মাছের খাদ্যে পুষ্টি কার্যকারিতা বাড়াতে এনজাইম ও প্রিবায়োটিকের সমন্বয় জরুরি-পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির

এগ্রিলাইফ২৪ ডটকম: মাছের খাদ্যে পুষ্টির কার্যকারিতা বৃদ্ধির জন্য এনজাইম (Enzyme) এবং প্রিবায়োটিক/পোস্টবায়োটিক (Prebiotics/Postbiotics) উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, তবে এদের কাজের ধরন ভিন্ন এবং কার্যকারিতা বুঝতে গভীর গবেষণা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন খ্যাতনামা পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির।

এনজাইম হলো প্রোটিনজাত জৈব অনুঘটক, যা মাছের দেহে খাদ্যের জটিল উপাদান যেমন প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট ও চর্বিকে দ্রুত ভেঙে হজমযোগ্য করে তোলে। পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির জানান, উদ্ভিদজাত কাঁচামালসমৃদ্ধ খাদ্যে এনজাইম বিশেষভাবে কার্যকর, কারণ এটি ফাইটেট ও এনএসপি-এর মতো হজমবিরোধী উপাদান ভেঙে পুষ্টি শোষণ বাড়ায় এবং পানির দূষণ কমাতে সহায়তা করে। এনজাইম ব্যবহারের ফলে খাদ্যের অপচয় কমে, মাছের দ্রুত বৃদ্ধি হয় এবং FCR উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়।

পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির বলেন, প্রিবায়োটিক হলো এক ধরনের অপাচ্য আঁশ বা কার্বোহাইড্রেট, যা মাছ সরাসরি হজম করতে না পারলেও অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার খাদ্য হিসেবে কাজ করে। সাইফি নাসিরের মতে, প্রিবায়োটিক গেঁজন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে উপকারী ব্যাকটেরিয়া এনজাইম উৎপাদন করে, যা পরোক্ষভাবে হজম ও পুষ্টি শোষণ সহজ করে। একই সঙ্গে এটি মাছের ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করে, দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা করে এবং প্রতিকূল পরিবেশে মাছকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

তিনি বলেন, পোস্টবায়োটিক হলো উপকারী ব্যাকটেরিয়ার বিপাকীয় উপজাত বা মৃত অংশ, যেমন জৈব অ্যাসিড, এনজাইম ও পেপটাইড। পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির জানান, জীবিত ব্যাকটেরিয়া না থাকায় পোস্টবায়োটিক ফিশ ফিড উৎপাদনের উচ্চ তাপমাত্রায়ও কার্যকর থাকে। এটি ক্ষতিকারক জীবাণুর বৃদ্ধি দমন করে, অন্ত্রের কোষ সুস্থ রাখে এবং খাবারের পুষ্টি শোষণ বাড়ায়। ফলে কম খাবারে বেশি মাছ উৎপাদন সম্ভব হয় এবং পানির অ্যামোনিয়া ও নাইট্রাইটের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গবেষণার তথ্য তুলে ধরে সাইফি নাসির বলেন, মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ও ভালো FCR-এর জন্য এনজাইম বেশি কার্যকর হলেও দীর্ঘস্থায়ী পুষ্টিশোষণ, টেকসই বৃদ্ধি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে প্রিবায়োটিক ও পোস্টবায়োটিকের ভূমিকা অতুলনীয়। প্রিবায়োটিক ব্যবহারে অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।

ফিশ ফিড ইন্ডাস্ট্রিতে যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে পুষ্টিবিদ সাইফি নাসির জোর দিয়ে বলেন, সর্বোত্তম ফল পাওয়া যায় যখন এনজাইম এবং প্রিবায়োটিক/পোস্টবায়োটিক একত্রে ব্যবহার করা হয়। এই সমন্বয় মাছের হজম শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি রোগমুক্ত ও সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। বাণিজ্যিকভাবে লাভবান হতে এবং টেকসই মাছ চাষ নিশ্চিত করতে সুষম খাদ্যে উভয়ের পরিমিত ব্যবহারই সবচেয়ে আদর্শ সমাধান।