
বাকৃবি প্রতিনিধি:বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের আয়োজনে একটি পোস্টার প্রেজেন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) অনুষদীয় করিডোরে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান। আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক, বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটির সভাপতি এবং মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম এবং ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতালের পরিচালক, বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস ২০২৬ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম।
অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন সার্জারি ও অবস্টেট্রিক্স বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল আলম, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম, মাইক্রোবায়োলজি এন্ড হাইজিন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, ফিজিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলম মিয়া, প্যারাসাইটোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান, পোস্টার প্রেজেন্টেশন উপকমিটির আহ্বায়ক প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন, মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোছা. সোনিয়া পারভীনসহ অনুষদীয় সকল বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী।
অনুষ্ঠানে ভেটেরিনারি শিক্ষার্থীরা প্রাণিস্বাস্থ্য, রোগ প্রতিরোধ, জনস্বাস্থ্য, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন, আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি এবং ওয়ান হেলথ বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণা ও উদ্ভাবনী ধারণা পোস্টারের মাধ্যমে উপস্থাপন করেন।
পোস্টার প্রেজেন্টেশনে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, এ ধরনের আয়োজন তাদের গবেষণামুখী চিন্তা, উপস্থাপনা দক্ষতা এবং বাস্তবমুখী জ্ঞান অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান বলেন, প্রাণিস্বাস্থ্য ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ভেটেরিনারি চিকিৎসকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য, আর শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে সেই পেশাদারিত্বের পরিচয় দিচ্ছে। বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবসের এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের গবেষণার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়ে তাদের দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। আমি বিশ্বাস করি, আজকের এই তরুণরাই আগামীর উন্নত বাংলাদেশ ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই পোস্টার প্রেজেন্টেশন শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল মেধার এক দারুণ বহিঃপ্রকাশ। আমি অত্যন্ত আনন্দিত যে, শিক্ষার্থীরা আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি ও ওয়ান হেলথ বিষয়ে অত্যন্ত সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ গবেষণাধর্মী বিষয়গুলো তুলে ধরেছে। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভেটেরিনারি পেশার প্রতি গভীর মমতা ও দায়বদ্ধতা সৃষ্টিতে সহায়ক। আমি বিশ্বাস করি, আজকের এই উদ্ভাবনী ধারণাগুলো ভবিষ্যতে প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নে ও টেকসই উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।
অধ্যাপক ড. মো. মাহমুদুল আলম বলেন, বিশ্ব ভেটেরিনারি দিবস উপলক্ষে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাস্তবমুখী জ্ঞান ও গবেষণার সাথে পরিচিত করা। প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের পাশাপাশি 'ওয়ান হেলথ' ধারণাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা যে চমৎকার পোস্টার উপস্থাপন করেছে, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে। এ ধরনের সৃজনশীল চর্চা তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াবে এবং কর্মক্ষেত্রে বাস্তব সমস্যার সমাধানে দক্ষ করে তুলবে। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে শিক্ষার্থীরা এভাবেই নতুন নতুন গবেষণার মাধ্যমে আমাদের ভেটেরিনারি পেশাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অধ্যাপক ড. রোখসানা পারভীন বলেন, প্যাথলজি বা রোগ নির্ণয়বিদ্যার দৃষ্টিকোণ থেকে শিক্ষার্থীদের উপস্থাপনগুলো ছিল অত্যন্ত তথ্যবহুল ও বস্তুনিষ্ঠ। রোগ প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় যে আধুনিক ও সচেতন দৃষ্টিভঙ্গি তারা আজ প্রদর্শন করেছে, তা আমাদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বিশেষভাবে আশাবাদী করে তোলে। ক্লাসরুমের বাইরে শিক্ষার্থীদের এমন গবেষণায় সরাসরি অংশগ্রহণ তাদের ব্যবহারিক ও প্রয়োগিক জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে। আশা করছি, এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তারা ভবিষ্যতে দেশ ও জাতির প্রয়োজনে একজন দক্ষ ভেটেরিনারিয়ান হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে।
























