Mansur Alam Dipu (MBA, SC): Seafood demand is rising due to the rapid increase in the global population, driven by its status as a high-quality and nutrient-rich protein source. Among the various types of seafood, shrimp is consistently in high demand because of its taste, variety, and nutritional benefits. As a result, shrimp farming has become increasingly important in meeting the protein needs of the global population.

এগ্রিলাইফ প্রতিবেদক:অ্যাকোয়া ফিড নিউট্রিশনে প্যালেট বাইন্ডারগুলি যুক্ত করা হয় মূলত ফিডের শারীরিক গুণমান উন্নত করার জন্য, তবে তাদের পরোক্ষ পুষ্টিগত সুবিধাও রয়েছে। বাংলাদেশের অ্যাকোয়াকালচার সেক্টরে বাণিজ্যিক অ্যাকোয়া ফিডে সাধারণত pellet binder হিসেবে দেখা যায় স্টার্চ (Starch), কার্বক্সিমিথাইল সেলুলোজ (Carboxymethyl cellulose-CMC), লিগনোসালফোনেট (Lignosulfonates), অ্যালজিনেট (Alginate), কাওলিন (Kaolin), বেন্টোনাইট (Bentonite), পলিমিথাইলল কার্বামাইড (Polymethylol carbamide) ইত্যাদি। এ বিষয়ে বিশদ বর্ণনা করেছেন পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির।

রোটারিয়ান ড মো হেমায়েতুল ইসলাম আরিফ:
ভূমিকা
বাংলাদেশের কৃষি খাত গত পাঁচ দশকে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। সবুজ বিপ্লবের মাধ্যমে আমরা খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছি, যা আমাদের জাতীয় জীবনের একটি মাইলফলক। কিন্তু এই সাফল্যের যে মূল্য আমরা দিচ্ছি, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার আমাদের মাটি, পানি, জীববৈচিত্র্য এবং সর্বোপরি জনস্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। এই প্রবন্ধে আমরা বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের বিভিন্ন পদ্ধতি, এর গুরুত্ব এবং বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে এর বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করব।
বর্তমান সংকট: রাসায়নিক নির্ভরতার ফলাফল

গত কয়েক দশকে বাংলাদেশের কৃষি খাতে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ঘটলেও এই অগ্রগতির আড়ালে লুকিয়ে আছে এক গুরুতর উদ্বেগ—অতিরিক্ত রাসায়নিক উপকরণনির্ভরতা। অতিরিক্ত ইউরিয়া, টিএসপি, এমওপি বা অন্যান্য রাসায়নিক সার ব্যবহারের ফলে মাটির জৈব উপাদান ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। উপকারী অণুজীব বা মাটির ক্ষুদ্র জীবগুলো মরে যাচ্ছে, যা মাটির উর্বরতা বজায় রাখতে অপরিহার্য। ফলে মাটির পানি ধারণক্ষমতা ও প্রাকৃতিক পুনরুজ্জীবন ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। একসময় যে জমিতে সহজেই ভালো ফলন হতো, এখন সেখানে একই ফলনের জন্য দ্বিগুণ বা তারও বেশি রাসায়নিক ব্যবহার করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ছে এবং কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

শুধু মাটি নয়, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের প্রভাব পড়ছে পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের ওপরও। কীটনাশক ও রাসায়নিক সার মিশ্রিত পানি নদী ও খালের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে, যা মাছ ও অন্যান্য জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। একইসঙ্গে খাদ্যশস্যে রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ থেকে যাচ্ছে, যা মানুষের শরীরে দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগ সৃষ্টি করছে, যেমন কিডনি ও লিভারের সমস্যা, ক্যানসার এবং হরমোনজনিত জটিলতা। এই প্রবণতা কৃষির টেকসই উন্নয়ন ও খাদ্য নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।

উত্তম কৃষিচর্চা (GAP): নিরাপদ খাদ্যের ভিত্তি
বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করতে উত্তম কৃষিচর্চা বা Good Agricultural Practices (GAP) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধারণা। বাংলাদেশ উত্তম কৃষি চর্চা (Bangladesh GAP) হলো সামগ্রিক কৃষি কার্যক্রম, যার অনুসরণে নিরাপদ এবং মানসম্পন্ন খাদ্য ও খাদ্য বহির্ভূত কৃষিজাত পণ্য সহজলভ্য, পরিবেশ, অর্থনীতি এবং সামাজিক সুরক্ষা সুসংহত হয়। এটি একগুচ্ছ নীতি, বিধি ও প্রযুক্তিগত সুপারিশমালা যা সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ ও পরিবহণের বিভিন্ন স্তরে প্রয়োগ করা হয় যা মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা, পরিবেশ সংরক্ষণ, পণ্যের মান উন্নয়ন ও কাজের পরিবেশ উন্নত করে।

