ইসলামিক ডেস্ক:আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা বা কুরবানির ঈদকে সামনে রেখে দেশজুড়ে পশু কেনাবেচা এবং খামারগুলোর প্রস্তুতি পলে পলে মুখরিত হয়ে উঠছে। তবে কুরবানির এই আনন্দ উৎসবের প্রাক্কালে ইসলামি চিন্তাবিদ ও ওলামায়ে কেরামগণ কুরবানির মূল চেতনা ও নিয়তের বিশুদ্ধতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করছেন।
পবিত্র কুরআনের নির্দেশনা এবং হাদিসের আলোকে তারা মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, কুরবানি কেবলই কোনো সামাজিক উৎসব বা পশু জবাইয়ের প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি মহান আল্লাহর প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য ও ত্যাগের চূড়ান্ত পরীক্ষা।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“আল্লাহর কাছে কুরবানির পশুর গোশত বা রক্ত পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।” (সহিহ মুসলিম)
ইসলামি গবেষকদের মতে, এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো—কুরবানির পশুর আকার, রূপ কিংবা মূল্যের চেয়েও আল্লাহর কাছে সবচেয়ে বেশি মূল্যবান হলো বান্দার অন্তরের ‘তাকওয়া’ বা খোদাভীতি এবং বিশুদ্ধ নিয়ত। লোকদেখানো মানসিকতা, সামাজিক বড়ত্ব জাহির করা কিংবা কেবলই মাংস খাওয়ার উদ্দেশ্যে কুরবানি করা হলে, তা আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না।
এই কুরবানিতে পশুর হাটে গিয়ে দরাদরি কিংবা সামাজিক মাধ্যমে পশুর প্রদর্শনীর চেয়ে নিজের আত্মশুদ্ধির দিকে মনোযোগী হওয়া প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব।
পাশাপাশি, কুরবানির একটি বড় সামাজিক দিক হলো ত্যাগের মহিমা ছড়িয়ে দেওয়া। নিজের পশুর মাংসের একটি বড় অংশ সমাজের দরিদ্র, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া কুরবানির অন্যতম বিধান। নিজের ভেতরের অহংকার ও পশুবৃত্তিকে কোরবানি দিয়ে অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর মাধ্যমেই কুরবানির প্রকৃত সার্থকতা ফুটিয়ে তোলা সম্ভব।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে লোকদেখানো মনোভাব বর্জন করে সম্পূর্ণ শরিয়াহসম্মত উপায়ে এবং তাকওয়া অর্জনের উদ্দেশ্যে কুরবানি করার তৌফিক দান করুন। আমিন।
কুরবানির মূল শিক্ষা হোক লোক দেখানো মনোভাব বর্জন ও তাকওয়া অর্জন
Typography
- Smaller Small Medium Big Bigger
- Default Helvetica Segoe Georgia Times
- Reading Mode


