প্রকাশিত হলো এস এম মুকুল-এর নতুন বই "হাওর : অদেখা ভুবন অসীম সম্ভাবনা"

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: কৃষি অর্থনীতিতে অসীম সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র বাংলার প্রাকৃতিক জোন হাওর বিষয়ক গ্রন্থ : হাওর : অদেখা ভুবন অসীম সম্ভাবনা।  ১৬০ পৃষ্ঠার তথ্যমূলক ব্ইটি প্রকাশ করেছে সময় প্রকাশন। বইটির দাম ৪০০.০০ টাকা। বইটি পড়ে জানা যাবে হাওরের আদ্যেপান্ত। বইটিতে হাওর সম্পর্কে বলা হয়েছে- ছোট ছোট নদী, খাল-নালা, ডোবা আর বিস্তির্ণ এলাকাজুড়ে বিল ও চারণভুমি সবমিলিয়ে হাওরাঞ্চল ভাটি বাংলাকে যেন পরম মমতায় প্রকৃতির রূপে সাজিয়েছে।

শুধু রূপ নয়- তার গুণ আর সম্পদের সম্ভাবনাও অসীম। হাওরকে বলা হয়- মাদার ফিশারিজ ও মাছের খনি। দেশের আহরিত মৎস্যের ২৫ ভাগ হাওরাঞ্চল থেকে আহরিত হয়। যেখানে মিঠা পানির মাছ আছে ১৫০ প্রজাতির। জলজ উদ্ভিদ আছে ১২০ প্রজাতির। মৎস্য চাষ আর কৃষিভিত্তিক প্রকল্প গড়ে তোলার অপার দিগন্ত এই হাওরে।

হাওরকে বলা হয়- আগামী দিনের খাদ্যভান্ডার। দেশের শতকরা ১৮ ভাগ চাল উৎপাদিত হয় হাওরাঞ্চলে। হাওর- টেকসই উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও ইকোটুরিজম শিল্প বিকাশের অসাধারণ ক্ষেত্র হতে পারে। সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ১০ বছরে পাল্টে যাবে হাওরের চেহারা।

শীতের অতিথি পাখিদের স্বর্গরাজ্য হাওরে। হাওরের জীবন- প্রকৃতির এমন সাতন্ত্র্য  বৈচিত্র্যময়ী দর্শনীয় রূপের শোভা দেশী-বিদেশী পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে। তবে হাওরের পর্যটন ও উন্নয়ন দুটোই হতে হবে প্রাকৃতিক পরিববেশের ভারসাম্য বজায় রেখে।

কবিতার ভাষায় 'যে জলে আগুন জ্বলে- নেভেনা চোখের জলে'। সত্যিই হাওরের কৃষকের নয়নের জলে যেন নিয়তির নির্মমতার আগুন জ্বলে। অনেকটা নিয়তির উপরই নির্ভরশীল হাওরবাসীর জীবন-জীবিকা। এমন বহুমাত্রিক সম্ভাবনাকে উপজীব্য করে- 'হাওর : অদেখা ভুবন-অসীম সম্ভাবনা' বইটি লেখা হয়েছে। হাওরের সমস্যা নিয়ে যত লেখালেখি আছে সম্ভাবনা নিয়ে তেমন লেখালেখি নেই। এই বইয়ের লেখা কোনোভাবেই হাওরের পরিপূর্ণ চিত্র ধারণ করেনা। তারপরও আমার বিশ্বাস- আগামি দিনে হাওরপ্রেমি, গবেষক, সাংবাদিক ও লেখকদের জন্য বইটি হাওরের উন্নয়ন সম্ভাবনাকে এগিয়ে নেবার পথে কিঞ্চিৎ হলেও ভুমিকা রাখতে পারে।

বাংলাদেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পিছনে হাওরবাসীরও অনন্য অবদান রয়েছে। হাওরের মানুষেরা তাদের জীবনাচরণে ও মননে অতি প্রাকৃতিক। হাওরের পরিবেশও প্রাকৃতিক। রাস্তা-ঘাটসহ বহুমুখি উন্নয়নের ফলে হাওরাঞ্চল নিয়ে এখন বড় একটি আশাবাদের জায়গা তৈরি হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ উন্নয়ন হাওরের প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনস্ট করে করা হয়েছে যা টেকসই প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়রেনর প্রতিবন্ধক। আমাদের প্রত্যাশা সমন্বিত ও পরিকল্পিত উপায়ে প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা করে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ১০ বছরে পাল্টে যাবে হাওরের অর্থনৈতিক চেহারা।