বাংলাদেশ GAP বাস্তবায়নের মূল উদ্দেশ্যগুলো হলো:
•    নিরাপদ ও পুষ্টিমানসম্পন্ন ফসলের টেকসই উৎপাদন নিশ্চিতকরণ
•    পরিবেশ সহনীয় ফসল উৎপাদন নিশ্চিতকরণ
•    কর্মীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিরাপত্তা ও কল্যাণ সাধন
•    খাদ্য শৃঙ্খলের সকল স্তরে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিসমূহ অনুসরণ করা
•    ভোক্তার স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং মানসম্পন্ন উচ্চ-মূল্যের ফসলের উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি করা

বাংলাদেশে এই GAP নীতিমালা-২০২০ বাস্তবায়নের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় কর্তৃক বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (BARC) কে স্কিম ওনার ও সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (DAE) কে বাংলাদেশ এগ্রিকালচারাল সার্টিফিকেশন বডি (বিএসিবি) মনোনীত করেছে।

বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনের কার্যকর পদক্ষেপ
১. জৈব সারের ব্যবহার
মাটির গুণাগুণ বাড়াতে রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সার ব্যবহার অত্যন্ত জরুরি। জৈব সার হলো এমন একটি প্রাকৃতিক সার, যা উদ্ভিদ ও প্রাণীর পচনশীল অংশ, যেমন গোবর, ছাই, পাতা, ফসলের অবশিষ্টাংশ এবং বিভিন্ন জৈব পদার্থ থেকে তৈরি হয়।

জৈব সার ব্যবহারের গুরুত্ব অপরিসীম:
•    মাটির গঠনকে ঝুরঝুরে ও বায়ুসঞ্চালনযোগ্য করে তোলে, ফলে উদ্ভিদের শিকড় সহজে বৃদ্ধি পায়
•    মাটিতে পানির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধি করে, যা খরা পরিস্থিতিতেও ফসলের বৃদ্ধি টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে
•    ধীরে ধীরে পুষ্টি সরবরাহ করে, ফলে মাটিতে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে
•    মাটিতে জীবাণু ও অণুজীবের কার্যক্রমকে সক্রিয় করে তোলে, যা মাটির জৈবিক জীবনকে সমৃদ্ধ করে
•    উৎপাদিত ফসল হয় অধিক পুষ্টিকর, সুস্বাদু ও বিষমুক্ত

বাংলাদেশে জৈব সারের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৬০-৬৫ লাখ টন। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এর মধ্যে ৭৫ শতাংশের বেশি কাঁচামাল দেশেই পাওয়া যায়। অর্থাৎ, কার্যকর উদ্যোগ নিলে অভ্যন্তরীণভাবে পুরো চাহিদা পূরণ সম্ভব।

ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদনে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বর্তমানে দেশে ছোট-বড় কমবেশি প্রায় ২৭ হাজার ভার্মি ও ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদনকারী রয়েছেন। এদের মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে কম্পোস্ট সার উৎপাদন করছেন ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ জন। বর্তমানে তাদের মাধ্যমে দেশব্যাপী ভার্মি ও ট্রাইকো কম্পোস্ট সার উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন।

২. সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা (IPM)
সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা ইন্টিগ্রেটেড পেস্ট ম্যানেজমেন্ট (IPM) হলো পরিবেশকে দূষণমুক্ত রেখে প্রয়োজনে এক বা একাধিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতিকারক পোকা ও রোগ বালাইকে অর্থনৈতিক ক্ষতি সীমার নিচে রাখার পদ্ধতি।

