হবে। এটা কোন একক সরকারের বিষয় নয়, এটা একটা ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। সরকারকে পরিকল্পনার ক্ষেত্রে কৃষিখাতে ইনোভেশন তথা উদ্ভাবনকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কথাগুলো বলেছেন বাংলাদেশের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা, অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।
আজ শনিবার (১৭ জানুয়ারী), রাজধানীস্থ তুলা উন্নয়ন বোর্ড মিলনায়তনে বিসেফ ও শিসউক আয়োজিত এই নাগরিক সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এই বক্তব্য রাখেন। সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত “নিরাপদ খাদ্য, আগামী সরকারের কাছে প্রত্যাশা” শীর্ষক এই সম্মেলনে মূল ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন, বিসেফ ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব রেজাউল করিম সিদ্দিক।
দিনব্যাপী সম্মেলনের এই পর্বে অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এর সদস্য ড. মোহাম্মদ শোয়েব, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক, কনজুমার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ ক্যাব এর সাধারণ সম্পাদক হুমায়ূন কবির ভূঁইয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী আতাউর রহমান মিটন।
উল্লেখ্য, বিসেফ ও শিসউক আয়োজিত “পরিবেশসম্মত কৃষি, জলবায়ূ পরিবর্তন এবং নিরাপদ খাদ্য”- এই প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে সকালের পর্বে জলবায়ূ পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পরিবেশসম্মত কৃষির গুরুত্ব বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক কৃষি সচিব ও বিসেফ ফাউন্ডেশনের কার্যকরী সভাপতি আনোয়ার ফারুক এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. আবদুছ সালাম। সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এম জিয়াউল হক।
অনুষ্ঠানে নির্ধারিত আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সার্ক কৃষি কেন্দ্রের পরিচালক ড. হারুনুর রশীদ এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল এর সাবেক নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক। সম্মেলনের এই পর্বে “কমিউনিটি উদ্যোগে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং জলবায়ূ পরিবর্তন মোকাবেলায় পরিবেশসম্মত কৃষিকে সহায়তা দেয়া” - শীর্ষক ধারণাপত্র তুলে ধরেন শিসউক এর নির্বাহী পরিচালক সাকিউল মিল্লাত মোর্শেদ। পর্বটি সঞ্চালনা করেন বিকশিত বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এর প্রধান নির্বাহী আতাউর রহমান মিটন।
বাংলাদেশে পরিবেশসম্মত কৃষির বিকাশকে সর্বাগ্রে স্থান দেয়া প্রয়োজন। কর্পোরেট কৃষিতে ক্ষুদ্র চাষীর কোন কথা বা স্বার্থ বিবেচনা করা হয় না। মুনাফা নির্ভর কৃষিতে মাটির সুরক্ষা বিবেচনা করা হয় না। এর ফলে বাংলাদেশে কৃষি জমি যেমন কমছে তেমনি কমছে বিদ্যমান জমির উর্বরতা। মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে কৃষি জমির উর্বরতা হ্রাসের পাশাপাশি বায়ূমন্ডলে মিথেন গ্যাসের বৃদ্ধি ঘটায়। বায়ূমন্ডলে মিথেন গ্যাসের বৃদ্ধি হ্রাস করতে হলে পরিবেশবান্ধব কৃষি চর্চায় মনোনিবেশ করতে হবে। নীতি-সহায়তা দিতে হবে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের। ওরাই সংখ্যায় বেশি। সরকারের কাজ হবে পরিবেশবান্ধব কৃষি উপায় ও উপকরণ বিষয়ে গবেষণা জোরদার করা এবং গবেষণালদ্ধ ফলাফল সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়া। কমিউনিটির সচেতন মানুষ তাদের নিজেদের ও ভবিষ্যত প্রজন্মের সুরক্ষার কথা ভেবেই তারা পরিবেশসম্মত কৃষির পথে হাঁটবে, এর জন্য সরকারকে বিশেষ কিছু করতে হবে না।
অধিবেশনে জলবায়ূ বিশেষজ্ঞ ড. মাহমুদুল ইসলাম সেলিম প্রশ্ন রাখেন, কেন সরকার কৃষিতে ভর্তুকি দিবে না, কেন পরিবেশসম্মত কৃষির বিকাশে সরকারের পর্যাপ্ত তহবিল থাকবে না? জনগণের ট্যাক্সের পয়সায় জনগণের খাদ্য অনিরাপদ করে যে রাসায়নিক সার ও বিষ সেখানে কেন ভর্তুকি দেয়া অব্যাহত থাকবে?
























