রাজশাহীতে “পার্টনার” প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মো. এমদাদুল হকঃ কৃষি উন্নয়ন, পুষ্টি নিরাপত্তা, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারের লক্ষ্যে রাজশাহী অঞ্চলে “পার্টনার” প্রকল্পের আওতায় দিনব্যাপী আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ সোমবার (৬ এপ্রিল) কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের আঞ্চলিক কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ কর্মশালার আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এবং “Program on Agricultural and Rural Transformation for Nutrition, Entrepreneurship and Resilience in Bangladesh (PARTNER)” প্রকল্পের অর্থায়নে কর্মশালাটি পরিচালিত হয়।

কর্মশালায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষক, উদ্যোক্তা, উৎপাদক, রপ্তানিকারক, কৃষিপণ্য ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকসহ প্রায় ২০০ জন অংশগ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা শাখার অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর রহমান। তিনি বলেন, “কৃষি এগিয়ে গেলে দেশ এগিয়ে যাবে। তাই কৃষিকে ভালোবেসে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. আজিজুর রহমান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার ড. মো. মোতালেব হোসেন, পার্টনার প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) আবুল কালাম আজাদ এবং রাজশাহী বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) ড. মো. আবুল কাসেম।

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্টনার প্রকল্পের অ্যাডিশনাল প্রোগ্রাম ডিরেক্টর কৃষিবিদ ড. গৌর গোবিন্দ দাশ। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কার্যালয়ের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাবিনা ইয়াছমিন।

কর্মশালায় বক্তারা “পার্টনার” প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরেন। আলোচনায় উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও উত্তম কৃষি চর্চার সম্প্রসারণ, ব্রি উদ্ভাবিত নতুন ধানের জাতের বিস্তার, আধুনিক সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্মার্ট কৃষি কার্ড প্রদান, তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টি, অংশীজনদের প্রশিক্ষণ এবং ফসলের সাপ্লাই চেইন উন্নয়ন বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

এছাড়া প্রকল্পের আওতায় কৃষি অবকাঠামো নির্মাণ ও সংস্কার, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, সেচ যন্ত্রপাতি সরবরাহ, মোবাইল ক্রপ ক্লিনিক পরিচালনা, কৃষকদের প্রণোদনা প্রদান, কৃষিপণ্যের বিপণন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধির কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “পার্টনার” প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে খোরপোষ কৃষি ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক কৃষিতে রূপান্তরিত হবে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটবে এবং বাংলাদেশের কৃষি আরও টেকসই, নিরাপদ ও লাভজনক হয়ে উঠবে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিগন পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম তুলে ধরেন।