IPM পদ্ধতির প্রধান উপাদানসমূহ:
ক) উপকারী পোকামাকড় ও প্রাণী সংরক্ষণ: ব্যাঙ, চিল, পেঁচা, গুইসাপ, মাকড়সা, লেডিবার্ড বিটল, ক্যারাবিড বিটল, বোলতা, মিরিড বাগ, ওয়াটার বাগ, ড্যামসেল ফড়িং প্রভৃতি উপকারী পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাণী ক্ষতিকারক পোকা দমনে যথেষ্ট সাহায্য করে। ধান ক্ষেতের আইলে শিম ও শসা জাতীয় ফসল আবাদ, জমিতে পরিমিত পরিমাণ পানি রাখা এবং বালাইনাশকের এলোপাতাড়ি ব্যবহার পরিহার করার মাধ্যমে উপকারী পোকামাকড়ের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়।
খ) বালাই সহনশীল জাতের চাষাবাদ: ক্ষতিকারক পোকামাকড় ও রোগের আক্রমণ অনেকাংশে রোধ করতে পারে। যেমন- ব্রি ধান ২৬ সাদা-পিঠ গাছ ফড়িং ও ব্লাস্ট রোগ প্রতিরোধশীল, ব্রি ধান ৩১ বাদামি গাছ ফড়িং পোকার আক্রমণে প্রতিরোধশীল।
গ) আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি: সুস্থ বীজ, সঠিক দূরত্বে রোপন, সবল চারা, সুষম সার, আগাছা মুক্ত জমি, সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা, সারিতে রোপণ ও আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি গ্রহণে অধিক ফলন পাওয়া যায়।
ঘ) যান্ত্রিক দমন পদ্ধতি: হাত জালের সাহায্যে পোকা ধরে মারা, আলোর ফাঁদে পোকা ধরা, আক্রান্ত পাতার আগা কেটে দেওয়া, পাখি বসার জন্য ডাল পোঁতা, হাত দিয়ে পোকার ডিম সংগ্রহ করে ধ্বংস করা।
ঙ) রাসায়নিক দমন ব্যবস্থা: প্রথম চারটি উপাদানের সাহায্যে যদি ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় ও রোগের আক্রমণ দমিয়ে রাখা সম্ভব না হয়, কেবল তখনই সর্বশেষ ব্যবস্থা হিসেবে বালাইনাশক ব্যবহার করা অর্থাৎ পোকার সংখ্যা অর্থনৈতিক দ্বারপ্রান্তে (ইটিএল) পৌঁছালে তখনই বালাইনাশক সঠিকভাবে ব্যবহার করা দরকার।
IPM পদ্ধতি গ্রহণের উপকারিতার মধ্যে রয়েছে: উপকারী পোকামাকড়, মাছ, ব্যাঙ, পশু, পাখি ও গুইসাপ সংরক্ষণ; বালাইনাশকের যুক্তিসঙ্গত ব্যবহার নিশ্চিতকরণ; উৎপাদন খরচ কমানো; বালাইনাশকজনিত দুর্ঘটনা এড়ানো; বালাইয়ের পুনরাবৃত্তি ঘটার সম্ভাবনা কমানো এবং সর্বোপরি পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখা।

৩. ফসল পর্যায় (Crop Rotation)
একই জমিতে বারবার একই ফসল না ফলিয়ে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ফসল আবাদ করলে মাটিতে রোগের আক্রমণ ও পোকামাকড়ের উপদ্রব কমে। ফসল পর্যায়ের মাধ্যমে পোকামাকড়ের জীবনচক্র বিঘ্নিত হয় এবং মাটির পুষ্টির ভারসাম্য বজায় থাকে। যেমন- একই জমিতে বারবার ধান চাষ করলে বিশেষ ধরনের কীটপতঙ্গের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়, কিন্তু ডাল বা তেলবীজ জাতীয় ফসলের সাথে পর্যায়ক্রমে চাষ করলে এই সমস্যা অনেকাংশে সমাধান হয়।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের ভূমিকা
বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (BFSA) ২০১৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নিরাপদ খাদ্য আইন, ২০১৩-এর অধীনে প্রতিষ্ঠিত একটি স্বায়ত্তশাসিত জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক সরকারি কর্তৃপক্ষ। এই কর্তৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্য হলো বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা করা।
কর্তৃপক্ষের প্রধান দায়িত্ব ও কার্যাবলী হলো বিজ্ঞানসম্মত পদ্ধতির যথাযথ অনুশীলনের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণে খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ ও বিক্রয় সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও পরিবীক্ষণ এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনার সাথে সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন করা। এই কর্তৃপক্ষকে আমেরিকান খাদ্য এবং ড্রাগ প্রশাসনের (FDA) মতো করে তৈরি করা হয়েছে এবং এর নিজস্ব ভ্রাম্যমাণ আদালত রয়েছে যা অনিরাপদ খাদ্য বিক্রেতাদের জরিমানা এবং দণ্ডাদেশ প্রদান করে।

