সমকালীন প্রেক্ষাপটে সূরা আল-মায়েদাহর শেষ বাণীর শিক্ষা

নারী ও ইসলাম
Typography
  • Smaller Small Medium Big Bigger
  • Default Helvetica Segoe Georgia Times

ইসলামিক ডেস্ক: মানবজাতির মুক্তি ও সফলতার মূল চাবিকাঠি হলো সততা এবং আল্লাহর সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস। পবিত্র কুরআনের পঞ্চম সূরা ‘আল-মায়েদাহ’-এর শেষ দুটি আয়াতে (১১৯ ও ১২০ নম্বর আয়াত) মহান আল্লাহ তাআলা সত্যবাদীদের পুরস্কার এবং মহাবিশ্বের ওপর তাঁর একচ্ছত্র আধিপত্যের কথা অত্যন্ত স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন।

সূরা আল-মায়েদাহর এই শেষ দুটি আয়াত বর্তমান সমাজের জন্য এক বড় দিকনির্দেশনা। চারদিকে যখন মিথ্যা, প্রতারণা ও নৈতিক অবক্ষয়ের সয়লাব, তখন এই আয়াত মানুষকে সততার পথ আঁকড়ে ধরার প্রেরণা জোগায়। ক্ষণস্থায়ী পৃথিবীর লোভ-লালসা বিসর্জন দিয়ে চিরস্থায়ী জান্নাত এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনই যে মানুষের জীবনের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, এই আয়াতদ্বয় আমাদের সেই চিরন্তন সত্যেরই স্মরণ করিয়ে দেয়।

সূরা আল-মায়েদাহর ১১৯ নম্বর আয়াতে কিয়ামতের দিনের একটি বিশেষ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, "এটা হলো সেই দিন যেদিন সত্যবাদীগণকে তাদের সততা উপকার করবে।" পার্থিব জীবনে যারা শত প্রতিকূলতার মাঝেও সত্যের ওপর অবিচল ছিলেন, সেদিন তাদের এই সততাই পরম উপকারে আসবে। পুরস্কারস্বরূপ তাদের জন্য প্রস্তুত থাকবে এমন জান্নাত, যার পাদদেশে চিরপ্রবহমান থাকবে নদীসমূহ। সেখানে তারা চিরকাল বসবাস করবেন।

তবে এই আয়াতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো পারস্পরিক সন্তুষ্টির ঘোষণা। আল্লাহ বলেছেন, তিনি তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং তারাও আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হয়েছে। ইসলামের দৃষ্টিতে একেই বলা হয়েছে ‘মহাসাফল্য’।

১১৯ নম্বর আয়াতে মুমিনদের সফলতার কথা বলার পর, ১২০ নম্বর আয়াতে পুরো সৃষ্টিজগতের ওপর আল্লাহর অসীম ক্ষমতা ও মালিকানার কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আয়াতে বলা হয়েছে, "আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে এবং তাদের মধ্যে যা কিছু আছে তার সার্বভৌম রাজত্ব (একমাত্র) আল্লাহরই এবং তিনি সবকিছুর ওপর ক্ষমতাবান।"

এই বাণীর মাধ্যমে মানুষকে এটিই বোঝানো হয়েছে যে, দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান বিশ্বজগতের একমাত্র শাসক ও ক্ষমতার উৎস মহান আল্লাহ। মানুষের জীবনের লাভ-ক্ষতি, উত্থান-পতন কিংবা বিচার দিবসের চূড়ান্ত ফয়সালা সবকিছুই তাঁরই নিয়ন্ত্রণাধীন।-আমিন