কোস্ট ফাউন্ডেশনের আয়োজনে পোল্ট্রি খামারিদের নিয়ে "গ্লোবাল গ্যাপ" বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার পোল্ট্রি খামারিদের নিয়ে "গ্লোবাল গ্যাপ" বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সম্প্রতি কোস্ট ফাউন্ডেশন কক্সবাজার কেন্দ্রের আয়োজনে Rural Microenterprise Transformation Project (RMTP) পোল্ট্রি প্রকল্পের আওতায় এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়। এতে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. হাবীব নূর (ডিভিএম, স্কাইভেট ক্লিনিক) এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রকল্প ব্যবস্থাপক নূরে আলম ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার মোহাম্মদ শাহজাহান ।

নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদনে গ্লোবাল গ্যাপ চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রশিক্ষকরা বলেন, দেশের লক্ষ লক্ষ খামারি ব্রয়লার মুরগির মাংস উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তবে কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্যের কারণে ব্রয়লার মাংসের চাহিদা কমছে। নিরাপদ আমিষের যোগান নিশ্চিত করতে গ্লোবাল গ্যাপ চর্চার অনুসরণ অপরিহার্য। ইতোমধ্যে ভারত, মায়ানমার ও থাইল্যান্ড গ্লোবাল গ্যাপ অনুসরণ করে নিরাপদ পোল্ট্রি উৎপাদন ও রপ্তানি করছে। বাংলাদেশেও এটি বাস্তবায়ন করা হলে ভোক্তাদের আস্থা ফিরে আসবে এবং খামারিরা লাভবান হবেন।

প্রশিক্ষণে গ্লোবাল গ্যাপ চর্চার নিম্মলিখিত মূল বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়:

  • জৈব নিরাপত্তার কঠোর পরিপালন
  • ভালো মানের, ইনব্রিডিং মুক্ত একদিন বয়সী বাচ্চার সরবরাহ
  • নিরাপদ ফিড ও পানির নিশ্চিতকরণ
  • এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমিয়ে প্রিবায়োটিক ও প্রোবায়োটিকের ব্যবহার
  • রেজিস্টার্ড ভেটেরিনারিয়ান নিয়োগ
  • ঔষধের প্রত্যাহারকাল মেনে চলা
  • ব্রয়লার মুরগিকে ৪০-৪২ দিন পর্যন্ত লালনপালন
  • ডিএলএস-এর মাধ্যমে খামার নিবন্ধন
  • এফসিআর-এর পরিবর্তে গ্রোথ চার্ট অনুসরণ
  • বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন

এন্টিবায়োটিক নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়ে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেন, দেশের ৮০% খামারি সর্বস্ব বিনিয়োগ করে খামার স্থাপন করেন তবে জৈব নিরাপত্তা সম্পর্কে সচেতনতার অভাব এবং রোগ প্রতিরোধের জন্য অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক ব্যবহারের ফলে খরচ বেড়ে যাচ্ছে ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

পোল্ট্রি বিশেষজ্ঞরা বলেন, জয়পুরহাটের সোনালি মুরগি খামারে গড়ে ৩৫ টাকা ঔষধ খরচ হচ্ছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে ২৫% খামার বন্ধ হয়ে গেছে এবং অনেক খামারি ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। জৈব নিরাপত্তার কৌশল অনুসরণ করলে এন্টিবায়োটিকের ব্যবহার কমবে, রোগপ্রবণতা হ্রাস পাবে ও উৎপাদন খরচ কমবে ফলে ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ পোল্ট্রি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে প্রকল্প ব্যবস্থাপক নূরে আলম উপস্থিত সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গ্লোবাল গ্যাপ বাস্তবায়নের মাধ্যমে পোল্ট্রি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হবে।