
এগ্রিলাইফ ডেস্ক: বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশন (BPIA) পোল্ট্রি খাতে প্যারেন্ট স্টক (পি এস) বাচ্চা আমদানি নিষিদ্ধ বা অতিরিক্ত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাবনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির মতে, পর্যাপ্ত প্রস্তুতি ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ডিম ও মুরগির মাংসের সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে প্রান্তিক খামারি থেকে শুরু করে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত।
আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ পোল্ট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব মোশাররফ হোসেন চৌধুরী ও সেক্রেটারি জেনারেল এম. সাফির রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
BPIA বলছে, পোল্ট্রি খাত কেবল একটি শিল্প নয় এটি দেশের প্রাণিজ আমিষের প্রধান উৎস, গ্রামীণ অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি এবং লাখো মানুষের জীবিকা ও কর্মসংস্থানের ভিত্তি। বর্তমান কাঠামোতে পি এস বাচ্চা আমদানি সীমিত হলে বাজারে প্রতিযোগিতা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি করে মূল্য অস্থিরতার আশঙ্কা বাড়াতে পারে।
সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, আমদানি প্রক্রিয়া কঠোর হলে কিছু বড় প্রতিষ্ঠানের ওপর সরবরাহ নির্ভরতা বেড়ে যেতে পারে। এতে করে প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিরা সময়মতো বাচ্চা না পেলে উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটতে পারে, যার পরোক্ষ প্রভাব পড়বে ডিম ও মুরগির মাংসের বাজারে। BPIA মনে করে, এ পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারণে ভারসাম্য ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার কাঠামো বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
BPIA-এর মতে, টেকসই সমাধান হিসেবে পি এস বাচ্চা আমদানিতে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা নয়; বরং সংকটকালে প্রয়োজন অনুযায়ী আমদানির সুযোগ রেখে একটি উন্মুক্ত ও নমনীয় কাঠামো থাকা জরুরি। পাশাপাশি বিদ্যমান পশু রোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ও আমদানি নীতিমালা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন, বায়োসিকিউরিটি জোরদার এবং স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক মনিটরিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটি আরও জানায়, প্রতিযোগিতামূলক বাজার, বহুমুখী সরবরাহ উৎস এবং প্রান্তিক ও মাঝারি খামারিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে ভোক্তা স্বার্থ, বাজার স্থিতিশীলতা ও খাদ্য নিরাপত্তা একসাথে রক্ষা করা সম্ভব হবে। এ লক্ষ্যেই নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে BPIA।
























