ইসলামিক ডেস্ক:ইসলাম নারীকে দিয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান, মর্যাদা ও ন্যায্য অধিকার, যা জাহেলিয়াত যুগের অন্ধকার দূর করে ইতিহাসে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছিল। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, "নারীদেরও তেমনি ন্যায়সংগত অধিকার রয়েছে, যেমন পুরুষদের অধিকার রয়েছে তাদের ওপর।" (সূরা বাকারা: ২২৮)।
ইসলাম একজন নারীকে কন্যা, স্ত্রী ও মাতা হিসেবে প্রতিটি স্তরে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত করেছে। কন্যাসন্তানকে জান্নাতের সুসংবাদ, স্ত্রীকে ঘরের বরকত এবং মাতার চরণের নিচে সন্তানের জান্নাত ঘোষণা করে ইসলাম নারীর আত্মমর্যাদাকে সুউচ্চ শিখরে পৌঁছে দিয়েছে।
অধিকারের ক্ষেত্রেও ইসলাম পুরুষ ও নারীর মাঝে এক চমৎকার ভারসাম্য রক্ষা করেছে। ইসলামই সর্বপ্রথম নারীকে সম্পত্তির উত্তরাধিকার, দেনমোহর প্রাপ্তি এবং নিজের উপার্জিত অর্থের ওপর একক মালিকানার আইনি অধিকার দিয়েছে। বিয়ে ও জীবনসঙ্গী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নারীর মতামতকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া জ্ঞান অর্জনকে প্রতিটি মুসলিম নারীর জন্য ফরয বা আবশ্যিক কর্তব্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
বর্তমান আধুনিক সমাজেও যেখানে নানাভাবে নারীরা বৈষম্য ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছে, সেখানে সাড়ে চৌদ্দশ বছর আগে ঘোষিত ইসলামের এই চিরন্তন বিধানই নারীর প্রকৃত স্বাধীনতার রক্ষাকবচ। সমসাময়িক ইসলামিক স্কলারদের মতে, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ইসলাম নির্ধারিত এই অধিকারগুলোর সঠিক বাস্তবায়নই পারে একটি সুস্থ, সুন্দর ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠন করতে। তাই নারীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এবং তাদের শরিয়তসম্মত অধিকার নিশ্চিত করা প্রতিটি মুসলিমের ধর্মীয় ও নৈতিক দায়িত্ব।