বাস্তব উদাহরণ: ভার্মিকম্পোস্ট উৎপাদনের সাফল্য
বাংলাদেশে জৈব সারের ব্যবহার সম্প্রসারণে ইতিমধ্যে কিছু উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রাশেদ স্মার্ট অ্যাগ্রো ফার্মের উদ্যোক্তা রাশেদ ২০২১ সালের জুনে মাত্র ৫০-৬০ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন শুরু করেন। গত দুই বছরের ব্যবধানে বর্তমানে তাঁর খামার থেকে প্রতি মাসে ৩৫ থেকে ৪০ টন ভার্মিকম্পোস্ট সার উৎপাদন হচ্ছে। এই সার উৎপাদনে প্রতি মাসে ১০০ থেকে ১২০ টন গোবরের প্রয়োজন হয়, যা তিনি স্থানীয় শতাধিক খামার থেকে সংগ্রহ করছেন।

একইভাবে, বাংলাদেশ ভার্মি কম্পোস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. বদরুল হায়দার ব্যাপারীর তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের অ্যাসোসিয়েশনে সদস্য রয়েছেন ২৫৬ জন, যাদের মাধ্যমে দেশব্যাপী প্রতি মাসে প্রায় চার হাজার টন ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদন হচ্ছে। ২০১৬ সালে শুরুর দিকে মাত্র সাত সদস্য নিয়ে অ্যাসোসিয়েশন শুরু হয়েছিল এবং তখন উৎপাদন ছিল মাত্র ৯ থেকে ১০ টন।

চ্যালেঞ্জ ও সমাধানের পথ
বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে রূপান্তর সহজ নয়। কিছু প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো:
১. সচেতনতার অভাব: কৃষকদের মধ্যে জৈব সারের গুণাগুণ ও সুফল সম্পর্কে সঠিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে।
২. সরবরাহ সংকট: সব জায়গায় জৈব সার সহজলভ্য নয়।
৩. প্রচার-প্রসারের অভাব: বিষমুক্ত কৃষি পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রসার নেই।
৪. আর্থিক বাধা: জৈব সার উৎপাদনকারী উদ্যোক্তাদের জন্য প্রয়োজনীয় স্টার্টআপ মূলধন ও কার্যকরী মূলধনের অভাব।

সমাধানের জন্য প্রয়োজন:
•    কৃষকদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশিক্ষণ প্রদান
•    স্থানীয় পর্যায়ে জৈব সার উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তোলা
•    সরকার ও বেসরকারি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি
•    রাসায়নিক সারের ভর্তুকি কমিয়ে জৈব সারে ভর্তুকি দেওয়া
•    নিরাপদ খাদ্য আইনের কঠোর বাস্তবায়ন

উপসংহার
খাদ্য নিরাপত্তা ও সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদন এখন আর কোনো বিকল্প নয়, বরং এটি সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে জৈব সার, সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থাপনা (IPM), ফসল পর্যায় এবং উত্তম কৃষিচর্চা (GAP)-এর মতো পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি।

একদিকে যেমন এই পদ্ধতিগুলো মাটির উর্বরতা রক্ষা করে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য উন্নত করে। বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে এই লক্ষ্যে কাজ করছে, কিন্তু এর সফল বাস্তবায়নের জন্য কৃষক, নীতিনির্ধারক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

আমাদের মনে রাখতে হবে, বিষমুক্ত খাদ্য শুধু আমাদের নিজেদের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, আমাদের আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যতের জন্যও অপরিহার্য। আসুন আমরা সবাই মিলে একটি নিরাপদ, পুষ্টিকর এবং টেকসই খাদ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলি—যেখানে কৃষক লাভবান হন, ভোক্তা নিরাপদে খাদ্য গ্রহণ করেন এবং মাটি ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকে।
-লেখক:, আর আফ এস এম (RFSM)
রোটারি ক্লাব অব রাজশাহী সেন্ট্রাল, ডি-৬৪, বাংলাদেশ। 

মেহেদী ইসলাম:দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের মৎস্যখাতকে একটি উৎপাদন-সাফল্যের গল্প হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু আজ খাতটি আরও গুরুত্বপূর্ণ এক বাস্তবতার সামনে দাঁড়িয়ে।

More Articles …

Page 1 of 4