
বাকৃবি প্রতিনিধিঃবাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) আবাসিক হলে ‘ছাত্রলীগ পুনর্বাসন’–এর অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (২৭ জানুয়ারি) মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাওলানা ভাসানী হলে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের প্রবল প্রতিবাদের মুখে প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার মধ্যরাতে মাওলানা ভাসানী হলের নিচতলায় ‘খ’ ব্লকের ১০৯ নম্বর কক্ষে ছাত্রলীগের ৫ জন কর্মীকে ওঠানোর চেষ্টা করা হয়। অভিযোগ ওঠে, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শফিকুল রহমান শফিকের হস্তক্ষেপে এই পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া চলছিল। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পরপরই হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।
রাত ১২টার পর শিক্ষার্থীরা হল প্রাঙ্গণে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ মিছিল শুরু করেন। এ সময় তারা ‘ছাত্রলীগের আস্তানা, ভাসানী হলে হবে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ওই কর্মীদের হল থেকে বের করে দেওয়ার দাবি জানান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের উপস্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বাগ্বিতণ্ডা ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, নিয়মবহির্ভূতভাবে হলে ছাত্রলীগ কর্মীদের আশ্রয় দেওয়ার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় একপর্যায়ে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি হল প্রভোস্টকে অবহিত করেন। পরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে রাত দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বাকি দুজন পরিস্থিতি টের পেয়ে আগেই হল ত্যাগ করেন।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘ঘটনাটি জানতে পেরে প্রভোস্টের অনুমতিক্রমে প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা আমরা ওই হলে উপস্থিত হই। ছাত্রলীগ নামধারী তিনজনকে প্রক্টরিয়াল বডির গাড়িতে করে হল থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে আমরা জেনেছি, হল প্রভোস্টের অনুমতি ছাড়াই তারা হলে ওঠার চেষ্টা করেছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য হল প্রভোস্ট প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।’
এদিকে এ ঘটনায় ছাত্রদলের সদস্যসচিব মো. শফিকুল রহমান শফিক অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, ‘হলে ছাত্রলীগ নামধারী যাদেরকে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে, তাদের সাথে আমার ও আমার কর্মীদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমার কথা একটাই- ফ্যাসিবাদের দোসরদের এই ক্যাম্পাসে ঠাঁই হবে না। ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগ পুনর্বাসন হোক এবং এ নিয়ে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হোক- এটা আমি কখনই চাই না। আমি ওই হলে ওঠার পর থেকেই আমার নামে একটি মহল অনলাইনে এ ধরনের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘হলে ছাত্রদের লেভেলের বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। তারা কাদের হলে সিট দিচ্ছে, কোন বন্ধুকে তুলছে- এটা সম্পূর্ণ তারা বলতে পারবে। হয়ত পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এখন তারা তাদের হলে উঠতে বাঁধা দিচ্ছে। আমি গতকাল রাতে বিষয়টি জানার পর প্রক্টর স্যারকে সমাধান করার জন্য বলি। তবে হলে সিট দেওয়ার ক্ষমতা একমাত্র হল প্রভোস্ট স্যারের আছে।’
মাওলানা ভাসানী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শরীফ-আর-রাফি বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের পর যারা গেস্টরুম কালচার, র্যাগিংয়ের সাথে জড়িত তাদের হলে না ওঠানোর বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা সেটি এখনও বলবত রয়েছে। তারা কখনই হলে উঠতে পারবে না। সাধারণ ছাত্রদের কাছে আমি চিঠি দিবো। এরকম যাদের নামে অভিযোগ আছে তাদের বিষয়ে ছাত্ররা প্রমাণ সাপেক্ষে অভিযোগ দিলে হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমি ব্যবস্থা নেবো।’
