বইটির সূচি তালিকায় হাওরের যেসব বিষয় স্থান পেয়েছে-
হাওর ঘেরা পলল ভুমি সুনামগঞ্জ, হাওরের প্রবেশদ্বার মোহনগঞ্জ, প্রাকৃতিক সম্পদ : হাওর, সম্পদ ও সৌন্দর্যের রানী টাঙ্গুয়ার হাওর, হাওরের প্রাণ-প্রকৃতি ও রূপ-বৈচিত্র্য, হাওর অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ, হাওরের পানির নিচের অপূর্ব জগৎ, হাওরে বৈচিত্র্যময় জলজ সম্পদ, মিঠাপানির মাদার ফিশারিজ, প্রাকৃতিক সুরক্ষায় হিজল-করচের বাগ, হাওরে পাখির কলতান, হাওর জলাশয়ে শাপলা-শালুক, হাওরের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি, হাওর অঞ্চলের জীবন ও সংস্কৃতি, হাওরাঞ্চলের লোকসাহিত্য, হাওরের ভাটিয়ালি গান,  বিলাপের সুরে 'মেয়েলি গীত', পদ্মপুরাণ পাঠ, বটকির গান, হাওরে বিবাহ উৎসবে 'ধামাইল গান', হাওরে জ্যোৎস্না উৎসব, ঐতিহ্যবাহী পলো বাওয়া উৎসব, হাওরে মাছের মেলা, হাওরবাসীর প্রাণ- মাছ আর ধান, হাওরে বিশ্বের বৃহত্তম গ্রাম-বানিয়াচং, হাওরবাসীর জীবন সংগ্রাম, ঢেউ বা আফালের সঙ্গে লড়াই, হাওরবাসীর জীবিকা, হাওরে হাঁস পালন, হাওরের গর্ব- শাহ আবদুল করিম,হাসন রাজা,  উকিল মুন্সী, দুর্বিন শাহ্, রাধারমণ দত্ত, কফিল উদ্দিন সরকার, রামকানাই দাশ;  হাওরের গৌরব- 'রামসার সাইট', 'হাওর ও চর উন্নয়ন ইনস্টিটিউট', হাওরের সম্পদ ও সম্ভাবনা -বছরে ৫০ লাখ টন বাড়তি খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব, আগামী দিনের খাদ্য ভান্ডার, পরিবেশবান্ধব পর্যটনের সম্ভাবনা, হাওরের বিকল্প জ্বালানি কালোমাটি, হাওরের করচের তেলে বায়োডিজেল, হাওরে হাঁসের খামার, হাওরের 'বাথান', হাওরে সবজি চাষ, স্পোর্ট ফিশ মহাশোল, হাওরে পর্যটন সম্ভাবনা, বাংলার অ্যামাজন-রাতারগুল, প্রকৃতির রানি বিছনাকান্দি, হাওরের বৈচিত্র্য, হাওরের ঘেটুগান, হাওর যেন পাখির মেলা, হাকালুকির মেছোবাঘ, হাওরের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রস্তাবনা, হাওরের ঐতিহ্য সংরক্ষণের সাংস্কৃতিক গবেষণা কেন্দ্র, হাওরাঞ্চলের গর্ব জিন বিজ্ঞানী ড.আবেদ চৌধুরী, হাওরের কৃষি ও কৃষকের বন্ধু জাপানি গবেষক তেৎসুও সুৎসুই এবং জেলা ভিত্তিক হাওরের তালিকা, জেলাভিত্তিক হাওরের আয়তন।  

বইটি ঘরে বসে পেতে ফোনে অর্ডার করুন : ০২-৪৭১১৪৫৮৭/০১৭৯১-১৮০২২১
বা-
সময় প্রকাশন
বইমেলায় স্টল নম্বর : ৮২০, ৮২১, ৮২২, ৮২৩ (৮২০-৮২৩) হতে সংগ্রহ করা যাবে।
অথবা-
অনলাইনে  www.rokomari.com অর্ডার করে পেতে চাইলে-
Hotline: 16297 (9 AM to 8 PM, Saturday to Thursday) 01708166185,01708166238 নাম্বারে যোগাযোগ করে সংগ্রহ করা যাবে।