এগ্রিলাইফ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের উদীয়মান, পরিশ্রমী, মেধাবী ও জনপ্রিয় অ্যাকোয়াকালচার নিউট্রিশনিস্ট পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন স্বীকৃতি অর্জন করেছেন।
২০২৬ সালের ১০ মে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংগঠন International Society of Aquaculture Nutrition (ISAN)-এর প্রেসিডেন্ট Professor Dr. Luisa M. P. Valente, ভাইস প্রেসিডেন্ট Professor Dr. Delbert M. Gatling III এবং সংগঠনের বোর্ড সদস্যরা তাকে ISAN-এর একজন গর্বিত সদস্য হিসেবে মনোনীত করেন। বাংলাদেশের মৎস্য পুষ্টি খাতে তার গবেষণা, উদ্ভাবনী চিন্তাধারা এবং প্রান্তিক মাছ চাষিদের উন্নয়নে কার্যকর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবেই এই সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে ফিশ ফিড নিউট্রিশন, ফিড কষ্টিং, ফিডমিল ব্যবস্থাপনা, টেকসই অ্যাকোয়া ফিড উৎপাদন এবং খামার পর্যায়ে পুষ্টি ব্যবস্থাপনায় সাইফি নাসিরের গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও বাস্তবভিত্তিক কাজ ISAN-এর নজর কাড়ে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মাছের পুষ্টি উন্নয়ন, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী খাদ্য উৎপাদন এবং খামারিদের লাভজনক উৎপাদন নিশ্চিত করতে গবেষণা ও পরামর্শমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।
দ্য International Society of Aquaculture Nutrition (ISAN) অক্টোবর ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসভিত্তিক একটি অলাভজনক বৈজ্ঞানিক সংগঠন। সংস্থাটি বিশ্বব্যাপী মাছ ও ক্রাস্টেসিয়ান ফিড নিউট্রিশন বিষয়ে গবেষণা, জ্ঞান বিনিময় এবং টেকসই অ্যাকোয়াকালচার উন্নয়নে কাজ করছে। গবেষক, শিল্প উদ্যোক্তা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় সৃষ্টি করে অ্যাকোয়া নিউট্রিশন ও ম্যানেজমেন্টে বৈশ্বিক সহযোগিতা বৃদ্ধিই সংগঠনটির অন্যতম লক্ষ্য।
ISAN বিশ্বজুড়ে অ্যাকোয়াকালচার পুষ্টি, অ্যাকোয়া ফিড উৎপাদন, পুষ্টির শারীরবৃত্তি এবং টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থাপনা নিয়ে গবেষণা ও জ্ঞান বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছে। প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, বৈজ্ঞানিক প্রকাশনা এবং গবেষণা সহযোগিতার মাধ্যমে সংস্থাটি নতুন প্রজন্মের গবেষক ও পেশাজীবীদের উৎসাহিত করছে।
পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বাংলাদেশের মৎস্যখাতে একজন উদীয়মান Aquaculture Nutritionist হিসেবে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহলে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছেন। তিনি মাছের খাদ্যের গুণগত মান উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় কমানো, পরিবেশবান্ধব ফিড প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের জন্য লাভজনক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তার গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম দেশের মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ ও টেকসই অ্যাকোয়াকালচার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এছাড়া তরুণ গবেষক ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত পরামর্শ প্রদান এবং আধুনিক অ্যাকোয়া নিউট্রিশন বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। দেশের মৎস্যখাতে আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক পুষ্টি ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি একজন আলোকিত মানুষ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
আন্তর্জাতিক সংগঠন ISAN-এর সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়ায় দেশের মৎস্য ও অ্যাকোয়াকালচার খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে বলে আশা করেন সংশ্লিষ্টরা। এই অর্জন বাংলাদেশের অ্যাকোয়া নিউট্রিশন গবেষণাকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে নিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলেও আশা প্রকাশ করেন সুধীজনেরা।


