“শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বরিশালে স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষণ”

মো.মেহেদী হাসান(বরিশাল): শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণ, সঠিক পুষ্টি গ্রহণে উদ্বুদ্ধকরণ এবং পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার বাস্তবায়নাধীন স্কুল মিল্ক ফিডিং কর্মসূচির আওতায় বরিশাল সদর উপজেলার, আব্দুল কাদের চৌধুরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে "পুষ্টি ও পরিবেশ সচেতনতা" শীর্ষক একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ রবিবার (০৪ জানুয়ারি) আয়োজিত এ প্রশিক্ষণে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য এবং অভিভাবকগণ অংশগ্রহণ করেন। প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপি)-এর সহযোগিতায় এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতাল, বরিশাল সদর-এর বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন ডা. দোলা বিশ্বাস, প্রাণিসম্পদ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এ, কে, এম, কুদরাত-ই-খুদা, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা। প্রশিক্ষক হিসাবে ছিলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. কামরুন নাহার কলি।

প্রশিক্ষণের শুরুতে সুন্দর একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ শুরু করেন। শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে দুধ ও দুগ্ধজাত খাদ্যের গুরুত্ব, সুষম খাদ্যের প্রয়োজনীয়তা, অপুষ্টির কুফল ও প্রতিকার, পরিচ্ছন্ন পরিবেশ ও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস গড়ে তোলার গুরুত্ব, নিরাপদ খাদ্য ও পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবার ও বিদ্যালয়ের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য সুষম পুষ্টি অপরিহার্য। দুধ হলো এমন একটি পূর্ণাঙ্গ খাদ্য, যা শিশুদের হাড় শক্তিশালী করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং শেখার সক্ষমতা বৃদ্ধি করে। নিয়মিত দুধ পান করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পুষ্টিহীনতা দূর হবে, তারা বিদ্যালয়ে আরও মনোযোগী হবে এবং ঝরে পড়ার হার কমবে—এটাই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।

প্রধান অতিথি বলেন, এই কর্মসূচি একদিকে যেমন শিশুদের পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে, অন্যদিকে দেশীয় দুগ্ধ খাত ও খামারিদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিচ্ছে। ফলে এটি একটি বহুমাত্রিক উন্নয়নমূলক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করছে।

আমি এই মহতী কর্মসূচি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, শিক্ষক, অভিভাবক এবং উদ্যোক্তাদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। বিশেষ করে শিক্ষকদের ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সচেতনতা ও তত্ত্বাবধানের মাধ্যমেই এই কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

অংশগ্রহণকারীরা ব্যাপকভাবে উদ্বুদ্ধ হন এবং ভবিষ্যতে শিশুদের পুষ্টি ও পরিবেশ বিষয়ে আরও সচেতনভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দপ্তর, বরিশালের জনাব মো. মেহেদী হাসান, কৃষি তথ্য কেন্দ্র সংগঠক, জনাব খাদিজা আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা/কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।