ইসলামিক ডেস্ক:প্রতি বছর জিলহজ মাস এলে আমরা কুরবানির পশুর বয়স, তার শারীরিক নিখুঁত অবস্থা এবং সেটি শরিয়তসম্মত উপায়ে কেনা হচ্ছে কিনা তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করি। কিন্তু পশুর বাহ্যিক ত্রুটিমুক্ততার চেয়ে কুরবানি দাতার ভেতরের নিখুঁত হওয়া এবং তার নিয়ত সহি হওয়া বহুগুণ বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামী বিধান অনুযায়ী, কুরবানি দাতার মধ্যে প্রধানত যে গুণগুলো থাকা আবশ্যক:
হালাল উপার্জন: কুরবানির পশুর মূল্য অবশ্যই সম্পূর্ণ হালাল টাকা থেকে আসতে হবে। কোনো ব্যক্তি যদি সুদী কারবার, ঘুষ, দুর্নীতি বা অন্যের হক নষ্ট করে উপার্জিত অর্থ দিয়ে কোটি টাকার পশুও কুরবানি দেন, আল্লাহর দরবারে তার কোনো মূল্য নেই।
সহি নিয়ত (লোকদেখানো মানসিকতা বর্জন): সমাজে নিজের সুনাম ছড়ানো, কে কত বড় বা দামি পশু কিনল এই প্রতিযোগিতার মানসিকতা কুরবানিকে পুরোপুরি নষ্ট করে দেয়। কুরবানি হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।
তাকওয়া বা খোদাভীতি: পবিত্র কুরআনে স্পষ্ট বলা হয়েছে—
"আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না ওগুলোর গোশত এবং রক্ত, বরং তাঁর কাছে পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।" (সূরা আল-হাজ্জ, আয়াত: ৩৭)
কুরবানি তখনই 'সহি' হবে, যখন পশুর পাশাপাশি কুরবানি দাতার মন, মানসিকতা এবং উপার্জনের উৎসও হবে নিখুঁত ও হালাল। পশুর বাহ্যিক সৌন্দর্যের চেয়ে দাতার অভ্যন্তরীণ পবিত্রতাই আল্লাহর দরবারে কবুলিয়তের একমাত্র মাপকাঠি।


