
এগ্রিলাইফ প্রতিনিধি:ময়মনসিংহ বিভাগ মাছ চাষের জন্য বেশ সুপরিচিত। বিশেষ করে পাবদা, শিং ও গোলশা, মাগুর চাষের জন্য ফুলপুর অঞ্চলেও পরিচিতি রয়েছে। এ এলাকার মৎস্যচাষীদের বৈজ্ঞানিক ও কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে “গুণগত খাদ্য পরিমিত পরিমাণ, মাছের বৃদ্ধি চাষির লাভ” প্রতিপাদ্যে এক দিনের মৎস্য প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করে নারিশ ফিড। কর্মশালায় সার্বিক সহযোগিতা করেছে ইউএস গ্রেইনস অ্যান্ড বায়োপ্রোডাক্টস কাউন্সিল (USGBC)।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১১টায় ফুলপুর রহিমগঞ্জের ধন্তায় অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রায় ৭০ জন মৎস্যচাষি, ফিড ডিলার ও সংশ্লিষ্টরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণটি দুই সেশনে অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম সেশনে মাছের বৈজ্ঞানিক চাষ পদ্ধতি বিষয়ে তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং দ্বিতীয় সেশনে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন আন্তর্জাতিক মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড. মহিউদ্দিন আমিরুল কবির চৌধুরী।
নারিশ ফিডস লিমিটেডের জুনিয়র এজিএম মো: ওবায়দুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইউএস গ্রেইনস অ্যান্ড বায়োপ্রোডাক্টসের গ্লোবাল স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ট্রেড ম্যানেজার মার্ক সিভিয়ার, ফুলপুর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন, সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং বিভাগের জিএম এস. এস. এ. হক, সেলস অ্যান্ড সার্ভিস সিনিয়র ডিজিএম ড. মুহাম্মদ মুছা কালিমুল্লাহ, ইউএস গ্রেইনস অ্যান্ড বায়োপ্রোডাক্টসের কনসালটেন্ট মাহি আলম সারোয়ার, মৎস্য বিশেষজ্ঞ ড মহিউদ্দিন আমিরুল কবির চৌধুরীসহ প্রায় ৫০ জন খামারি।
এই কর্মশালায় আধুনিক অ্যাকুয়াকালচার প্রযুক্তি, পুকুর ব্যবস্থাপনা, সুষম খাদ্য প্রয়োগ, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির সর্বোত্তম পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে এস. এস. এ. হক বলেন, “মাছ চাষে লাভবান হতে হলে উৎপাদন খরচ কমাতে হবে। এর জন্য প্রয়োজন ভালো মানের ফিড ও উন্নত জাতের পোনা। নারিশ ফিড পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ, অ্যান্টিবায়োটিক ও কেমিক্যালমুক্ত। আমাদের প্রডাক্টের গুণগত মানের কারণেই যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস গ্রেইনস অ্যান্ড বায়োপ্রোডাক্টস কোম্পানি আমাদের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী হয়েছে।”
ড. মহিউদ্দিন আমিরুল কবির চৌধুরী বলেন, “খাদ্য, পোনা ও পুকুর ব্যবস্থাপনা সঠিক না হলে মাছের স্ট্রেস বাড়ে এবং মৃত্যুহারও বৃদ্ধি পায়। পানিতে অক্সিজেন কমে গেলে একই সমস্যা দেখা দেয়। তাই এয়ারেটর ব্যবহার এবং অ্যান্টি-স্ট্রেস ব্যবস্থাপনা গুরুত্বপূর্ণ।”
ড কবির আরও বলেন, “নারিশ ফিড ব্যবহারের ফলে পুকুরের পানির গুণাগুণ ভালো থাকে, অ্যামোনিয়া উৎপাদন কম হয় এবং মাছের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ে। ফলে অল্প জায়গায় বেশি উৎপাদন সম্ভব।”
ফুলপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. উজ্জ্বল হোসেন বলেন, “দেশের প্রাণিজ আমিষের ৬০ ভাগ আসে মৎস্য খাত থেকে। মানুষের খাদ্য উৎপাদনে যারা কাজ করেন তারাই প্রকৃত মানুষ । ভালো পোনা, পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ খাদ্য ও আদর্শ পরিবেশ ছাড়া উন্নত মাছ উৎপাদন সম্ভব নয়। নারিশ এ ক্ষেত্রে একটি শীর্ষ প্রতিষ্ঠান। আমরা বাজার চ্যানেলের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কাজ করছি যাতে চাষিরা আরও লাভবান হন। এছাড়া দেশীয় খাদ্যপণ্য থেকে মাছের খাদ্য তৈরীর প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে । ”
ডা. মুহাম্মদ মুছা কালিমুল্লাহ বলেন, নিরাপদ খাদ্য তৈরী করার জন্য প্রাণীর নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ করতে হবে। এই ক্ষেত্রে নারিশের ফিড শতভাগ নিরাপদ। এছাড়া নারিশের ফিড খেলে প্রাণীর রোগবালাই কম হয়। ফলে প্রাণী সতেজ থাকে, উৎপাদনও বেশি হয় । সর্বোপরি, নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক মুক্ত খাদ্যপণ্য উৎপাদনে সক্রিয় হতে হবে।
গ্লোবাল স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড ট্রেড ম্যানেজার মার্ক সিভিয়ার বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও খামারিদের সমন্বয়ে গঠিত। ৯টি অফিসের মাধ্যমে আমরা ৭০টি দেশে কাজ করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো কম খরচে খামারিদের লাভজনক করা। ময়মনসিংহ মাছ চাষের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু। তাই প্রথম এখানে এসেছি। নারিশের সহযোগিতায় আমরা বৈজ্ঞানিক মাছ চাষ পদ্ধতি নিয়ে কাজ করব এবং সফলতা পেলে তা সারাদেশে ছড়িয়ে দেব।”
মৎস্যচাষি মুহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, “মাছ চাষের সবচেয়ে বড় বাধা বাজারব্যবস্থা। বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে আমাদের লোকসান হয়। সরকার যদি বাজারের বাঁধা দূর করে এবং রপ্তানির সুযোগ বাড়ায়, তা হলে চাষিরা আরও লাভবান হবে। বাস্তবে শেখার কোনো শেষ নেই । এই কর্মশালাও থেকে আমরা অনেক কিছু জানতে পেরেছি।”
জুনিয়র এজিএম মো: ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “মাছ চাষে লাভজনক হতে হলে ভালো জাতের পোনা, মানসম্মত খাদ্য, উপযুক্ত পরিবেশ, পানির গুণাগুণ এবং উন্নত প্রোবায়োটিক প্রয়োজন। ভালো প্রোবায়োটিক ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না, ফলে উৎপাদন ব্যয় কমে। নারিশ ফিডে এসব উপাদানের সমন্বয় রয়েছে, যা মাছের সুস্বাস্থ্য ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক।”
প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের মূল্যায়নের জন্য কুইজ আয়োজন করা হয় এবং পরে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মশালার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
























