ইসলামিক ডেস্ক: ইসলাম মানুষের জীবন রক্ষা ও সুস্থতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে ঘোষণা করা হয়েছে: “যে একজন মানুষের জীবন রক্ষা করল, সে যেন সমগ্র মানবজাতিকে রক্ষা করল”-সূরা মায়িদা, আয়াত ৩২। এই নির্দেশনা মুসলিম সভ্যতায় চিকিৎসাবিজ্ঞানের ব্যাপক উন্নয়নের ভিত্তি তৈরি করে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ইতিহাসে অবিস্মরণীয় নাম ইবনে সিনা। তাঁর রচিত Al-Qanun fi al-Tibb বা Canon of Medicine ছিল ৫ খণ্ডের বিশাল গ্রন্থ। রোগ নির্ণয়, ওষুধ প্রস্তুত ও শল্যচিকিৎসার নিয়মাবলি এতে লিপিবদ্ধ হয়। ১২শ শতক থেকে ১৭শ শতক পর্যন্ত ইউরোপের প্রধান মেডিকেল পাঠ্যবই হিসেবে এটি পড়ানো হয়েছে।
‘আরব চিকিৎসার জনক’ খ্যাত আল-রাজি গুটি বসন্ত ও হামের মধ্যে পার্থক্য প্রথম বৈজ্ঞানিকভাবে ব্যাখ্যা করেন। তাঁর গ্রন্থ Kitab al-Jadari wa al-Hasbah সংক্রামক রোগ গবেষণার ভিত্তি স্থাপন করে। তিনিই প্রথম হাসপাতালে রোগী ভর্তি রেজিস্টার, ফার্মেসি ও ওয়ার্ডভিত্তিক চিকিৎসার ধারণা চালু করেন।
৮০৫ খ্রিস্টাব্দে বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত বিমারিস্তান ছিল আধুনিক হাসপাতালের আদিরূপ। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা, মেডিকেল শিক্ষা ও গবেষণা একসাথে চলত। মুসলিম চিকিৎসকরা চক্ষু চিকিৎসা, শল্যবিদ্যা, ফার্মাকোলজি ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়েও কাজ করেন। আল-জাহরাবি ২০০+ সার্জিক্যাল যন্ত্র উদ্ভাবন করেন, যার অনেকগুলো আজও ব্যবহৃত হয়।
ইসলামে ‘প্রতিরোধ প্রতিকারের চেয়ে উত্তম’ নীতি, পরিচ্ছন্নতা, সংক্রমণ রোধে কোয়ারেন্টিন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাসের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এসব নীতি আজকের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
মুসলিম বিজ্ঞানীদের হাত ধরেই চিকিৎসাবিজ্ঞান অন্ধকার যুগ পেরিয়ে আধুনিকতার পথে এগোয় যা পরবর্তীতে ইউরোপীয় রেনেসাঁসে বড় ভূমিকা রাখে।


