
ইসলামিক ডেস্ক: আধুনিক বিজ্ঞান আজ প্রমাণ করেছে যে আকাশমণ্ডলী একটি অত্যন্ত নিখুঁত ও ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবস্থায় সাজানো। গ্রহ-নক্ষত্র, গ্যালাক্সি ও মহাবিশ্বের গঠন এমন পরিপূর্ণ যে এতে কোনো ফাটল বা ত্রুটি নেই। বায়ুমণ্ডলের স্তর, ওজোন স্তর, মহাকর্ষীয় সাম্যাবস্থা সবই জীবনের জন্য অনুকূলভাবে সৃষ্টি করা হয়েছে। এই নিখুঁত বিন্যাস কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এক সক্ষম ও প্রজ্ঞাময় স্রষ্টার নিদর্শন।
পবিত্র কুরআনের সূরা কাফের ৬ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রতি একটি চিন্তা-উদ্রেককারী প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন: "তারা কি তাদের ওপরে আকাশের দিকে তাকায় না কিভাবে আমরা তা বানিয়েছি এবং তাকে সুশোভিত করেছি আর তাতে কোন ফাটল নেই?" (সূরা কাফ: ৬)। এই আয়াতটি মানুষকে মহাবিশ্বের সৃষ্টির দিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে এবং স্রষ্টার অসীম জ্ঞান ও ক্ষমতা সম্পর্কে চিন্তা করতে আহ্বান জানায়।
এই আয়াতটি মুমিনদের ঈমানকে শক্তিশালী করতে উৎসাহিত করে। যখন কোনো ব্যক্তি রাতের আকাশের দিকে তাকায়, বিশাল নক্ষত্রপুঞ্জ এবং অসীম মহাবিশ্বের সৌন্দর্য অবলোকন করে, তখন স্বভাবতই তার হৃদয়ে স্রষ্টার মহিমা ও ক্ষমতার প্রতি গভীর বিশ্বাস জন্ম নেয়। এই পর্যবেক্ষণ মানুষকে আধ্যাত্মিকভাবে উন্নত করে এবং দুনিয়ার ক্ষুদ্রতা থেকে ঊর্ধ্বে উঠে আল্লাহর সামনে বিনম্র হতে শেখায়।
মহান রবের কাছে ক্ষমা ও দয়া প্রার্থনার জন্য এই আয়াতটি একটি শক্তিশালী মাধ্যম। আকাশের নিখুঁত সৃষ্টি যখন আমাদের নিজেদের অপূর্ণতা ও দুর্বলতার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, তখন আমরা অনুভব করি আল্লাহর ক্ষমা ও রহমত কত বেশি প্রয়োজন। আসুন, আমরা এই আয়াতের শিক্ষাকে অন্তরে ধারণ করি, মহাবিশ্বের নিদর্শনগুলোতে চিন্তা-গবেষণা করে আমাদের ঈমানকে সমৃদ্ধ করি এবং আল্লাহর কাছে ক্ষমা, দয়া ও হেদায়াত কামনা করি।-আমিন
























