
এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: নিরাপদ, ন্যায্য, জলবায়ুসহিষ্ণু, লাভজনক, স্বাস্থ্যকর, দূষণমুক্ত, টেকসই ও সার্বভৌম কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক ২০ দফা বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে রাজধানীতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে (২য় তলা) ‘নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয় যেন তারা নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক প্রস্তাবসমূহকে গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের নির্বাচনী ইশতেহার ও ঘোষণায় অন্তর্ভুক্ত করেন। লিখিত বক্তব্যে নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য আন্দোলনের যুগ্ম মুখপাত্র, প্রাণ–প্রকৃতি বিষয়ক লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ ২০ দফা দাবি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, কৃষক, জেলে ও জুমচাষীদের মর্যাদাসহ স্বীকৃতি নিশ্চিত করা, কৃষিজমি সুরক্ষা, মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, স্থানীয় বীজবৈচিত্র্য সংরক্ষণ, নিরাপদ সেচব্যবস্থা, জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি, রাসায়নিক সার ও বিষনাশকের ব্যবহার বন্ধ, স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ বন্ধ, ন্যায্যমূল্য ও কৃষকের হাট গড়ে তোলা, কৃষি শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি ও কৃষক পেনশন চালু করাসহ মোট ২০ দফা বাস্তবায়ন ছাড়া টেকসই কৃষি ও খাদ্য ব্যবস্থা সম্ভব নয়।
২০ দফার মধ্যে আরও রয়েছে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনে নিরাপদ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দেশীয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ জাত সংরক্ষণ, গ্রামীণ গৃহস্থালী খামারের প্রসার, নগর কৃষি ও ছাদবাগানে স্থানীয় বীজনির্ভর চাষাবাদ, লোকায়ত কৃষিপ্রথা ও ঐতিহ্য রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ, শিক্ষা ব্যবস্থায় নিরাপদ কৃষিকে অন্তর্ভুক্তকরণ, জলবায়ু সংকট মোকাবেলায় স্থানীয় অভিযোজন কৌশলকে অগ্রাধিকার, কৃষকের আইনগত অধিকার ও স্বচ্ছ কৃষিখাত নিশ্চিতকরণ, ফসল বীমা ও ঝুঁকি ভাতা চালু, কৃষিকার্ড প্রবর্তন এবং নিরাপদ কৃষি উৎপাদন ও বিপণনে দক্ষতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি।
সংবাদ সম্মেলনে ২০ দফার সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন মানিকগঞ্জের আউকপাড়া কৃষক-কৃষাণী সংগঠনের কৃষক আসমা আক্তার, নেত্রকোনার তুষাইপাড়ার কৃষক দলের সায়েদ আহম্মেদ খান বাচ্চু এবং মানিকগঞ্জের কৃষক স্কুল সমবায় সমিতির কৃষক ও সংগঠক কাঁলাচান। তারা বলেন, এসব দাবি বাস্তবায়িত হলে কৃষক ন্যায্য অধিকার পাবে এবং ভোক্তারা নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারবে।
প্রাকৃতিক কৃষক সমাজের প্রতিনিধি দেলোয়ার জাহান দেশের কৃষিজমির মাটিতে ভয়াবহ পুষ্টিঘাটতির কথা তুলে ধরে বলেন, ২০ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাটি ও খাদ্যে সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা জরুরি। জাতীয় কৃষি আন্দোলনের এডভোকেট শফিকুর রহমান উন্নয়ন দর্শনের পরিবর্তন এবং পেটেন্ট আইনের মাধ্যমে বীজের ওপর কৃষকের মালিকানা ও অধিকার হরণের বিষয়ে সতর্ক করেন।
প্রাকৃতিক কৃষি বিপণন কেন্দ্রের সাফিয়া আজিজ নিরাপদ কৃষির প্রসারের জন্য কৃষকের ফসলের লাভজনক মূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। বাংলাদেশ অর্গানিক এগ্রিকালচারাল নেটওয়ার্কের কৃষিবিদ ড. মো. নাজিম উদ্দিন বালাইনাশক বিষ সংক্রান্ত আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়ন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষার দাবি জানান। তিনি মাঠপর্যায়ের গবেষণায় ঘাটতির বিষয়টি তুলে ধরেন।
অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, রাজনৈতিক পরিসরে উন্নয়নের ধারা পরিবর্তন করে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে এবং এ ক্ষেত্রে নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য বিষয়ক ২০ দফা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এছাড়াও কৃষিবিজ্ঞানী ড. আবদুস সোবহান, কনজিউমার এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর এস এম নাজের হোসাইন, উবিনীগ-এর জাহাঙ্গীর আলম জনি, এএলআরডি-এর শামসুল হুদা, রিইব-এর সুরাইয়া বেগম, প্রাকৃত সমাজের ব্রাত্য আমিন ও ইকবাল হোসেন জুপিটার, দিনাজপুরের কৃষি ডাক্তার আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেফ ফুড এলায়েন্স-এর কৃষিবিদ আমিনুল ইসলাম বাবু ও কাজী জিয়া শামস, ভোক্তা আমিনা আনসারীসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা সংহতি প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনটি সঞ্চালনা করেন নিরাপদ কৃষি ও খাদ্য আন্দোলনের মো. ইফতেখার আলী। সমাপনী বক্তব্যে আন্দোলনের মুখপাত্র কৃষক দেলোয়ার জাহান ও গবেষক পাভেল পার্থ উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, কৃষক থেকে ভোক্তা সবার স্বার্থ রক্ষায় এবং দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ২০ দফা বাস্তবায়নে সকল পরিসরে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
























