
ইসলামিক ডেস্ক: মহাবিশ্বের ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াল ও ন্যায়নিষ্ঠ মুহূর্তটি হলো কেয়ামত। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানবসন্তানের জন্য সেই দিনটি অনিবার্য। পবিত্র কুরআনের সূরা আল-ওয়াকিয়ার প্রথম ছয় আয়াতে সেই মহাপ্রলয়ের এক অনন্য বর্ণনা দেওয়া হয়েছে, যা মানবতার জন্য চরম সতর্কবার্তা এবং গভীর চিন্তার খোরাক।
মানবজাতির উদ্দেশে ঐশী বার্তা ঘোষণা করে যে, যখন সেই "ঘটনা" (কিয়ামত) সংঘটিত হবে, তখন কেউ তা অস্বীকার করার সাহস পাবে না। আয়াতে বলা হয়েছে, সেই দিনটি কাউকে চরমভাবে অবনত করবে এবং কাউকে সমুন্নত করবে। এটি হবে চূড়ান্ত নৈতিক ও মানবিক বিচার। “পৃথিবী প্রচণ্ড কম্পনে প্রকম্পিত হবে” এই বাক্যটি ইসলামী পরিভাষায় কিয়ামতের (শেষ বিচার দিবসের) একটি দৃশ্যের ইঙ্গিত দেয়। ধর্মীয় বর্ণনা অনুযায়ী, কিয়ামতের সময় পৃথিবী ভয়াবহভাবে কেঁপে উঠবে, পর্বত ভেঙে যাবে, সমুদ্র উত্তাল হবে, আর সবকিছু ধ্বংসের মুখে পড়বে। এই চিত্রটি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে পৃথিবীর সবকিছুই ক্ষণস্থায়ী, আর একদিন সবকিছুর হিসাব দিতে হবে। এটি ভয় ও সতর্কতার পাশাপাশি আত্মসমালোচনারও আহ্বান জানায়।
বিজ্ঞানের চোখেও আজ অবিশ্বাস্য মনে হয়, কিন্তু ঐশী বাণী ঘোষণা করে যে সেই দিন পৃথিবী প্রচণ্ড কম্পনে প্রকম্পিত হবে। শুধু তাই নয়, দৃষ্টিগোচর হওয়া বিশাল সব পর্বতসমূহ ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যাবে এবং শেষ পর্যন্ত উড়ন্ত ধূলিকণায় পরিণত হবে। এই দৃশ্যপট আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, জাগতিক সব কিছুই ধ্বংসশীল। আজকের অহংকার, স্থাপত্যের জাঁকজমক, বা বৈষয়িক সংগ্রহ- সবই চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে ধূলিকণার মতো।
একুশ শতকের এই ব্যস্ত ও ভোগবাদী পৃথিবীতে, মানুষ তার চিরন্তন ঠিকানা ভুলে যেতে বসেছে। সূরা ওয়াকিয়ার এই বাণী আমাদের ঘুম ভাঙানোর মতো। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যেমন এই দিনের জন্য প্রস্তুতি নেবেন, তেমনই অন্যান্য ধর্মের মানুষও তাদের নিজ নিজ ধর্মগ্রন্থে বর্ণিত মহাপ্রলয় ও বিচার দিবসের কথা স্মরণ করে নিজেদের সংশোধন করার সুযোগ পাবেন।
সকল ধর্মের শিক্ষাই মানুষকে সৎকাজের নির্দেশ দেয়। এই সাধারণ বার্তাটি গ্রহণ করে আমরা একটি সুন্দর, শান্তিময় ও ন্যায়পরায়ণ সমাজ গড়তে পারি—যেখানে মানুষ পরকালের ভয়ে নয়, বরং নিজের বিবেকের তাড়নায় মন্দ কাজ থেকে দূরে থাকবে এবং ভালো কাজের প্রতিযোগিতায় মগ্ন হবে।
আজকের দিনে আমাদের কর্তব্য হওয়া উচিত, এই চিরন্তন সত্যকে নিজেদের মধ্যে উপলব্ধি করা এবং মানবতার কল্যাণে কাজ করা। কারণ, যখন পৃথিবী প্রবল কম্পনে কেঁপে উঠবে এবং পাহাড়গুলো ধূলিকণায় মিশে যাবে, তখন একমাত্র ভালো কাজ ও নেক নিয়তই আমাদের একমাত্র পুঁজি হবে।
























