ফিশ ফিডে ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি (aW) নিয়ন্ত্রণে গবেষণামূলক তথ্য তুলে ধরলেন পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির

এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি: ফিশ ফিডের নিরাপত্তা, গুণমান এবং দীর্ঘস্থায়ী শেলফ-লাইফ নিশ্চিত করতে ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি (aW) একটি মৌলিক ও গবেষণাভিত্তিক সূচক বলে জানিয়েছেন পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির। তিনি বলেন, ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি (aW) হলো ফিশ ফিডে এমন পানির পরিমাণের পরিমাপ, যা প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীবের বৃদ্ধির জন্য উপলব্ধ থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফিশ ফিডে aW যদি ০.৬০ বা তার নিচে রাখা যায়, তাহলে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ও টক্সিন উৎপাদন কার্যকরভাবে বাধাগ্রস্ত হয়।

পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির গবেষণালব্ধ তথ্যের আলোকে জানান, ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি (aW) সরাসরি ফিডের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার সঙ্গে সম্পর্কিত। মোল্ড প্রতিরোধের জন্য আদর্শভাবে ফিশ ফিডে aW ০.৬০-এর নিচে রাখা প্রয়োজন, যদিও বাস্তব উৎপাদনে শুষ্ক ফিডের ক্ষেত্রে সাধারণত ১০–১২% আর্দ্রতা বজায় রাখা হয়। এই ভারসাম্য খাদ্যের অখণ্ডতা রক্ষা করে, পুষ্টির ক্ষয় ও অতিরিক্ত প্রসারণ রোধ করে এবং পেলেটের গুণগতমান অক্ষুণ্ন রাখে।

সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রিত ওয়াটার অ্যাক্টিভিটির গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বলেন, এটি রোগজীবাণুর বিস্তার কমায়, স্টোরেজ সময় বাড়ায় এবং অতিরিক্ত শুকানো বা নষ্ট হওয়ার কারণে আর্থিক ক্ষতি এড়াতে সহায়তা করে। গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে, ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি (aW) নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ব্যাকটেরিয়া ও মোল্ডের বৃদ্ধি সীমিত হয়, ফলে ক্ষতিকারক ও বিষাক্ত উপাদান তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমে এবং ভিটামিন ও চর্বির মতো সংবেদনশীল পুষ্টি উপাদান সংরক্ষিত থাকে।

ফিশ ফিডের গুণগত বৈশিষ্ট্যের ওপর প্রভাব প্রসঙ্গে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বলেন, ওয়াটার অ্যাক্টিভিটির (aW) মূল গুরুত্ব চারটি বিষয়ে কেন্দ্রীভূত (১) মাইক্রোবিয়াল নিরাপত্তা (২) সংরক্ষণ ও শেলফ-লাইফ বৃদ্ধি (৩) পুষ্টির মান নিয়ন্ত্রণ এবং (৪) ফিডের টেক্সচার ও প্যালাটিবিলিটি বজায় রাখা। সংক্ষেপে, গবেষণাভিত্তিক ফিড ফর্মুলেশনে aW নিয়ন্ত্রণ একটি মৌলিক বিষয়, যা ফিডকে নিরাপদ, সুস্বাদু, পুষ্টিকর ও মাছ চাষের জন্য উপযোগী করে তোলে।

ওয়াটার অ্যাক্টিভিটির বিভিন্ন মাত্রার প্রভাব বিশ্লেষণ করে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির জানান, উচ্চ aW (>০.৬০) থাকলে বেশিরভাগ প্যাথোজেনিক ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকারক জীবাণুর বৃদ্ধি ঘটে। মধ্যবর্তী aW (≈০.৬০) আর্দ্রতা ও মোল্ড বৃদ্ধিকে উৎসাহিত করতে পারে, ফলে নরম পেলেট দ্রুত নষ্ট হয়। অপরদিকে, কম aW (<০.৬০) অধিকাংশ অণুজীবের বৃদ্ধি রোধ করলেও মোল্ড প্রতিরোধে সঠিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা জরুরি।

ফিশ ফিড প্রযুক্তিতে ওয়াটার অ্যাক্টিভিটির ভূমিকা তুলে ধরে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বলেন, এটি কার্যত একটি “আর্দ্রতা সুপার-স্পেক” হিসেবে কাজ করে। ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি (aW) নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মাইক্রোবিয়াল সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ফিডের কাঙ্ক্ষিত শারীরিক ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা সম্ভব হয়। এতে এনজাইমেটিক প্রতিক্রিয়া, প্রোটিন বিকৃতকরণ এবং স্টার্চ জেলাটিনাইজেশন নিয়ন্ত্রিত থাকে, যা ফিডের সামগ্রিক অখণ্ডতা রক্ষা করে।

ফিড উৎপাদন কৌশল বিষয়ে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বলেন, ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি (aW) কমাতে ড্রাইং ও কুলিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে আর্দ্রতা হ্রাস করা জরুরি। পাশাপাশি, ময়েশ্চার অপটিমাইজেশন প্রোগ্রাম অনুসরণ করলে জীবাণুর বৃদ্ধি ও ধীরগতির নষ্ট হওয়া প্রতিরোধ করা যায়। গবেষণাভিত্তিকভাবে দেখা গেছে, ফিশ ফিড সাধারণত ১০–১২% আর্দ্রতা বা aW ০.৬০-এর সামান্য নিচে উৎপাদন করলে মোল্ড ও ব্যাকটেরিয়ার ঝুঁকি কমে এবং পেলেটের টেক্সচার অক্ষুণ্ন থাকে।

সবশেষে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত শুকানো বা খুব কম aW থাকলে পেলেটের গুণমান ও লাভজনকতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। আদর্শভাবে ফিডের আর্দ্রতার স্থায়িত্ব এমন হওয়া উচিত, যাতে সময়ের সাথে পুষ্টির প্রসারণ ন্যূনতম থাকে বিশেষ করে ৩০ মিনিটে ২০% এর কম প্রসারণ। তার মতে, সঠিক ওয়াটার অ্যাক্টিভিটি (aW) নিয়ন্ত্রণই নিরাপদ, কার্যকর ও টেকসই মাছ চাষের অন্যতম বৈজ্ঞানিক ভিত্তি।