সোসাইটি ফর ফ্রেশওয়াটার সায়েন্স (SFS)-এর সদস্য হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেলেন পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির

এগ্রিলাইফ প্রতিবেদক: বাংলাদেশের মৎস্য ও অ্যাকোয়াকালচার সেক্টরে আধুনিক পুষ্টি বিজ্ঞান ও ইনোভেটিভ গবেষণায় যে কজন তরুণ ও প্রতিভাবান পুষ্টিবিদ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখে চলেছেন, তাদের মধ্যে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির অন্যতম। পেশাগত দক্ষতা, বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি অর্জন করেছেন সোসাইটি ফর ফ্রেশওয়াটার সায়েন্স (Society for Freshwater Science–SFS)-এর সদস্যপদ।

গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাকে এই আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সংগঠনের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়। এই অর্জন শুধু তার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের মৎস্য পুষ্টিবিদ, গবেষক এবং সমগ্র অ্যাকোয়াকালচার সেক্টরের জন্য এক গর্বের অধ্যায় ও অনুপ্রেরণার প্রতীক।

টাংগাইলের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বর্তমানে দেশের স্বনামধন্য কেজিএস গ্রুপে এজিএম (ফিশ ফিড) পদে ঢাকা হেড অফিসে কর্মরত আছেন। কর্মজীবনে তিনি মৎস্য ও অ্যাকোয়াকালচার সেক্টরে ফিড ফর্মুলেশন, পুষ্টি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উৎপাদন প্রযুক্তি নিয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছেন। দেশীয় পর্যায়ের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার কাজ প্রশংসিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সোসাইটি ফর ফ্রেশওয়াটার সায়েন্স (SFS) একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান, যা মিঠা পানির ইকোসিস্টেম নদী, স্রোত, হ্রদ, জলাধার ও মোহনা এবং জলজ ও স্থলজ বাস্তুতন্ত্রের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করে। ১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয়ের হাভানায় ১৩ জন চার্টার সদস্যের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি প্রথমে মিডওয়েস্ট বেন্থোলজিক্যাল সোসাইটি নামে পরিচিত ছিল। পরবর্তীতে এটি নর্থ আমেরিকান বেন্থোলজিক্যাল সোসাইটি এবং বর্তমানে সোসাইটি ফর ফ্রেশওয়াটার সায়েন্স নামে বিশ্বব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বর্তমানে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা ১৮০০-এর বেশি, যেখানে শিক্ষার্থী, গবেষক, একাডেমিশিয়ান, পরামর্শক ও সরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা যুক্ত আছেন।

এছাড়াও পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির ফিশারিজ সোসাইটি অব বাংলাদেশ (FSB), নেপাল ফিশারিজ সোসাইটি (NFS), নাইজেরিয়া ফিশারিজ সোসাইটি (NFS) এবং বাংলাদেশ তেলাপিয়া ফাউন্ডেশন-এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে বিভিন্ন গবেষণা ও পেশাগত কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই কন্যা সন্তানের জনক। তার এই অর্জনে বাংলাদেশের সমগ্র অ্যাকোয়াকালচার ও ফিড ইন্ডাস্ট্রিতে আনন্দের বন্যা বয়ে গেছে। সহকর্মী, শিক্ষার্থী এবং সংশ্লিষ্ট সেক্টরের পেশাজীবীরা তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

মৎস্য ও অ্যাকোয়াকালচার সেক্টরের সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পুষ্টিবিদ সাইফি নাসিরের এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের মৎস্য খাতকে নতুনভাবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে এবং তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী অনুপ্রেরণার বাতিঘর হয়ে থাকবে।