আরাফাত রহমান কোকো’র ১১তম মৃত্যুবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা

কৃষিবিদ ডাঃ শাহাদাত হোসেন পারভেজ, নির্বাহী সদস্য, আরাফাত রহমান কোকো ক্রীড়া সংসদঃ ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ছিল মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ পুত্র, বিএনপি চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের ছোট ভাই, বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকো’র ১১তম মৃত্যুবার্ষিকী।

২০১৫ সালের এই দিনে দেশের এক শ্বাসরুদ্ধকর রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে মালয়েশিয়ায় হঠাৎ করে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। সে সময় মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের কার্যালয়ে পুলিশি অবরোধে বন্দী ছিলেন। প্রিয় সন্তানের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন কান্নায়। পুরো জাতি কোকোর অকাল প্রয়াণে গভীর শোকে স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৪৫ বছর। চার দিন পর, ২৮ জানুয়ারি তাঁর মরদেহ দেশে আনা হয়। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়।

শহীদ রাষ্ট্রপতির সন্তান হলেও আরাফাত রহমান কোকো আলোচনায় আসেন মূলত ১/১১-পরবর্তী মইন-ফখরুদ্দীন সরকারের সময়ে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর মা বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে গ্রেফতার হওয়ার পর রিমান্ডে নিয়ে তাঁর ওপর চালানো হয় নির্মম শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সেই নির্যাতনের ফলেই তাঁর হৃদযন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তখনকার ছবি ও ভিডিওতে প্রায়ই দেখা যেত, তিনি বুক চেপে ধরে থাকতেন।

২০০৮ সালের জুলাইয়ে জামিনে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য তিনি পরিবারসহ থাইল্যান্ড এবং পরে মালয়েশিয়ায় যান। বিদেশে গুরুতর অসুস্থতার পাশাপাশি দেশে মায়ের ওপর নির্যাতনের খবরে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। সেই দুশ্চিন্তার মাঝেই অকালে নিভে যায় তাঁর জীবনপ্রদীপ।

১৯৭০ সালের ১২ আগস্ট শহীদ জিয়া ও বেগম খালেদা জিয়ার ঘর আলোকিত করে জন্ম নেন আরাফাত রহমান কোকো। জন্মের কিছুদিন পরই শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। পিতা মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিযুদ্ধের সময় মা বেগম খালেদা জিয়া দুই পুত্রসহ পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে বন্দী ছিলেন এবং ১৬ ডিসেম্বর স্বাধীনতার পর মুক্তি পান।
১৯৮১ সালে পিতা শহীদ হওয়ার পর মায়ের স্নেহ, ত্যাগ ও তত্ত্বাবধানে বড় হয়ে ওঠেন কোকো।

রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম হলেও কোকো রাজনীতিক হিসেবে নয়, একজন মানুষ ও ক্রীড়া সংগঠক হিসেবেই বেশি পরিচিত ছিলেন। তিনি ছিলেন মিতভাষী, সজ্জন ও অত্যন্ত বিনয়ী। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর সন্তান হয়েও তাঁর মধ্যে ছিল না কোনো অহংকার। নব্বইয়ের দশকে তিনি বাকিতে মোটরসাইকেলের তেল কিনতেন, পথশিশুদের জন্য চকলেট ও খেলনা নিয়ে হাজির হতেন, তাদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলতেন। মালয়েশিয়াতেও দুই বেডরুমের ভাড়া বাসায় সাধারণ জীবনযাপন করতেন এবং নিজেই মেয়েদের স্কুলে নিয়ে যেতেন।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের উন্নয়নে তাঁর অবদান ইতিহাসে স্মরণীয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি জেলা, উপজেলা ও গ্রাম পর্যায়ে ক্রিকেট ছড়িয়ে দেন। প্রতিভা অন্বেষণে শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন এই ক্রীড়াপ্রেমী মানুষটি। মোহামেডান ক্লাবের নির্বাহী কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। আজকের জাতীয় দলের যে ভিত্তি, তার পেছনে কোকোর শ্রম ও ভালোবাসা অনস্বীকার্য।

নিরহংকার, প্রচারবিমুখ ও মানবিক মানুষ আরাফাত রহমান কোকো আজও অসংখ্য মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে আমরা গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করি এই সজ্জন ক্রীড়া সংগঠককে।আল্লাহ তায়ালা তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন। আমিন।